বলিউডি নায়িকার কণ্ঠে বাংলায় গান! বাঙালি পরিচালকের প্রস্তাবে বাংলা ছবিতে গেয়ে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন বিখ্যাত নায়িকা
কর্ণাটকি সঙ্গীতে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন অভিনেত্রী। নিজের শখে গান গাইতেন তিনি। একটি ছবির শুটিং চলাকালীন তাঁর গায়কি প্রসঙ্গে অবগত হন এক বাঙালি সঙ্গীতশিল্পী। কয়েক বছর পর এক বাঙালি পরিচালকের অনুরোধে বাংলা ভাষায় গেয়েছিলেন বলি অভিনেত্রী।
ভরতনাট্যমের গুণী শিল্পী, চলচ্চিত্রাভিনেত্রী, নৃত্য নির্দেশিকা, সংসদ সদস্য— সারা বিশ্ব জুড়ে নানা পরিচিতি জুড়েছে অভিনেত্রীর নামের সঙ্গে। কিন্তু তিনি যে গায়িকা পরিচিতি পেয়েছিলেন, তার নেপথ্যে ছিলেন এক বাঙালি সঙ্গীতশিল্পী। আবার অন্য এক বাঙালি পরিচালকের অনুরোধে বলি অভিনেত্রী বৈজয়ন্তীমালা বাংলা ভাষায় বাংলা ছবিতে গানও গেয়েছিলেন।
শৈশব থেকে নাচের প্রতি আগ্রহ ছিল বৈজয়ন্তীমালার। মাত্র চার বছর বয়স থেকে ভরতনাট্যমে দড় হয়ে উঠেছিলেন তিনি। ১৩ বছর বয়স থেকে দক্ষিণী ফিল্মজগতে অভিনয় শুরু করেন তিনি। নাচের পাশাপাশি অভিনয় নিয়ে কেরিয়ার ব্যস্ত হয়ে যায় তাঁর।
দক্ষিণী ভাষার ছবির পাশাপাশি হিন্দি এবং বাংলা ভাষার ছবিতেও অভিনয় করেছেন বৈজয়ন্তীমালা। নাচের দৃশ্যে তাঁর পারফরম্যান্স দেখলে দর্শকের হৃদয়ে যেন হিল্লোল জেগে উঠত।
কর্ণাটকি সঙ্গীতের প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন বৈজয়ন্তীমালা। তাঁর কথায়, সঙ্গীতবোধ থাকার কারণে তা অভিনেত্রীর নৃত্যশৈলীকেও আরও নিখুঁত করে তুলেছিল।
বৈজয়ন্তীমালা বিশ্বাস করতেন যে, একজন নৃত্যশিল্পী যদি গানের কথা এবং সুরের মর্ম বুঝতে পারেন, তবে তাঁর অঙ্গভঙ্গি অনেক বেশি সাবলীল হয়।
আরও পড়ুন:
১৯৫৮ সালে বিমল রায়ের পরিচালনায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘মধুমতি’। এই ছবির চিত্রনাট্যকার ছিলেন ঋত্বিক ঘটক। এই ছবিতে বৈজয়ন্তীমালা এবং দিলীপ কুমার অভিনয় করেছিলেন মুখ্যচরিত্রে।
‘মধুমতি’ ছবিতে সঙ্গীত পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন বাঙালি সঙ্গীতশিল্পী সলিল চৌধুরী। এই ছবির শুটিং চলাকালীন বৈজয়ন্তীমালার গায়কি প্রসঙ্গে অবগত হন সলিল। নায়িকাকে সেই ছবিতে গান গাওয়ার অনুরোধ করেন তিনি।
সঙ্গীত পরিচালকের অনুরোধ ফেলতে পারেননি বৈজয়ন্তীমালা। ‘মধুমতি’ ছবিতে গান গেয়েছিলেন তিনি। লতা মঙ্গেশকরের মতো গায়িকার সঙ্গে সেই গানে কণ্ঠ দিয়েছিলেন অভিনেত্রী।
ন’বছর পর বৈজয়ন্তীমালার গায়কির উপর নজর পড়েছিল আরও এক বাঙালির। ১৯৬৭ সালে তপন সিংহের পরিচালনায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘হাটে বাজারে’। বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের (বনফুল) গল্প অবলম্বনে ছবির চিত্রনাট্য নির্মাণ করা হয়েছিল। এই ছবির সঙ্গীত পরিচালকও ছিলেন তপন।
আরও পড়ুন:
‘হাটে বাজারে’ ছবিতে অভিনয় করেছিলেন বৈজয়ন্তীমালা। সেই ছবিতে বাংলা ভাষায় গান গাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল অভিনেত্রীকে। বাঙালি পরিচালকের কথা মেনে গানও গেয়েছিলেন তিনি।
ষাটের দশকে বলিউডের প্রথম সারির এক অভিনেত্রীর বাংলা ছবিতে বাংলা ভাষায় গান গাওয়াই ছিল চমকপ্রদ ব্যাপার। ‘হাটে বাজারে’ ছবিতে ‘চেয়ে থাকি’ গানটি গেয়েছিলেন বৈজয়ন্তীমালা। অভিনেত্রীর সঙ্গে সেই গানে পুরুষকণ্ঠ দিয়েছিলেন মৃণাল চক্রবর্তী।
গানের সুন্দর গলা থাকলেও পেশাদার গায়িকা হিসাবে কখনওই উপার্জন করতে চাননি বৈজয়ন্তীমালা। তার অন্যতম কারণ ছিল অভিনয়জীবনের ব্যস্ততা। সে সময় তিনি ভারতের শীর্ষস্থানীয় নায়িকা ছিলেন। ফলে, গান রেকর্ডিংয়ের জন্য আলাদা ভাবে সময় বার করা কঠিন ছিল।
অভিনয় থেকে অবসর নেওয়ার পরেও নিজেকে নৃত্যশিল্পী হিসাবে পরিচয় দিতে বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করতেন বৈজয়ন্তীমালা। তিনি যে সময় চলচ্চিত্রে গান গাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন, সেই সময় লতা মঙ্গেশকর এবং আশা ভোসলের মতো গায়িকাদের স্বর্ণযুগ। তাঁদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামতে চাননি অভিনেত্রী। গানকে নিজের একটি অন্যতম দক্ষতা হিসাবেই দেখতে পছন্দ করতেন তিনি।