Donald Trump and his two son filed case against IRS and US Treasury over leaked tax information row dgtl
Donald Trump
এ বার নিজের সরকারের বিরুদ্ধেই মামলা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং দুই পুত্রের! ক্ষতিপূরণ চাইলেন হাজার কোটি ডলার
ট্রাম্প পরিবারের কর সংক্রান্ত নথি সংবাদমাধ্যমে ফাঁস করেন চার্লস লিটলজন নামে আইআরএসের এক প্রাক্তন কর্মী। চার্লস পরিচিত চ্যাজ় নামেও। ২০১৯ সালের মে মাস থেকে ২০২০-র সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইআরএসে কর্মরত ছিলেন তিনি।
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৭:৫৬
Share:Save:
এই খবরটি সেভ করে রাখার জন্য পাশের আইকনটি ক্লিক করুন।
০১১৮
এ বার নিজের সরকারেরই অর্থ মন্ত্রকের (ট্রেজ়ারি) বিরুদ্ধে মামলা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মামলা করলেন আমেরিকার ফেডেরাল সরকারের কর সংগ্রহ এবং কর আইন সংক্রান্ত বিষয়ের দায়িত্বে থাকা ইন্টারনাল রেভিনিউ সার্ভিস বা আইআরএস বিভাগের বিরুদ্ধেও। আইআরএস রয়েছে ট্রেজ়ারি দফতরেরই অধীনে। সেই ট্রেজ়ারি দফতর, যা আমেরিকার অন্যতম মেরুদণ্ড।
০২১৮
ট্রাম্প এবং তাঁর দুই পুত্রের অভিযোগ, তাঁদের জমা দেওয়া কর সম্পর্কে গোপন তথ্য ফাঁস করেছে আইআরএস এবং ট্রেজ়ারি বিভাগ। আর সে কারণে সরকারেরই গুরুত্বপূর্ণ দফতরের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তাঁরা।
০৩১৮
ব্যবসায়িক এবং ব্যক্তিগত কর জমা দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং তাঁর দুই ছেলে। কিন্তু সেই কর সংক্রান্ত গোপন তথ্য ফাঁস করেছে ফেডেরাল সরকারের ট্রেজ়ারি দফতর। সেই তথ্য ফাঁস করেছে আইআরএসও। আর সে কারণেই ট্রেজ়ারি দফতর এবং আইআরএসের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তাঁরা।
০৪১৮
মিয়ামির ফেডেরাল আদালতে দায়ের করা সেই দেওয়ানি অভিযোগে সরকারের অর্থ মন্ত্রকের থেকে ১০০০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে।
০৫১৮
অভিযোগ, ট্রাম্প পরিবারের কর সংক্রান্ত নথি সংবাদমাধ্যমে ফাঁস করেন চার্লস লিটলজন নামে আইআরএসের এক প্রাক্তন কর্মী। চার্লস পরিচিত চ্যাজ় নামেও। ২০১৯ সালের মে মাস থেকে ২০২০-র সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইআরএসে কর্মরত ছিলেন তিনি।
০৬১৮
২০২৩ সালে অভিযোগ ওঠে, আইআরএসের ঠিকাদার হিসাবে কাজ করার সময় ট্রাম্প-সহ আমেরিকার বহু বিত্তশালীর কর সংক্রান্ত নথি চুরি করেছিলেন চার্লস। ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক স্বার্থকে এগিয়ে নিয়ে যেতেই নাকি ওই কাজ করেছিলেন তিনি। করদাতাদের তথ্যকে স্বার্থ চরিতার্থ করার ‘গোপন হাতিয়ার’ হিসাবে ব্যবহার করেছিলেন।
০৭১৮
মামলা চলাকালীন আদালতে অভিযোগ স্বীকার করেন চার্লস। আমেরিকার সংবাদমাধ্যমে কর সংক্রান্ত গোপন তথ্য ফাঁস করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন তিনি। ২০২৪ সালে জেল হয় তাঁর। বর্তমানে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন চার্লস।
০৮১৮
এ বার চার্লস যেখানে কাজ করতেন, সেই আইআরএস এবং ট্রেজ়ারি দফতরের বিরুদ্ধেই মামলা করলেন ট্রাম্প এবং তাঁর পুত্রদ্বয়। তাঁদের অভিযোগ, আইআরএস এবং সর্বোপরি ট্রেজ়ারি দফতর তাঁদের ব্যক্তিগত কর জমা দেওয়ার নথি এবং গোপন আর্থিক তথ্য সুরক্ষিত রাখতে ব্যর্থ হওয়ার কারণেই সেগুলি সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হয়েছে।
০৯১৮
মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসাবে প্রথম মেয়াদে দায়িত্ব পালনের আগে থেকেই ট্রাম্পের আয়কর জমা দেওয়া নিয়ে অনেক জলঘোলা হয়েছিল। অনেক জল্পনা-কল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল বিষয়টি।
১০১৮
২০১৬ সালের নির্বাচনের আগে আয়কর সংক্রান্ত নথি প্রকাশ করতে অস্বীকার করেছিলেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি ছিল, অডিটের অধীনে রয়েছেন তিনি। আর সে কারণেই কর সংক্রান্ত নথি প্রকাশ্যে আনবেন না। শেষমেশ আনেনওনি। ফলে ৫০ বছরের মধ্যে ট্রাম্পই আমেরিকার প্রথম প্রেসিডেন্ট হন, যিনি নির্বাচনের আগে ওই নথি প্রকাশ করেননি।
১১১৮
এর পর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জিতে প্রথম বারের জন্য প্রেসিডেন্ট হন ট্রাম্প। প্রেসিডেন্টের গদিতে বসার আগেই তাঁর মালিকানাধীন এবং তাঁর সঙ্গে যুক্ত বহু সংস্থা থেকে পদত্যাগ করেন।
১২১৮
২০২০ সালের নির্বাচনের আগেও তিনি একই দাবি তুলেছিলেন। কিন্তু ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে, নির্বাচনের ঠিক আগে আগে ট্রাম্পের জমা দেওয়া কর সংক্রান্ত একটি বিস্তৃত প্রতিবেদন প্রকাশ করে আমেরিকার সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’।
১৩১৮
সেই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার বছর মাত্র ৭৫০ ডলার ফেডেরাল আয়কর জমা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তার আগের ১৫ বছরের মধ্যে ১০ বছর কোনও করই জমা দেননি তিনি। ফলে বিষয়টি নিয়ে অনেক জলঘোলা হয়। বহু প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় ব্যবসায়ী ট্রাম্পকে।
১৪১৮
দু’বছর পর ২০২২ সালে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের জমানায় ট্রাম্প নিজেই সেই নথি প্রকাশ করেন। কিন্তু তাঁর সেই নথি ২০২০ সালে ফাঁস হওয়া নিয়েই এ বার মামলা করলেন ট্রাম্প এবং তাঁর দুই পুত্র।
১৫১৮
মামলার নথি অনুযায়ী ট্রাম্পদের দাবি, আইআরএস এবং ট্রেজ়ারি বিভাগ— উভয়েরই দায়িত্ব ছিল যে, এই ধরনের গোপন নথি যাতে জনসমক্ষে না আসে। কিন্তু তারা কোনও ধরনের বাধ্যতামূলক সতর্কতা অবলম্বন করতে ব্যর্থ হয়েছে।
১৬১৮
মামলায় ট্রাম্প, তাঁর দুই পুত্র ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও এরিক ট্রাম্প এবং ট্রাম্প অর্গানাইজ়েশন জানিয়েছে, ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এ ব্যক্তিগত আয়কর নথি ফাঁস হওয়ার কারণে তাঁদের সুনাম নষ্ট হয়েছে। কলঙ্কিত হয়েছে পারিবারিক ব্যবসাও।
১৭১৮
ট্রাম্প পরিবারের দাবি, ওই নথি ফাঁস হওয়ার কারণে আর্থিক ক্ষতিও হয়েছে তাঁদের। একই সঙ্গে তাঁদের ‘মিথ্যার আলো’য় দেখানোয় জনসাধারণের চোখেও ট্রাম্প পরিবারের অবস্থান নীচে নেমেছে।
১৮১৮
আর সে কারণেই আইআরএস এবং ট্রেজ়ারি বিভাগের বিরুদ্ধে ১০০০ কোটি ডলারের মামলা করেছেন ট্রাম্প এবং তাঁর দুই পুত্র। তেমনটাই প্রকাশ্যে এসেছে।