• নিজস্ব প্রতিবেদন
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

বিনোদন

‘চুক্তি’র জোরে বহু ফিল্ম থেকে বাদ, পুরনো বিতর্ক সামনে এনে গডফাদারের বিরুদ্ধেই সরব মহিমা

শেয়ার করুন
২০ 1
তাঁর হাত ধরেই বলিউডে এসেছিলেন মহিমা। ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই তাঁকে মহিমার গডফাদার বলেই মনে করেন। সেই সুভাষ ঘাইকেই এ বার নিজের কেরিয়ার অকালে শেষ হয়ে যাওয়ার জন্য দায়ী করলেন পরদেশ-নায়িকা। এক সাক্ষাৎকারে তাঁর অভিযোগ, সুভাষ বাকি পরিচালক প্রযোজকদের বলেছিলেন, মহিমার সঙ্গে কাজ না করতে।
২০ 2
নিজের দাবিকে জোরালো করতে পরিচালক নাকি মিথ্যাভাষণ করেছিলেন। বলেছিলেন, তাঁর সঙ্গে মহিমার বিশেষ চুক্তি রয়েছে। তার শর্তসাপেক্ষে মহিমার সঙ্গে কাজ করতে হলে আগে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে হবে। নইলে চুক্তির শর্তভঙ্গ হবে।
২০ 3
শুধু মুখে বলেই থেমে থাকেননি সুভাষ ঘাই। মহিমার দাবি, তিনি ১৯৯৮ অথবা ১৯৯৯-এর কোনও এক ‘ট্রেড গাইড’ পত্রিকায় এই মর্মে বিজ্ঞাপনও দিয়েছিলেন। এই প্রসঙ্গে মহিমার দাবি, তাঁর সঙ্গে কোনও দিন এই মর্মে সুভাষ ঘাইয়ের কোনও চুক্তি হয়নি।
২০ 4
অথচ কোনও একসময় এই সুভাষ ঘাইয়ের জন্যই নতুন পরিচয়ের পাশাপাশি নতুন নাম-ও পেয়েছিলেন মহিমা। সুভাষের পছন্দ ছিল নায়িকার ‘ম’ দিয়ে নাম। তাই ‘ঋতু’ হয়ে যান ‘মহিমা’।
২০ 5
১৯৭৩-এর ১৩ সেপ্টেম্বর মহিমার জন্ম দার্জিলিং-এ। ক্লাস টেন পর্যন্ত পড়াশোনা কার্শিয়াং-এর ডাও হিল স্কুলে। তার পর দার্জিলিং-এর লোরেটো কলেজ। বিনোদনের দুনিয়ায় তাঁর হাতেখড়ি বিজ্ঞাপনে অভিনয় দিয়ে। আমির খান এবং ঐশ্বর্যা রাইয়ের সঙ্গে তিনিও কাজ করেছিলেন পেপসি-র বিজ্ঞাপনে।
২০ 6
এর পর মিউজিক চ্যানেলে সঞ্চালিকা হিসেবে কাজ করছিলেন ঋতু। তখনই তিনি নজরে পড়েন পরিচালক সুভাষ ঘাইয়ের। তিনি তাঁকে সুযোগ দেন ‘পরদেশ’ ছবিতে। তারকা শাহরুখ খানের পাশে রোমান্টিক চিত্রনাট্যে সাবলীল অভিনয় তাঁকে এনে দেয় সেরা নবাগত নায়িকার পুরস্কার।
২০ 7
কেরিয়ারের তুঙ্গে থাকতেই লিয়েন্ডার পেজের সঙ্গে জড়িয়ে যায় তাঁর নাম। ২০০৪ সালে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন শোনা যায়। কিন্তু ২০০৬ সাল নাগাদ সে সম্পর্ক ভেঙে যায়। মহিমার অভিযোগ ছিল, তাঁকে লুকিয়ে সঞ্জয় দত্তের প্রাক্তন স্ত্রী রিয়া পিল্লাইয়ের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন লিয়েন্ডার। যা মহিমা মেনে নিতে পারেননি।
২০ 8
পরে মহিমা এক সাক্ষাৎকারে বলেন, লিয়েন্ডার বড় টেনিস খেলোয়াড় হতে পারেন। কিন্তু তিনি কখনওই ভাল প্রেমিক নন। যদিও মহিমার সঙ্গে কোনও সম্পর্ক ছিল বলে স্বীকারই করেন না লিয়েন্ডার। তাঁর দাবি, মহিমা এবং তিনি শুধুই ভাল বন্ধু ছিলেন। তার বেশি কিছু নয়।
২০ 9
এত দিন অবধি মহিমার কেরিয়ারে ভরাডুবির জন্য কাঠগড়ায় ছিল লিয়েন্ডারের সঙ্গে সম্পর্ক। কিন্তু এ বার স্বয়ং অভিনেত্রীর অভিযোগের আঙুল তাঁর অতীতের ‘গডফাদারের’ বিরুদ্ধেই। সুভাষ ঘাইয়ের জন্যই রামগোপাল বর্মা তাঁকে ‘সত্য’ থেকে বাদ দেন, অভিযোগ মহিমার।
১০২০ 10
মহিমার কথায়, সিনেমায় তাঁর লুক কেমন হবে, এ নিয়ে রামগোপালের সঙ্গে তাঁর আলোচনাও হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু শুটিংয়ের দু’দিন আগে মহিমা ফোন পান পরিচালকের সেক্রেটারির। জানতে পারেন, তিনি ওই সিনেমায় অভিনয় করছেন না।
১১২০ 11
এ কথাটা কি রামগোপাল নিজে জানাতে পারতেন না? এত দিন পরেও ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি মহিমার। জীবনের সেই কঠিন সময়ে তাঁর পাশে ছিলেন সলমন খান, রাজকুমার সন্তোষী, সঞ্জয় দত্ত এবং ডেভিড ধবন। ইন্ডাস্ট্রির অন্য কেউ এই ঘটনায় প্রতিবাদ অবধি করেননি। দাবি মহিমার।
১২২০ 12
‘পরদেশ’-এর পরে তিনি অভিনয় করেন ‘দাগ দ্য ফায়ার’, ‘প্যায়ার কোই খেল নেহি’, ‘দিল ক্যায়া করে’, ‘দিওয়ানে’, ‘কুরুক্ষেত্র’, ‘খিলাড়ি ৪২০’, ‘লজ্জা’, ‘ওম জয় জগদীশ’, ‘তেরে নাম’, ‘বাগবান’, ‘এলওসি কার্গিল’-এর মতো ছবিতে। অভিনয় প্রশংসিত হলেও, কোনও বারই ফিরে আসেনি ‘পরদেশ’-এর মতো সাফল্য।
১৩২০ 13
সমসাময়িক নায়িকাদের তুলনায় প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ায় মহিমা ঠিক করেন এ বার থিতু হবেন সংসারে। লিয়েন্ডারের সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর তাঁর জীবনে এসেছিল নতুন প্রেম।
১৪২০ 14
২০০৬ সালে মহিমা বিয়ে করেন আর্কিটেক্ট ইঞ্জিনিয়ার তথা ব্যবসায়ী ববি মুখোপাধ্যায়কে। তাঁদের একমাত্র মেয়ের নাম আরিয়ানা। ২০১৩ সালে ভেঙে যায় তাঁদের বিয়ে। বিচ্ছেদ হয়ে গেলেও মহিমা খাতায় কলমে ডিভোর্স করেননি। জানিয়েছেন, যদি কাউকে ভালবেসে আবার বিয়ে করার কথা ভাবেন, তবেই স্বামীর থেকে ডিভোর্স চাইবেন।
১৫২০ 15
মা হওয়ার পরে মহিমা আর সে ভাবে ছবিতে অভিনয় করেননি বললেই চলে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, সন্তান হওয়ার পরে তিনি তাকেই সময় দিতে চেয়েছিলেন। তাই সুযোগ এলেও ফিরিয়ে দিয়েছেন ছবির অফার। কিন্তু তাঁর অর্থের প্রয়োজন ছিল। তাই ছবিতে অভিনয়ের পরিবর্তে বেছে নিয়েছিলেন টেলিভিশন শো।
১৬২০ 16
মহিমা পরে জানিয়েছিলেন, এই সিদ্ধান্ত তাঁর কেরিয়ারের ক্ষতি করেছে। কিন্তু তা নিয়ে কোনও আক্ষেপ নেই তাঁর। কারণ, ঘরে থেকে মেয়েকে বড় করার পর্ব তিনি উপভোগ করেছিলেন। ওই সময়টাকে জীবনের অন্যতম সেরা পর্ব বলেও ব্যাখ্যা করেছেন মহিমা। তা ছাড়া তাঁর মনে হয়েছে, মধ্যমানের চরিত্রে অভিনয় অভিনয় করার থেকে, কিছু না করে বসে থাকা অনেক বেশি কাম্য।
১৭২০ 17
তাঁর বিরুদ্ধে মহিমার আনা এই অভিযোগ পড়ে তাঁর হাসি পেয়েছে, সংবাদমাধ্যমে দাবি সুভাষ ঘাইয়ের। তিনি জানিয়েছেন, ‘পরদেশ’ মুক্তির পরে মহিমার সঙ্গে সামান্য সমস্যা হয়েছিল ঠিকই। কিন্তু তিন বছরের মধ্যেই তার মীমাংসা হয়ে গিয়েছে।
১৮২০ 18
মহিমা নাকি চুক্তিভঙ্গ করেছিলেন। তাই সুভাষের সংস্থা ‘মুক্তা আর্টস’-এর তরফে তাঁকে শোকজ নোটিস পাঠানো হয়েছিল। তিনি নিজে মহিমার সঙ্গে সব চুক্তি খারিজ করেন। তিন বছর পরে মহিমা সপরিবার তাঁর কাছে এসে ক্ষমা চান। নিজের হঠকারিতার জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন। এমনটাই দাবি সুভাষ ঘাইয়ের। 
১৯২০ 19
সেখানেই তাঁদের সব তিক্ততা শেষ হয়ে গিয়েছিল বলে জানিয়েছেন সুভাষ। তাঁর কথায়, তিনি আর মহিমা এখনও খুব ভাল বন্ধু। নিয়মিত কথা হয় তাঁদের মধ্যে। মহিমাকে তিনি নাকি ক্ষমাও করে দিয়েছেন।
২০২০ 20
তিনি এই বিতর্ক সামনে না আনতে চাইলেও মহিমা সে পথে হাঁটতে রাজি নন। বহিরাগত এবং স্বজনপোষণ বিতর্কে মহিমা ইন্ডাস্ট্রি এবং দর্শকদের আবার মনে করিয়ে দিয়েছেন কুড়ি বছরের বেশি পুরনো বিতর্ক।  

Advertisement

Advertisement

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
বাছাই খবর
আরও পড়ুন