Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৯ মে ২০২২ ই-পেপার

URL Copied

চিত্র সংবাদ

Billionaire: এক দিনেই শেয়ারে আয় ৫ হাজার ৩৫০ কোটি! বড় চাকরি ছেড়ে একা নাইকা গড়ে তোলেন ফাল্গুনী

নিজস্ব প্রতিবেদন
কলকাতা ১১ নভেম্বর ২০২১ ০৯:৪৫
শেয়ার বাজারে প্রথম বার পা রাখতেই কামাল! চ়ড়চড়িয়ে বেড়ে আকাশ ছুঁয়েছে নাইকা-র বাজারদর। বুধবার তা এতটাই বেড়েছে যে প্রসাধনী সামগ্রীর এই স্টার্টআপ সংস্থার প্রায় অর্ধেকের মালকিন ফাল্গুনী নায়ারের সম্পদের পরিমাণ ফুলেফেঁপে উঠেছে।

বুধবার শেয়ার বাজারে ছক্কা হাঁকিয়ে এক দিনে কতটা লাভের গুড় ঘরে তুললেন ফাল্গুনী নায়ার? উত্তরটা হল— ৫ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা! সেই সঙ্গে নিজের চেষ্টায় দেশের ধনীতম মহিলা ধনকুবেরের তকমাও সেঁটে গিয়েছে তাঁর সঙ্গে। নাইকা-র মোট সম্পদের পরিমাণও চোখ কপালে তোলার মতো। প্রায় সাড়ে ছ’হাজার কোটি ডলার! এ সবই জানিয়েছে ব্লুমবার্গ বিলিয়োনেয়ার সূচক।
Advertisement
শেয়ার বাজারের খতিয়ান জানাচ্ছে, বুধবার সাড়ে ১০টার মধ্যে নাইকা-র শেয়ারদর বেড়েছে ৭৮ শতাংশ। হবে না-ই বা কেন? বাজারের ইঁদুর দৌড়ে নিজের সংস্থার শেয়ারদর বেশ কমই রেখেছিলেন ফাল্গুনী। আর তাতেই কামাল!

২০২১ সালের শেষ ভাগে নাইকা-র সাফল্যের কাহিনি লেখাটা সহজ। প্রসাধনী সামগ্রীর সংস্থার হিসাবে দেশে প্রথম সারিতে রয়েছে নাইকা। দেশ জুড়ে ৭০টির বেশি ঝাঁ-চকচকে স্টোর। সেই সঙ্গে অনলাইনেও নজরকাড়া উপস্থিতি।
Advertisement
এই মুহূর্তে সফল বলা হলেও গোড়ার দিকে দেশের বাজারে নাইকা-র দাঁত ফোটানোকে প্রায় অসম্ভব মনে হয়েছিল অনেকের। প্রসাধনী সামগ্রী কিনতে দেশের মধ্যবিত্ত মহিলারা ছুটতেন পাড়ার দোকানে। লিপস্টিক বা স্ক্রাব কেনার আগে তা পরখ করে দেখার প্রশ্নই নেই। অনেকের মতে, এগুলিই বাজার ধরতে সাহায্য করেছে নাইকা-কে।

কনে সাজানোর প্রসাধনী হোক বা সাধারণের ব্যবহারের আইলাইনার— সব কিছুর ব্যবহারই ভিডিয়োর মাধ্যমে দেখানোর বন্দোবস্ত রয়েছে নাইকা-য়। ফলে অনেকেই অনলাইনে প্রসাধনী কেনার দিকে ঝুঁকেছেন।

নাইকা-র হাত ধরে ফাল্গুনী শুরুটা কী ভাবে হল? ২০১২ সালে নিজের ৫০তম জন্মদিনের মাস কয়েক আগে দেশের এক ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কের শীর্ষপদে ইস্তফা দেন ফাল্গুনী। মোটা মাইনের চাকরি ছেড়ে শুরু করেন নাইকা।

প্রায় ১০ বছর আগের চাকরি ছেড়ে ব্যবসা শুরুর সিদ্ধান্ত সহজ ছিল না। তবে সেটাই করেছিলেন ফাল্গুনী। এত বছর পরে তা এখন দেশের অন্যতম প্রসাধনী সামগ্রীর সংস্থা।

সংস্কৃত শব্দ নায়িকা থেকেই সংস্থার নাম রাখা হয়েছে। তবে সংস্থা চলেছে আধুনিক বাজারের মারপ্যাঁচ মেনে। দেশজ নারীর ত্বকের রঙের সঙ্গে রং মিলিয়ে বাজারে ছাড়া হয়েছে অসংখ্য শেডের লিপস্টিক, নেল পালিশ কিংবা কনে সাজানোর প্রসাধনী।

মার্চে শেষ হওয়া চলতি অর্থবর্ষে নাইকা-র বিক্রি বেড়েছে ৩৫ শতাংশ। অর্থাৎ বাজার থেকে ফাল্গুনীর সংস্থা তুলে নিয়েছে ৩৩ কোটি ডলার। নাইকা-র মোট সম্পদ অবশ্য ন’ভাগে বিভক্ত, যার মধ্যে দু’টি পারিবারিক অছি এবং সাতটি বিভিন্ন সংস্থার হেফাজতে রয়েছে।

নিজের চেষ্টায় দেশের ধনীতম মহিলা ধনকুবের হলেও ফাল্গুনীকে টক্কর দিতে পারেন সাবিত্রী জিন্দল। স্বামীর মৃত্যুর পর ও পি জিন্দল গোষ্ঠীর দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেওয়ার পর সাবিত্রী দেশের ধনীতম মহিলা। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ১ হাজার ২৯০ কোটি ডলার। তবে যে গতিতে দৌড়চ্ছেন ফাল্গুনী, তাতে সে তকমা কত দিন অক্ষত থাকে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।