বুধবার এই সংক্রান্ত নির্দেশনামায় স্বাক্ষর করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমেরিকা যে সংস্থাগুলি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে, সেগুলির মধ্যে ৩১টি রাষ্ট্রপুঞ্জ অনুমোদিত। ওই তালিকায় রয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জের জলবায়ু সংক্রান্ত সংস্থাও। এর আগে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) এবং ইউনেস্কো থেকে বেরিয়ে গিয়েছে আমেরিকা। এর মধ্যে ইউনেস্কো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর। এ বার রাষ্ট্রপুঞ্জের জলবায়ু সংক্রান্ত সংস্থা থেকেও বেরিয়ে যাচ্ছে ট্রাম্পের আমেরিকা।
হোয়াইট হাউসের তরফে একটি বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, “আমেরিকার অগ্রাধিকারের তালিকায় থাকা বিষয়গুলির চেয়ে অন্য বিষয়গুলি যেখানে গুরুত্ব পায়, সেখানে আমেরিকার করদাতাদের অর্থব্যয় বন্ধ হওয়া উচিত।” আমেরিকার বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো বলেন, “এ সব সংস্থা এবং জোটের মধ্যে কয়েকটি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী মনোভাব নিয়ে কাজ করছিল।”
তবে আইএসএ থেকে আমেরিকার নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি মোটেও ভাল চোখে দেখছেন না আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞেরা। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা থেকে আমেরিকার এ ভাবে সরে যাওয়ার বিষয়টিও নতুন করে ভাবাচ্ছে অনেককে। কিন্তু কী এই আইএসএ? আইএসএ বা আন্তর্জাতিক সৌরজোট একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা। ভারত এবং ফ্রান্সের যৌথ নেতৃত্বাধীন উদ্যোগ, যা জলবায়ু পরিবর্তন এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি নিয়ে কাজ করে।
আমেরিকার সদস্যপদ প্রত্যাহারের ফলে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু নীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারির উপর প্রভাব পড়বে বলে মত আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের। আমেরিকার সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়বে ভারতের উপরেও। ভারতের জন্য জলবায়ু কূটনীতি এবং বৃহৎ পরিসরে সহযোগিতার একটি প্রধান উদাহরণ আইএসএ। সৌরশক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা হ্রাস করার ভারতের লক্ষ্যগুলিকে সমর্থন করে এই জোট।
পাশাপাশি, বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির অন্যতম আমেরিকা সৌরশক্তি নিয়ে গবেষণায় অনেক এগিয়ে। ফলে আমেরিকা আইএসএ ছেড়ে দেওয়ার ফলে সৌরপ্রযুক্তির ব্যয়হ্রাসের অগ্রগতি ধীর হতে পারে। যদিও আন্তর্জাতিক মহলের অনেকেই আশা করেছেন, ভারত এবং আইএসএ-র অন্যান্য প্রধান সদস্যেরা সৌরজোটকে শক্তিশালী করার কাজ আমেরিকাকে ছাড়াই অব্যাহত রাখবে।
কারণ, গত কয়েক মাস ধরেই ভারতের উপর চাপ তৈরি করতে দেখা গিয়েছে আমেরিকাকে। ট্রাম্প দ্বিতীয় বার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর প্রথম যে দেশগুলি সে দেশের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি করতে আগ্রহ দেখিয়েছিল ভারত তাদের মধ্যে অন্যতম। গত বছর দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে এই বিষয়ে দফায় দফায় আলোচনা হলেও চুক্তি ফলপ্রসূ হয়নি।
সম্প্রতি রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভারতকে আরও কঠোর ‘শাস্তি’ দিতে চলেছেন বলে জানিয়েছেন রিপাবলিকান পার্টির সদস্য লিন্ডসে গ্রাহাম। তিনি জানিয়েছেন, ভারতীয় পণ্যে শুল্কের পরিমাণ বাড়িয়ে ৫০০ শতাংশও করতে পারে আমেরিকা। একই ‘শাস্তি’র মুখে পড়তে পারে চিন এবং ব্রাজ়িলও। শীঘ্রই মার্কিন আইনসভায় এই সংক্রান্ত বিল পেশ হতে চলেছে বলেও জানিয়েছেন লিন্ডসে।
এ ছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে ভারত এবং মোদীকে নিয়ে একাধিক মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। গত মঙ্গলবার আমেরিকায় হাউস রিপাবলিকান মেম্বার রিট্রিট কর্মসূচিতে ভারত এবং মোদীকে নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “‘স্যর, আমি কি আপনার সঙ্গে দেখা করতে পারি?’ বলে প্রধানমন্ত্রী মোদী আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।” মোদীর সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী প্রসঙ্গে ট্রাম্প যে ধরনের মন্তব্য করেছেন, তাতে দেশের সাধারণ জনতার মনে অসন্তোষ দানা বেঁধেছে। তবে দিল্লির বিভিন্ন সূত্রের ভিত্তিতে একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এ ধরনের ক্ষেত্রে কোনও প্রতিক্রিয়া ‘হিতে বিপরীত’ হতে পারে। সেই কারণেই দিল্লি মনে করছে এখনই ‘পাল্টা জবাব’ দিয়ে লাভ নেই। বিশেষ করে আমেরিকার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে। এ অবস্থায় আরও সংযমী এবং রাজনৈতিক বিচক্ষণতা দিয়ে বিষয়টি দেখতে চাইছে কেন্দ্র।
Or
By continuing, you agree to our terms of use
and acknowledge our privacy policy
We will send you a One Time Password on this mobile number or email id
Or
By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy