প্রথম ছবি ব্লকবাস্টার, বলিউড থেকে উধাও হয়ে বিদেশে সোনায় মোড়া কেরিয়ার গড়েছেন ‘তারে জ়মিন পর’-এর শিশু অভিনেতা!
বলিউড থেকে দূরে সরে গিয়ে কী পেশা বেছে নিয়েছেন সচেত? বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বিদেশে গিয়ে নিজের কেরিয়ার গুছিয়ে নিয়েছেন ‘তারে জ়মিন পর’ খ্যাত অভিনেতা। অ
আমির খান নির্দেশিত ‘তারে জ়মিন পর’-এর মূল চরিত্র ঈশান অবস্থির পাশাপাশি আরও এক শিশু চরিত্র নজর কেড়েছিল সকলের। ভাই ঈশানের স্বভাবের ঠিক বিপরীত চরিত্র। মা-বাবার বাধ্য, অনুগত, মেধাবী ছাত্র। অপর দিকে আবার ভাইয়ের প্রতি যত্নশীল। যোহান অবস্থির সেই চরিত্রে কিশোর অভিনেতার মাপা অভিনয় নজর ক়েড়েছিল দর্শকের।
ঈশানের চরিত্রে অভিনয় করা দর্শিল সাফারি ‘তারে জ়মিন পর’ ছবিতে কাজের পর হাতেগোনা কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। তার পর তাঁকে বেশ কয়েকটি ধারাবাহিক, মিউজ়িক ভিডিয়ো এবং শর্ট ফিল্মে দেখা গিয়েছে। কিন্তু যোহানের চরিত্রে অভিনয় করা সচেত ইঞ্জিনিয়ার সেই একটি সিনেমার পর বলিউড থেকে হঠাৎ করেই উধাও হয়ে যান।
তারকাখচিত স্বপ্নের প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ পেয়েও বলিউডের জমি আঁকড়ে পড়ে থাকতে চাননি সচেত। সফল চলচ্চিত্রে অভিনয় করার পরেও মুম্বইয়ের চলচ্চিত্রজগৎ থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। পড়াশোনা থেকে শুরু করে খেলা, সবেতেই অলরাউন্ডার যোহানের চরিত্রটি প্রত্যেক বাবা-মায়ের স্বপ্নে দেখা আদর্শ সন্তানের প্রতীক। সিনেমার চরিত্রের মতো বাস্তবেও সচেতের জীবন একদম নিখুঁত ছকে বাঁধা নিয়মেই আবর্তিত হয়েছে।
কারণ দর্শিল ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ চালিয়ে গেলেও সচেত লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যান। এত বছর ধরে তিনি কী করছিলেন তা জানলে অনেকেই অবাক হবেন। সচেত নীরবে প্রচারের আলো থেকে সরে যান। প্রায় ২০ বছর পর, ঈশানের স্নেহময় দাদার চরিত্রে অভিনয় করা অভিনেতার পেশা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বলিউড থেকে দূরে সরে গিয়ে কী পেশা বেছে নিয়েছেন সচেত? বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বিদেশে গিয়ে নিজের কেরিয়ার গুছিয়ে নিয়েছেন ‘তারে জ়মিন পর’ খ্যাত অভিনেতা। অভিনেতার বাস্তব জীবনেও ফুটে উঠেছে তাঁর অভিনীত চরিত্রের গুণগুলি। মেধাবী সচেত এখন ইংল্যান্ডের বাসিন্দা। অভিনয়ের পেশা থেকে সম্পূর্ণ দূরে সরে একটি পেশা বেছে নিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন:
রুপোলি দুনিয়ায় কাজ চালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে সচেত পড়াশোনা এবং পেশাগত উন্নতির দিকেই বেশি মনোযোগ দিয়েছেন। আর তাই সচেত বর্তমানে ইংল্যান্ডের দন্ত্য চিকিৎসক। তার লিঙ্কডইন প্রোফাইল অনুসারে, সচেত লন্ডনের নামকরা দন্ত্যচিকিৎসার ইউসিএল ইস্টম্যান ডেন্টাল ইনস্টিটিউট থেকে পেরিয়োডন্টোলজিতে এম.ক্লিন.ডেন্ট সম্পন্ন করেছেন।
সচেত ইউরোপিয়ান ফেডারেশন অফ পেরিয়োডন্টোলজি (ইএফপি)-এর একজন সদস্য এবং ওভারসিজ় রেজিস্ট্রেশন এগ্জ়ামিনেশন (ওআরই)-এর পরীক্ষায় সফল ভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। এই ডিগ্রি লাভ করার পর সাগরপারের দেশে দন্ত্যচিকিৎসা করার যোগ্যতা লাভ করেছেন সচেত।
বিদেশে যাওয়ার আগে সচেত ডিওয়াই পটেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পেরিয়োডন্টোলজিতে স্নাতক এবং স্বর্ণপদক লাভ করেন।
দন্ত্যচিকিৎসাই তাঁর একমাত্র আগ্রহের বিষয় নয়। সচেতের বিমানচালনার প্রতিও গভীর আকর্ষণ রয়েছে। ২০২৪ সালে তিনি একটি বিমানের ককপিটের ভেতর থেকে একটি ছবি শেয়ার করেছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নিয়ে সচেত লেখেন, “উপর থেকে নিয়ন্ত্রণ করার অনুভূতি নীচের সবচেয়ে কঠিন প্রতিবন্ধকতাকেও তুচ্ছ করে দেয়। এটা সত্যি যে দিগন্ত অন্তহীন এবং সম্ভাবনাও অন্তহীন। এটা আমার প্রথম উড়ান কিন্তু অবশ্যই শেষ নয়।’’
আরও পড়ুন:
২০২২ সালে একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সচেত জানান যে, ‘তারে জ়মিন পর’-এর জন্য তাঁর অডিশনটি অপ্রত্যাশিত ভাবেই হয়েছিল।
যদিও সচেতের পরিবারের শিকড় ছড়িয়ে আছে বলিউডেই। সচেত নিজেই জানিয়েছিলেন তাঁর দাদু সুরজ কুমার ছিলেন প্রযোজক। ঠাকুরমা কৃষ্ণা কুমারী শেঠ ছিলেন অভিনেত্রী। ফলে ছোট থেকেই বাড়িতে সিনেমা নিয়ে চর্চার অভাব ছিল না।
সচেত সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, সব সময় চলচ্চিত্র জগতের মধ্যেই বড় হয়েছেন তিনি। যদিও এই পেশায় আসার কোনও পরিকল্পনা ছোট থেকে তিনি বা তাঁর পরিবার কেউই করেননি। ‘‘‘তারে জ়মিন পর’-এর নির্মাতারা প্রথমে আমার ছোট ভাইয়ের অডিশন নিচ্ছিলেন। আমি ঘটনাক্রমে সেখানেই ছিলাম এবং তাঁরা আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমিও অডিশন দিচ্ছ না কেন?’ আমি অডিশন দিলাম, এবং এক মাস পরে আমার কাছে ফোন আসে। তখন আমার বয়স ছিল ১১ বছর’’, স্মৃতিচারণা করে বলেছিলেন সচেত।
অভিনয়ের পর জনপ্রিয়তা এলেও তিনি অভিনয়কে পেশা হিসাবে না নিয়ে শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। ‘তারে জ়মিন পর’-এ অভিনয়ের পর রাস্তায় তাঁকে দেখে লোকজন চিনতে পারলেও এখন আর তাঁকে সেই ছোট্ট যোহান বলে কেউ চিনতে পারেন না।
ছবির সাফল্যের পরে তিনি কয়েকটি বিজ্ঞাপনে কাজ করেছিলেন। কয়েকটি সিনেমার প্রস্তাবও পেয়েছিলেন সচেত। কিন্তু সেগুলি গ্রহণ না করার কারণ হল প্রথাগত শিক্ষা শেষ করতে চেয়েছিলেন তিনি। অন্য কোনও দিকে মনোযোগ দেওয়ার আগে তিনি তাঁর পড়াশোনা শেষ করতে চেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন সচেত।
মজার ব্যাপার হল, সচেত অভিনয়ে ফেরার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করে দেননি। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি পড়াশোনা শেষ করে এই পেশায় ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তবে, তার প্রত্যাবর্তনের কোনও ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। বলিউডের অনেকেরই ধারণা রুপোলি পর্দার টান ছেড়ে আপাতত দন্ত্য চিকিৎসা ও বিমানচালনার দিকেই মনোযোগ দিতে চান ‘তারে জ়মিন পর’-এর যোহান অবস্তি।