Advertisement
E-Paper

ইরান থেকে ইরাক, লিবিয়া থেকে ভেনেজ়ুয়েলা! তেলের লোভে দেশ ‘ধ্বংসের’ খেলায় বরাবরই ‘ফার্স্ট বয়’ আমেরিকা

ভেনেজ়ুয়েলায় হামলার পরই ফাঁস হয়েছে আমেরিকার গোপন অভিসন্ধি। কারাকাসের খনিজ তেল কী ভাবে কব্জা করা যায়, সেই ছকই এখন কষছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অতীতে ‘তরল সোনা’ হাতিয়ে নিতে কোনও দেশে সেনা অভ্যুত্থান ঘটিয়েছে ওয়াশিংটন, তো কোথাও আবার লম্বা সময় ধরে চলেছে গৃহযুদ্ধ।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ ০৭:৫৮
US led regime change operations for crude oil in Iran, Iraq and Libya for crude oil recalls amid Donald Trump’s Venezuela invasion
০১ / ১৮

মাদক-সন্ত্রাসের কথা বলে ভেনেজ়ুয়েলায় হামলা করেছে আমেরিকা। রাজধানী কারাকাসে ঢুকে সস্ত্রীক সেখানকার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে এনেছে মার্কিন ডেল্টা ফোর্স। ওই অভিযান শেষ হতে না হতেই এ বার ফাঁস হল যুক্তরাষ্ট্রের গোপন অভিসন্ধি। ভেনেজ়ুয়েলার বিপুল খনিজ তেল ‘লুটের’ পরিকল্পনা যে তাদের রয়েছে, তা একরকম স্পষ্ট করেছে ওয়াশিংটন। অতীতেও বারে বারে ‘তরল সোনা’র জন্য বিশ্বের একাধিক দেশে অশান্তি পাকানোর অভিযোগে বিদ্ধ হয়েছে প্রশান্ত ও আটলান্টিকের পারের এই ‘সুপার পাওয়ার’।

US led regime change operations for crude oil in Iran, Iraq and Libya for crude oil recalls amid Donald Trump’s Venezuela invasion
০২ / ১৮

ইতিহাসবিদদের দাবি, গত শতাব্দীর ৫০-এর দশকে ইরান থেকে ‘তেলের লড়াই’ শুরু করে মার্কিন গুপ্তচরবাহিনী সিআইএ (সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি)। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর (১৯৩৯-’৪৫) পৃথিবীতে ‘তরল সোনা’ যে জ্যাকপট হতে চলেছে, তত দিনে তা বুঝে গিয়েছে ওয়াশিংটন। ফলে পশ্চিম এশিয়ার আরব মুলুকের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করার প্রয়োজন হয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্রের। ওই পরিস্থিতিতে সাবেক পারস্য দেশে যাবতীয় ঘুঁটি সাজাতে ওয়াশিংটনের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় ব্রিটিশ গুপ্তচরসংস্থা এমআই সিক্স।

US led regime change operations for crude oil in Iran, Iraq and Libya for crude oil recalls amid Donald Trump’s Venezuela invasion
০৩ / ১৮

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর ইরানের খনিজ তেলের উত্তোলন এবং তা বিক্রির কাজ করত বেশ কয়েকটি ব্রিটিশ কোম্পানি। সাবেক পারস্য মুলুকের রাজপাট তখন সামলাচ্ছেন মহম্মদ শাহ রেজা পেহলভি। ১৯৫১ সালে গণতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচিত হয়ে তাঁর প্রধানমন্ত্রী হন মহম্মদ মোসাদ্দেক। কুর্সিতে বসার পরই তাঁর সঙ্গে ব্রিটিশ তেল কোম্পানিগুলির বাধে বিরোধ। ফলে সাবেক পারস্য দেশটির ‘তরল সোনা’ রফতানির উপর একরকম নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেয় লন্ডনের ইংরেজ সরকার। এই নিয়ে তেহরান পাল্টা পারদ চড়ালে প্রমাদ গোনে তারা।

US led regime change operations for crude oil in Iran, Iraq and Libya for crude oil recalls amid Donald Trump’s Venezuela invasion
০৪ / ১৮

জাতীয়তাবাদী মনোভাবাপন্ন মোসাদ্দেক ইরানি তেলকে পুরোপুরি রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনতে চাইছিলেন। রেজা পেহলভির কিন্তু ব্যাপারটা একেবারেই পছন্দ হয়নি। তেহরানের রাজপরিবারের হাতেই থাকুক ‘তরল সোনা’র নিয়ন্ত্রণ, এই ছিল তাঁর আকাঙ্ক্ষা। ফলে দু’তরফে বাড়তে থাকে দ্বন্দ্ব। ওই সময় কমিউনিস্ট ভাবধারার সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে ‘ঠান্ডা লড়াই’য়ে কোমর বেঁধে নেমে পড়ে আমেরিকা-সহ পশ্চিমি দুনিয়া। এই মতাদর্শগত লড়াইকে কাজে লাগিয়ে মোসাদ্দেককে শায়েস্তা করার সুযোগ পেয়ে যায় ব্রিটেন।

US led regime change operations for crude oil in Iran, Iraq and Libya for crude oil recalls amid Donald Trump’s Venezuela invasion
০৫ / ১৮

১৯৫১ সালের মার্চে শাহ পহেলভির প্রবল বিরোধিতা সত্ত্বেও পার্লামেন্টে আইন পাশ করে ইরানি তেলের জাতীয়করণ করেন মোসাদ্দেক। ফলে সাবেক পারস্য দেশে ‘তরল সোনা’ উত্তোলন এবং তা বিক্রির অধিকার হারায় ব্রিটেনের সাবেক ‘অ্যাংলো পার্সিয়ান অয়েল কোম্পানি’ (বর্তমান নাম ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম বা বিপি)। ১৯১৩ সাল থেকে ওই উপসাগরীয় শিয়া মুলুকটিতে একচেটিয়া ভাবে খনিজ তেল উৎপাদনের কাজ করছিল তারা। এই ঘটনায় রাতারাতি আকাশ ছুঁয়ে ফেলে মোসাদ্দেকের জনপ্রিয়তা।

US led regime change operations for crude oil in Iran, Iraq and Libya for crude oil recalls amid Donald Trump’s Venezuela invasion
০৬ / ১৮

এর কিছু দিনের মধ্যেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে প্রতিবেশী ইরাকের রাজধানী বাগদাদে সপরিবার আশ্রয় নেন রেজা পহেলভি। রাজতন্ত্রকে ঝেড়ে ফেলে সাবেক পারস্য দেশটি তখন গুটি গুটি পায়ে সংসদীয় গণতন্ত্রের দিকে এগোচ্ছে বলে মনে করা হয়েছিল। শুধু তা-ই নয় শাহের অত্যন্ত অনুগত জেনারেল ফজলোল্লাহ জাহেদিকে গ্রেফতার করা হতে পারে বলেও তেহরান জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে জল্পনা। ঠিক তখনই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্রিটেন। পরিস্থিতি যে দিকে যাচ্ছে তাতে ইরানের পুরোপুরি সোভিয়েত ইউনিয়নের দিকে ঝুঁকে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে ওয়াশিংটনকে বোঝাতে সক্ষম হয় তারা।

US led regime change operations for crude oil in Iran, Iraq and Libya for crude oil recalls amid Donald Trump’s Venezuela invasion
০৭ / ১৮

ইংরেজ গুপ্তচরবাহিনীর দেওয়া এই একটা খবরেই প্রমাদ গোনে আমেরিকা। সঙ্গে সঙ্গে দাবার চালে সব ঘুঁটি উল্টে দিতে আসরে নামে সিআইএ। দ্রুত শাহপন্থী জাহেদির সঙ্গে যোগাযোগ করে তারা। ১৯৫৩ সালে তাঁর নেতৃত্বে সেনা অভ্যুত্থানের ঘটনা ঘটে ইরানে। প্রধানমন্ত্রীর কুর্সি হারান মোসাদ্দেক। রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে তিন বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হয় তাঁকে। ১৯৬৭ সালে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত গৃহবন্দি ছিলেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, গণবিক্ষোভের ভয়ে জাতীয়তাবাদী মোসাদ্দেককে নিজের বাড়িতেই সমাধিস্থ করে তেহরান।

US led regime change operations for crude oil in Iran, Iraq and Libya for crude oil recalls amid Donald Trump’s Venezuela invasion
০৮ / ১৮

সিআইএ ও এমআই সিক্স পরিচালিত ইরানে ক্ষমতাবদলের এই গুপ্ত অভিযানের পোশাকি নাম ছিল ‘অপারেশন আজ়াক্স’। এর শেষে বাগদাদ থেকে দেশে ফেরেন শাহ পহেলভি। অনুগত জাহেদিকে প্রধানমন্ত্রী করেন তিনি। ১৯৫৪ সালে ব্রিটেনের সঙ্গে নতুন করে তেল চুক্তি সম্পন্ন হয় তাঁর। এতে পশ্চিমি দুনিয়ার সংস্থাগুলি অবাধে সাবেক পারস্য দেশ থেকে ‘তরল সোনা’ উত্তোলন এবং তা বাজারজাত করার অধিকার পেয়েছিল। পরবর্তী আড়াই দশকে তাতে কোনও রকম হস্তক্ষেপ করেনি তেহরান।

US led regime change operations for crude oil in Iran, Iraq and Libya for crude oil recalls amid Donald Trump’s Venezuela invasion
০৯ / ১৮

১৯৭৯ সালে ‘ইসলামীয় বিপ্লব’-এর পর পাকাপাকি ভাবে ক্ষমতা হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেন শাহ রেজা পহেলভি। তেহরানের ক্ষমতায় আসেন কট্টরপন্থী শিয়া ধর্মগুরু রুহুলাহ খোমেনি। কুর্সিতে বসেই খনিজ তেলকে পুরোপুরি রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনে তাঁর সরকার। বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে আমেরিকা-সহ পশ্চিমি দুনিয়ার সঙ্গে শুরু হয় তেহরানের চরম শত্রুতা। গত ৪৭ বছরে বহু বার সাবেক পারস্য দেশের সরকার বদলের চেষ্টা করেছে ওয়াশিংটনের গুপ্তচরবাহিনী। যদিও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়নি সিআইএ।

US led regime change operations for crude oil in Iran, Iraq and Libya for crude oil recalls amid Donald Trump’s Venezuela invasion
১০ / ১৮

‘তরল সোনা’ নিয়ে অবাধ্য তেহরানের মনোভাব বদলাতে না পারলেও আর্থিক দিক থেকে তাদের যথেষ্ট ক্ষতি যে আমেরিকা করেছে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। গত শতাব্দীর ৮০-র দশক থেকে ধাপে ধাপে ইরানের উপর নানা ভাবে নিষেধাজ্ঞা চাপাতে থাকে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে খনিজ তেল সে ভাবে বিক্রি করতে পারছে না সাবেক পারস্য মুলুক। এর জেরে একরকম ধ্বংস হয়ে গিয়েছে তাদের অর্থনীতি। টাকার দাম তলানিতে চলে যাওয়ায় শিয়া দেশটিতে দিন দিন ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে আমজনতার ক্ষোভ। এই ক্ষোভ কত দিন ইরানি প্রশাসন ঠেকিয়ে রাখতে পারবে, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

US led regime change operations for crude oil in Iran, Iraq and Libya for crude oil recalls amid Donald Trump’s Venezuela invasion
১১ / ১৮

খনিজ তেলকে কেন্দ্র করে মার্কিন ‘আগ্রাসনের’ দ্বিতীয় সবচেয়ে বড় উদাহরণ হল ইরাক। ২০০০ সালে ‘তরল সোনা’কে নিয়ে বড় ঘোষণা করেন সেখানকার প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হুসেন। বলেন, আগামী দিনে আর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ ডলারে অপরিশোধিত তেল বিক্রি করবে না বাগদাদ। সেই জায়গায় যাবতীয় লেনদেন হবে ইউরোয়। তাঁর ওই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই হুঁশিয়ারি দেয় ওয়াশিংটন। এর কিছু দিনের মধ্যেই ইরাকের কুর্সি থেকে সাদ্দামকে সরানোর নীলনকশা ছকে ফেলে আমেরিকার গুপ্তচরবাহিনী সিআইএ।

US led regime change operations for crude oil in Iran, Iraq and Libya for crude oil recalls amid Donald Trump’s Venezuela invasion
১২ / ১৮

ডলারের বদলে ইউরোয় তেল বিক্রির সিদ্ধান্তের মাত্র তিন বছরের মাথায় (পড়ুন ২০০৩ সাল) বাগদাদ আক্রমণ করে যুক্তরাষ্ট্রের ফৌজ। সেই অভিযানের নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন ইরাকি ফ্রিডম’। ওয়াশিংটনের যুক্তি ছিল, পশ্চিমি শত্রুদের খতম করতে গণবিধ্বংসী হাতিয়ার তৈরি করছেন সাদ্দাম। যুদ্ধ শুরুর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পতন হয় বাগদাদের। আমেরিকার কমান্ডোদের হাতে গ্রেফতার হন সাবেক প্রেসিডেন্ট। ২০০৬ সালে আদালতের রায় মেনে ফাঁসিতে ঝোলানো হয় সাদ্দামকে।

US led regime change operations for crude oil in Iran, Iraq and Libya for crude oil recalls amid Donald Trump’s Venezuela invasion
১৩ / ১৮

ইরাকি অভিযানের শেষে অবশ্য সেখানে কোনও গণবিধ্বংসী হাতিয়ার খুঁজে পায়নি যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী। তবে সাদ্দাম কুর্সি থেকে সরতেই সেখানে চুপিসারে ঢুকতে শুরু করে আমেরিকার বিভিন্ন জ্বালানি কোম্পানি। বর্তমানে বাগদাদের তৈলক্ষেত্রগুলিতে বিরাট লগ্নি আছে তাদের। ২০২৪ সালে ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি বিশেষ চুক্তি করে ইরাকের সরকার। এর জেরে দিনে প্রায় ২.৬ লক্ষ ব্যারেল ‘তরল সোনা’ পশ্চিম এশিয়ার ওই আরব মুলুকটির থেকে তুলে নিতে পারছে একাধিক মার্কিন সংস্থা। আন্তর্জাতিক বাজারে সেই তেল বিক্রি করার অধিকারও আছে তাদের।

US led regime change operations for crude oil in Iran, Iraq and Libya for crude oil recalls amid Donald Trump’s Venezuela invasion
১৪ / ১৮

এই তালিকায় সব শেষে যুক্ত হবে উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার নাম। একসময় গোটা মহাদেশের জন্য একটি একক মুদ্রা চালু করার স্বপ্ন দেখেন সেখানকার সেনাশাসক কর্নেল মুয়ম্মর গদ্দাফি। সংশ্লিষ্ট মুদ্রার নাম ‘আফ্রিকান গোল্ড দিনার’ রাখতে চেয়েছিলেন তিনি। সাদ্দামের মতোই ডলারে খনিজ তেল বিক্রি করার প্রবল বিরোধী ছিলেন গদ্দাফি। বিষয়টি বোঝার পরই বেজায় চটে যায় আমেরিকা। তাঁকেও কুর্সি থেকে সরানোর ছক কষতে থাকে যুক্তরাষ্ট্র। তবে সেটা বাগদাদের কায়দায় নয়। বরং আরও ভয়ঙ্কর হয়েছিল গদ্দাফির পরিণতি।

US led regime change operations for crude oil in Iran, Iraq and Libya for crude oil recalls amid Donald Trump’s Venezuela invasion
১৫ / ১৮

মার্কিন গুপ্তচরদের উস্কানিতে ২০১১ সালে গৃহযুদ্ধের মুখে পড়ে লিবিয়া। তাতেই বিদ্রোহীদের হাতে পড়ে মৃত্যু হয় গদ্দাফির। রাস্তার ধারের নর্দমা থেকে টেনেহিঁচড়ে বার করে এনে সশস্ত্র গোষ্ঠীর যোদ্ধার গুলিতে ঝাঁজরা করে দেওয়া হয় তাঁর বুক। গদ্দাফির মৃত্যুর পর আর কখনওই স্থিতিশীল হতে পারেনি উত্তর আফ্রিকার ওই দেশ। উল্টে সেখানকার এক একটি জায়গা দখল করে নিয়েছে এক একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। লড়াই চালিয়ে যেতে যথেচ্ছ ভাবে খনিজ তেল তুলে ‘কালোবাজারে’ বিক্রি করছে তারা। ঘুরপথে সেই টাকা যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রেই কোষাগারে, বলছেন বিশ্লেষকেরা।

US led regime change operations for crude oil in Iran, Iraq and Libya for crude oil recalls amid Donald Trump’s Venezuela invasion
১৬ / ১৮

২০০১ সালের ৯/১১ জঙ্গিহামলার পর আমেরিকার তেলের লড়াইয়ের বিষয়টি আরও বেআব্রু হয়ে যায়। ওই সন্ত্রাসী আক্রমণের মাস্টারমাইন্ড তথা আল-কায়দা নেতা ওসামা বিন-লাদেন ছিলেন সৌদি আরবের নাগরিক। রিয়াধের হাতে বিপুল খনিজ তেলের ভান্ডার থাকায় এ ব্যাপারে কখনওই তাদের দোষারোপ করেনি ওয়াশিংটন। উল্টে লাদেনকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে আফগানিস্তানকে নিশানা করে তারা। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

US led regime change operations for crude oil in Iran, Iraq and Libya for crude oil recalls amid Donald Trump’s Venezuela invasion
১৭ / ১৮

বর্তমানে খনিজ তেল সমৃদ্ধ দেশগুলির প্রায় প্রতিটিতে সামরিক ঘাঁটি রয়েছে আমেরিকার। সেখানকার ঘরোয়া রাজনীতিতে যথেষ্টই ‘নাক গলায়’ ওয়াশিংটন। পাশাপাশি, খনিজ তেল সমৃদ্ধ রাশিয়াকে নিষেধাজ্ঞার ঘেরাটোপে আটকে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে মার্কিন সরকার। ‘তরল সোনা’র বাণিজ্য ডলার ছাড়া অন্য কোনও মুদ্রায় হোক, কখনওই চায় না যুক্তরাষ্ট্র। এর জন্য গত কয়েক বছরে নানা রকমের ফিকির করতে দেখা গিয়েছে তাদের।

US led regime change operations for crude oil in Iran, Iraq and Libya for crude oil recalls amid Donald Trump’s Venezuela invasion
১৮ / ১৮

ভেনেজ়ুয়েলার ভাগ্যও যে সেই রাস্তায় যেতে চলেছে, তা ইতিমধ্যেই বুঝিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ তিনি লিখেছেন, কারাকাসের অন্তর্বর্তিকালীন প্রশাসন আমেরিকাকে ৩ থেকে ৫ কোটি ব্যারেল ‘উচ্চমানের’ তেল দেবে, যা বিক্রি হবে বাজারমূল্যে। তেল বিক্রি করে যে টাকা আসবে তার নিয়ন্ত্রণ থাকবে তাঁর হাতে।

সব ছবি: সংগৃহীত।

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও গ্যালারি

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy