×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

০৮ মার্চ ২০২১ ই-পেপার

নারকেল পিষে রোজ ২৫ কেজি তেল বানাতে হত

১৩ অগস্ট ২০১৭ ০৭:১০
আন্দামানের সেলুলার জেল

আন্দামানের সেলুলার জেল

আন্দামান ও নিকোবর যেন ছবির মতো এক পোস্টকার্ড। এক দিকে সমুদ্র, নারকেল গাছ, জঙ্গল। যেন কালিদাস উদ্ধৃত বঙ্কিমের লেখায় ‘তমালতালীবনরাজিনীলা’। অন্য দিকে সেখানেই সেলুলার জেল, বন্দি স্বাধীনতা সংগ্রামীর দল।

ডেনমার্কের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭৫৫-’৫৬ সালে নিকোবরের দ্বীপে ঘাঁটি বাঁধে। দ্বীপগুলিতে তখন শুধু ম্যালেরিয়া, পেটখারাপ এবং নারকেল গাছ। আর ছিল একটি বিশেষ প্রকারের ম্যালেরিয়া ভাইরাস। ব্রিটিশরা আন্দামানে নৌসেনা-ঘাঁটি তৈরি করে তারও পরে, ১৭৮৯ সালে। ইতিহাসের পরদা ফের উঠল ১৮৬৪ সালে। ডেনমার্ক ব্রিটিশদের কাছে নিকোবরের দ্বীপগুলি বিক্রি করে দিল। পাঁচ বছর পরই ব্রিটিশ ভারতের অধীনে সমগ্র আন্দামান ও নিকোবর।

আন্দামান-নিকোবর সতেরোশো ও আঠারোশো শতাব্দীতে দূরপাল্লার জাহাজদের টাটকা পানীয় জল এবং ফলমূল সরবরাহ করত। নাবিকদের কাছে ডাব ও নারকেল ছিল বিশেষ লোভনীয় বস্তু। কেপ অব গুড হোপ, মরিশাস ইত্যাদি জায়গাগুলোও প্রায় একই কারণে বিশ্বের নৌ-ইতিহাসে অপরিহার্য। কারণটা সহজ। সুদূরপ্রসারী ঔপনিবেশিক বাণিজ্যে প্রচুর নাবিক মারা যেত। একটা বিশেষ রোগে: স্কার্ভি। যদিও আগে থেকে এই সব তাজা রসদ ব্যবহৃত হত, ১৭৬৩-তে জেমস লিন্ড বিস্তর গবেষণার পর প্রকাশ করেন স্কার্ভির প্রতিকার: টাটকা জল, ফলমূল, বিশেষত ভিটামিন সি তার উপশম।

Advertisement

ক্যাপ্টেন বুশ্‌ তাঁর রিপোর্টে জানান, বিদেশি বণিকেরা আন্দামান ও নিকোবরের উপকূলে আবদ্ধ। দ্বীপের ভিতরে বহিরাগতদের প্রবেশ নিষেধ। আন্দামান ও নিকোবর তখন সারা বছর গড়ে পঁচিশটা জাহাজে এক লক্ষের বেশি নারকেল রফতানি করত। পরিবর্তে নিত ব্লান্ডারবাস, মাস্কেট, ফ্লিন্টলক, ম্যাচলক প্রভৃতি বন্দুক। তা ছাড়াও তলোয়ার, দা, বিভিন্ন কাপড়, বিশেষ বর্মি সামগ্রী ও চিনে তামাক। রুপোর চামচ ছিল তাদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়।

১৮৫৭-র সিপাহি বিদ্রোহের পর কামানের মুখে বিদ্রোহীদের বেঁধে উড়িয়ে দেওয়া হত। কিন্তু কামানের গোলা ও বারুদের বিস্তর দাম। ক’জনকেই বা ওড়ানো যাবে? টেলিগ্রাফ পোস্টে ফাঁসি দিয়ে টাঙিয়ে রাখতে রাখতে ব্রিটিশরাও ক্লান্ত। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ক্রমশ বুঝতে পারছিল, সর্বসমক্ষে মৃত্যুর সার্কাস রচনায় হিতে বিপরীত হতে পারে। তার থেকে জনসাধারণের চোখের আড়ালে নিভৃতে হত্যাই কাম্য। তত দিনে ফোটোগ্রাফির প্রচলন ঘটেছে। টেলিগ্রাফের সূচনা হয়েছে। সৃষ্টি হয়েছে এক নতুন এবং দ্রুত সংবাদ সংক্রমণের বিশ্ব। অতএব বাকি বিদ্রোহীদের আন্দামানে পাচার।

১৮৫৭-র সিপাহি বিদ্রোহের সময় ওয়াহাবি মুসলিমরা দিল্লিতে সিপাহিদের পাশে ছিল। সিতানা থেকে পটনা অবধি তাদের বিস্তার। ১৮৬৩ থেকে ১৮৬৫ পর্যন্ত ব্রিটিশরা সিতানা ও অন্যান্য ঘাঁটিতে আক্রমণ চালিয়ে ওয়াহাবিদের দমন করার চেষ্টা করে। যারা প্রাণে বেঁচে গেল, তাদের পাঠানো হল আন্দামানে। তবু ওয়াহাবি আক্রমণ থেকে মুক্তি পায়নি ব্রিটিশ রাজ। ১৮৭২-এ বড়লাট লর্ড মেয়ো আন্দামান পরিদর্শনে আসেন। সেখানে আফ্রিদি উপজাতির ওয়াহাবি শের আলি তাঁকে হত্যা করে। পরে জানা গিয়েছিল, পটনার ওয়াহাবিদের সঙ্গে শের আলির যোগাযোগ, চিঠিপত্র লেনদেন ছিল।

আন্দামানের সেলুলার জেল ১৮৯৬ থেকে ১৯০৬-এর মধ্যে তৈরি হয়। সেলুলার জেল অনেকটা দেহের সেল-এর মতো, একে অপরকে নজরে রাখে। জেরেমি বেনথাম-এর প্রস্তাবিত ‘প্যানঅপ্টিকন’-এর আদলে একটা আদর্শ কারাগার তৈরির চেষ্টা। কিন্তু বেনথাম-এর মডেলে প্রথম জেলখানা আন্দামানে নয়, তৈরি হয়েছিল বেলজিয়ামে।

সেলুলার জেল বরং একটা বিষাক্ত মাকড়সার মতো। শুধু তার সাতটি পা, মাঝখানে একটা লম্বা টাওয়ার। পুলিশের চোখ সর্বত্র। প্রত্যেক কুঠরি থেকে অপর কুঠরির ভিতর দেখা যায়। অরবিন্দ ঘোষের ছোট ভাই বারীন্দ্র ঘোষ, উপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, উল্লাসকর দত্ত এবং অন্যান্য সঙ্গীরা যখন মানিকতলা বাগানবাড়ি ও আলিপুর বোমা ষড়যন্ত্র মামলায় আন্দামানে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলেন, সেলুলার জেল যেন ওত পেতে ছিল। এতগুলো শিক্ষিত রাজনৈতিক বন্দিদের শিরদাঁড়া ভাঙার এ এক বিশাল গবেষণাগার। তা ছাড়া দ্বীপান্তরে থাকলে বাকি দেশও ভুলে যাবে তাঁদের কথা। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের কাছে ইতিহাস মুছে দেওয়ার সুবর্ণসুযোগ।



দ্বীপান্তরে: উল্লাসকর দত্ত, উপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ও বারীন্দ্র ঘোষ।

যখন কলকাতার আদালতে মামলা চলছিল, একটা গান বাঁধা হয়েছিল ‘একবার বিদায় দে মা, ঘুরে আসি/ হাসি হাসি পরব ফাঁসি, দেখবে ভারতবাসী।’ ক্ষুদিরাম বসু ছাড়া এই স্বপ্নপূরণ কারওরই হল না। বারীন্দ্রনাথ ঘোষ, উপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, উল্লাসকর দত্ত এবং তাঁদের সহযোদ্ধারা আন্দামানে যাবজ্জীবন কারাবাসে দণ্ডিত হলেন। তিন জনই ১৯২০ সালে মুক্তি পাওয়ার পর তাঁদের আন্দামান-অভিজ্ঞতা লিপিবদ্ধ করেন।

উপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ‘নির্বাসিতের আত্মকথা’-র প্রথমেই লেখেন যে তাঁরা অ্যানার্কিস্ট অথবা নিহিলিস্ট নন। তাঁরা স্বাধীনতা সংগ্রামী ও বিপ্লবী। খুব সহজ করে বলতে গেলে, অ্যানার্কিজম রাষ্ট্রযন্ত্র এবং সব ধরনের শাসন বিরোধী। নিহিলিজম হল সমাজ ও সামাজিক সব সংগঠন ও বন্ধন বিরোধী— ধ্বংসের মাধ্যমে পুনর্জন্মের পূজারী। উপেন্দ্রনাথ স্পষ্ট করে দেন, তাঁরা চান ভারতের স্বাধীনতা ও ঐক্য।

তিন বাঙালি বিপ্লবী, তিনটি দৃষ্টিভঙ্গি ও তিনটি স্বতন্ত্র লেখা। ‘দ্বীপান্তরের কথা’-য় নেতা হিসেবে বারীন স্পষ্ট করে দেন তাঁদের লক্ষ্য। ভারতবর্ষ এবং তার বাইরেও বৃহৎ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে বিপ্লবের স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে দেওয়া। মানিকতলা বাগানবাড়ির প্রধান উদ্দেশ্য ছিল প্রোপাগান্ডা এবং বিজ্ঞাপন। বারীন মানিকতলা গোষ্ঠীর অন্যতম মাথা। তাঁর জন্ম ইংল্যান্ডের ক্রয়ডন-এ। সে জন্যই তিনি ব্রিটিশ নাগরিক। অতএব তাঁকে প্রস্তাব দেওয়া হয়, বন্ধ দরজার পিছনে ইউরোপিয়ান আদালতে ইংরেজ উকিল ও বিশেষ বিচারপতি দিয়ে তাঁর বিচার করা হবে। বারীন বললেন, তিনি বাকিদের সঙ্গে একই আদালতে পেশ হতে চান। তাঁর নেতৃত্বেই পরে আন্দামানের রাজনৈতিক বন্দিরা একাধিক বার ধর্মঘট করে, অনেকাংশে সফল হয়।

দ্বীপভূমিতে বন্দিদের জীবনে তখন প্রবল অত্যাচার। ঘেমো গরম, নুনের অভাব এবং কঠিন শ্রম। কাকভোরে উঠে দু’গ্রাস খাওয়া। মূল খাদ্য ভাতের মাড়। কোনও কোনও দিন সবজি মিলত। তার পর নারকেল ঘানিতে কাজ। নারকেল থেকে প্রত্যেক বন্দিকে কুড়ি থেকে পঁচিশ কিলো তেল বানাতে হত। ক্লান্তিতে, চাবুকে পরিমাণ অপূর্ণ থাকলে মিলত আরও ডান্ডা। কুঠরির দেওয়াল থেকে ঝুলিয়ে লাঠি মারা দৈনন্দিন ঘটনা। দুপুরের খাওয়ার পর এক ঘণ্টা বিশ্রাম এবং রাতে গরম ও মশার কামড়ের ফাঁকে কয়েক ঘণ্টা ঘুম। এটাই জেলে রোজকার জীবন।

ওয়াহাবির পরে এবং স্বদেশিদের আগে আর একটা আন্দোলনের ঢেউ আছড়ে পড়েছিল আন্দামানের জেলে। তাঁরা হলেন ১৮৮৫-র তৃতীয় বর্মি যুদ্ধের বন্দিরা। ওই সালেই ভারতীয় কংগ্রেস পার্টি স্থাপিত হয়। উপেন্দ্রনাথ ‘নির্বাসিতের আত্মকথা’-য় লেখেন, ‘‘জেলে ঢুকলে প্রথমেই নজরে পড়ে বহু জাতির সমাবেশ। বাঙ্গালী, হিন্দুস্থানী, পাঞ্জাবী, মারাঠী, পাঠান, সিন্ধি, বর্মী, মাদ্রাজী সব মিশিয়া খিচুড়ি পাকিয়া গিয়াছে।’’ সেখানে ছিল আর্যসমাজিরা, ওয়াহাবিরা, স্বদেশিরা, শিখ, ১৯১৫-র পরে গদর পার্টির সদস্যরা, ছিল বর্মি স্বাধীনতা সংগ্রামী, বিভিন্ন মতাদর্শের স্বদেশি বাঙালি এবং বিনায়ক সাভারকর। হিন্দু ও মুসলমানের সংখ্যা প্রায় সমান এবং ১৮৮৫-র পর বর্মিরাও যথেষ্ট সংখ্যায় মজুত। বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি এবং স্বভাবতই রেষারেষি। বারীনদের লেখায় এটা ফুটে ওঠে। দ্বীপান্তরের কারাগারে বহু জাতি ও চিন্তার এই সমাগম, বিরোধিতা, আপস ও সংলাপ সর্বভারতীয় জাতীয়তাবাদ এবং সমগ্র ও স্বতন্ত্র দেশ সম্বন্ধে চিন্তার কি আর একটা উৎস?

একটা মজার তথ্যের উল্লেখ করেছেন বারীন— তাঁরা সুযোগ পেলে নিজেদের মধ্যে দেওয়ালে টোকা মেরে একটা সরল টরেটক্কার মাধ্যমে কথোপকথনের চেষ্টা করতেন। কারাগারের প্রশাসন বাঙালির পাশে রাখত মাদ্রাজিকে, তার পাশে পাঠান ও বর্মিকে। সঙ্গোপনে কথাবার্তা তাই ছিল অত্যন্ত কঠিন।

উল্লাসকরের ‘কারাজীবনী’ বইটি পড়তে গিয়ে একটা ধাক্কা লাগে। উনি ইটের গোলায়, জেলের বাইরে প্রচণ্ড গরমে অবিরত কাজ করতে করতে অসুস্থ হন। উল্লাসকরের জবানিতে ‘‘এতদিনকার হাড়ভাঙ্গা খাটুনির পর যখন দেখিলাম যতই খাটি না কেন ঐ খাটুনি হইতে আর উদ্ধার নাই, তখন একেবারে মরিয়া হইয়া বলিলাম যে, আর কাজ করিব না।’’ ভারতীয় জুনিয়র ডাক্তার জেলের মধ্যেই কাজের পরামর্শ দেন। তা বড়সাহেব মানবেন কেন? ওঁকে আবার ইটের গোলায় পাঠানো হয়। উল্লাসকর কিছু দিন পর ফিরলেন প্রচণ্ড জ্বরে কাঁপতে কাঁপতে। জানালেন, তিনি আর কাজ করতে অক্ষম। ধুম জ্বর, ১০৪-১০৬ ডিগ্রির আশেপাশে। তাঁকে ভাতের মাড় খাইয়ে দেওয়াল থেকে হাতকড়ি পরিয়ে চেনে বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা হয় সারা রাত। বারীন লেখেন, ‘‘ভোর হলে পেটি অফিসার দেখিল যে, উল্লাসকর জ্বরে অজ্ঞান হইয়া হাতকড়ি হইতে ঝুলিতেছে।’’ উপেন্দ্র ও বারীনের লেখায়, ‘‘জ্বর ছেড়ে যখন উল্লাসকর কুঠরি থেকে বেরোলো, উল্লাসকর আর সেই উল্লাসকর নাই। আসন্ন বিপদের মধ্যেও যিনি নির্বিকার, তীব্র যন্ত্রণায় যাঁহার মুখ হইতে কখনো হাসির রেখা মুছে নাই, তিনি আজ উন্মাদ।’’

উল্লাসকর লিখেছেন, কী ভাবে জেলের হাসপাতালে তাঁকে বারবার ‘ব্যাটারি চার্জ’ বা ইলেকট্রিক শক দেওয়া হয়। ‘‘সমস্ত শরীর বিদীর্ণ করিয়া, সমস্ত স্নায়ুমণ্ডলীকে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করিয়া ঐ তড়িৎ নির্গত হইতে থাকে’’। কিছু সময় আন্দামানের জেল হাসপাতালে কাটিয়ে তাঁকে মাদ্রাজের উন্মাদাগারে পাঠানো হয়। এই প্রচণ্ড নির্যাতনের পরে উন্মাদ হওয়াটাই হয়তো স্বাভাবিক। তবে একটা খটকা রয়েই যায়। তা হলে তিনি ১৯২০-র পর কী করে ‘কারাজীবনী’ লিখতে পারেন? উল্লাসকর কি সত্যিই পাগল হয়ে গিয়েছিলেন? নাকি তিনি অসাধারণ অভিনেতা? তাঁর লেখায় এক জন ইউরোপীয় ডাক্তার তাঁকে পরামর্শ দেন পাগল সাজতে। কঠিন শ্রম এবং জ্বরে মৃত্যু থেকে বাঁচার একমাত্র উপায়। ওই ডাক্তারের কাছ থেকে লাভ তাঁর উন্মাদনার প্রথম পাঠক্রম। কোনটা সত্যি, অভিনেতা না উন্মাদ, এই রহস্য থেকেই যায়।

পরিশেষে কারাবাসের আর একটি দিক। পিনোলজি বা কারাবিজ্ঞান এবং জেল পরিচালনার ওপর প্রথম সুপরিকল্পিত বই লেখেন মার্কি সিজারে বিক্কারিয়া। ১৭৬৪-তে প্রকাশিত ‘অন ক্রাইমস অ্যান্ড পানিশমেন্টস’ একটা গভীর সত্য প্রকাশ করে যে সব অপরাধ একই ভাবে দণ্ডনীয় নয়। লঘু ও গুরুর মধ্যে তফাত অত্যন্ত প্রয়োজন। মার্কি-ই প্রথম জেলখানাকে সংশোধনাগার হিসেবে দেখার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

ব্রিটিশ রাজ এই ধারণা ভারতে কার্যকরী করতে আরও একশো বছর লাগিয়ে দেয়। ১৮৬০ সালে ইন্ডিয়ান পিনাল কোড তৈরি হয়। তার ৪০ বছর পরে, ১৯০০ সালে বেলজিয়ামে ষষ্ঠ আন্তর্জাতিক পিনোলজি সম্মেলন। সম্মেলনের রিপোর্ট তৈরি করেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্যামুয়েল ব্যারোস। যেহেতু সেলুলার জেলের মডেল বেলজিয়ামে প্রথম প্রতিষ্ঠিত, তাই বেলজিয়ামের সম্মেলনে সেলুলার জেলের পক্ষে পাল্লা ছিল ভারী।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ইন্ডিয়ান জেল কমিটি গঠিত হয়। জেল কমিটি ১৯১৯-’২০ পর্যন্ত অনুসন্ধান চালায় এবং রিপোর্টে বলে, সেলুলার বা সলিটারি কারাবাস দশ বছর ও তার বেশি হলে তা শারীরিক ও মানসিক ভাবে অত্যন্ত ক্ষতিকারক। দিনের পর দিন একই কাজ। অখাদ্য ও অপুষ্টিকর খাবার। এই সব তথ্য তুলে বারীনরাও জেল কমিটির কাছে আবেদন পেশ করেন। ব্রিটিশ গভর্নমেন্ট জেল কমিটির রিপোর্ট, তাঁদের বয়ান এবং আন্তর্জাতিক মত মেনে ১৯২০ থেকে আন্দামান কারাবন্দিদের মুক্তির প্রক্রিয়া শুরু করে।

সেলুলার জেল তাই শুধু আরএসএস-এর গুরু গোলওয়ালকরের বন্দিত্বের ইতিহাস নয়। সিপাহি বিদ্রোহ, আধুনিক কারাবিজ্ঞান, অনেক কিছু মিলেমিশে রয়েছে সেখানে। আন্দামানে প্রথম যুগে তিন বন্দি বাঙালির আত্মকথা তাই আজও গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।



Tags:
Cellular Jail Upendranath Bannerjee Barindra Kumar Ghosh Freedom Fightersবারীন্দ্রকুমার ঘোষউপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়উল্লাসকর দত্তসেলুলার জেল

Advertisement