প্রশ্ন: ২০০ উইকেটের সেলিব্রেশন কেমন হল?

ঝুলন গোস্বামী: খানিকটা হয়েছে। কেক কেটেছি টিমমেটদের সঙ্গে। এর পর ডিনারে যাব সবাই মিলে। তখন আরও ভাল করে সেলিব্রেশন হবে।

প্র: এমন মাইলস্টোন পেরনোর স্মারক কী রাখলেন?

ঝুলন: বলটাই নিলাম। বোলারের কাছে ওটাই তো সেরা উপহার, সেরা সঙ্গী হতে পারে— বল।

প্র: কেক কি ড্রেসিংরুমেই কাটলেন?

ঝুলন: না, না। ড্রেসিংরুমে আমরা  সেলিব্রেশন করিনি। হোটেলে ফিরে কেক কাটা হল।

প্র: প্রথম মহিলা ক্রিকেটার হিসেবে ওয়ান ডে-তে ২০০ শিকার। বিরল মাইলস্টোনের অনুভূতি কী রকম?

ঝুলন: আমি খুব খুশি। অনেকে আমাকে বলেছে, ২০০ সংখ্যাটা বেশ বড়। মেয়েদের ক্রিকেট একটা সময়ে তো খুব বেশি খেলা হতো না। ক্যাথরিন ফিট্জপ্যাট্রিকের ১৮০ উইকেট পেরিয়ে যাওয়ার সময় খুব চাপ ছিল আমার উপর। অনেক দিন সময় লেগে গিয়েছিল। এ বারে ২০০ উইকেটের ক্ষেত্রে কোনও চাপ ছিল না। আমি খুব স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করেছি। যখন হবে, দেখা যাবে।

প্র: মাইলস্টোনের বলটা কী ভাবে সাজিয়ে রাখতে চান?

ঝুলন: ২০০ সংখ্যাটা লিখে রাখতে চাই বলটার উপর।

প্র: কাকে উৎসর্গ করবেন এই মাইলস্টোন?

ঝুলন: এটা দলের সতীর্থদের জন্য। ওরা না থাকলে এই জায়গায় পৌঁছনো হতো না। এত বছর ধরে যাদের সঙ্গে খেলেছি, ২০০ উইকেট সেই সতীর্থদের তাই উৎসর্গ করব। তবে একই সঙ্গে বলতে চাই আমার পরিবারের কথা। বাড়ির সকলের সমর্থন না পেলে আমার পক্ষে যাত্রাটা শুরু করাই হয়তো সম্ভব হতো না।

প্র: জীবনের সব চেয়ে মূল্যবান উইকেট হয়ে থাকবে কোনটা?

ঝুলন: প্রত্যেকটা উইকেটকে আমি খুব আগলে রাখতে চাই। এক জন বোলারই জানে, প্রত্যেকটা উইকেট তুলতে তাকে কতটা কষ্ট করতে হয়।  সেই কারণে প্রত্যেকটা উইকেটই আমার কাছে মূল্যবান হয়ে থাকবে।

প্র: তবু যদি একটা উইকেট বেছে নিতে বলি, কোনটাকে নেবেন?

ঝুলন: প্রথম উইকেটটা। কারণ, ভারতের হয়ে অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামার সময় শুধু একটাই কথা ভাবছিলাম। অন্তত একটা উইকেট আমাকে পেতেই হবে। তা না হলে যদি আর কখনও ভারতের হয়ে খেলার সুযোগ না পাই, আমার নামের পাশটা ফাঁকা থেকে যাবে। নামের পাশে কোনও উইকেটই তো লেখা থাকবে না। প্রার্থনা করে যাচ্ছিলাম, অন্তত একটা উইকেট যেন পাই। পিছন ফিরে তাকালে অভিষেক ম্যাচের সেই আকুতিটা মনে পড়লে প্রথম উইকেটটাকে খুব দামি মনে হচ্ছে।

আরও পড়ুন: দৃষ্টিহীন ক্রিকেটারদের যোগ্য সম্মান চান সচিন

প্র: একই দিনে দক্ষিণ আফ্রিকায় পুরুষ ও মহিলাদের টিম দাপট দেখিয়ে জিতল। ও দিকে বিরাট কোহালি মাইলস্টোন পেরিয়ে চলেছেন। এ দিকে ঝুলন গোস্বামী। নিউজিল্যান্ড থেকে বিশ্ব জয় করে ফিরল অনূর্ধ্ব-১৯ দল। ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য এটা কি সোনার সময়?

ঝুলন: অবশ্যই। একটা কথা বলতে পারি, বিরাট-রা যে ভাবে দক্ষিণ আফ্রিকায় শেষ টেস্ট জেতার পর থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, সেটা আমাদের সকলকেও খুব উদ্বুদ্ধ করেছে। আমাদের মেয়েদের টিমেও বিরাটের ফ্যান সব চেয়ে বেশি। ওর সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া, আগ্রাসী ভঙ্গি, অসাধারণ ধারাবাহিকতা— সব কিছুর ভক্ত আমরাও। বিরাট যে ভাবে দক্ষিণ আফ্রিকায় এসেও চোখে চোখ রেখে লড়াই করে যাচ্ছে, সেটা সত্যিই দারুণ তাতিয়ে দেওয়ার মতো ব্যাপার। আজকের দিনটাও খুব স্পেশ্যাল। দু’টো দলই তিনশোর উপর রান তুলে জিতল। সোনার সময় আরও বেশি করে আসছে ভারতীয় ক্রিকেটে। আমি কৃতিত্ব দিতে চাই বোর্ডকেও। মেয়েদের ক্রিকেট নিয়ে গত কয়েক বছরে অনেক ভাল পদক্ষেপ করেছে বোর্ড। তারই ফসল পাওয়া যাচ্ছে এখন। আগামী দশ বছরে ভারতে মেয়েদের ক্রিকেট আরও অনেক এগিয়ে যাবে।

প্র: বিশ্বকাপের ফাইনাল হারলেও মেয়েদের ক্রিকেটকে জনপ্রিয় করে তুলেছে সেই ফাইনাল।

ঝুলন: একদমই তাই। এখন কোনও জায়গায় গেলে আমাদের দলের অনেক ক্রিকেটারকেই সকলে চিনতে পারে। সেটা বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার পর থেকেই হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম দু’টো ওয়ান ডে জিতে সিরিজটা নিয়ে নিতে পারায় তাই খুব ভাল লাগছে যে, বিশ্বকাপের ভাল ফর্মটা আমরা ধরে রাখতে পেরেছি। ফাইনালটা হেরে গেলেও মিশন এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছি।

প্র: সচিন তেন্ডুলকর দেখলাম টুইটারে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

ঝুলন: টুইটারে অনেকেই অভিনন্দন জানিয়েছেন। সচিন জানিয়েছেন। মমতাদি (মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) জানিয়েছেন। খুবই ভাল লাগছে এত মানুষের অভিনন্দন পেয়ে। সকলের প্রতি আমি ভীষণ ভাবে কৃতজ্ঞ।