এশিয়ান গেমসে তাঁরাই ছিলেন শীর্ষ বাছাই। সোনাও জিতলেন রোহন বোপান্না-দ্বিবীজ শরণ জুটি। টেনিসে পুরষদের ডাবলস ফাইনালে রোহনরা সহজেই হারালেন কাজাখস্তানের জুটি আলেকজান্ডার বুবলিক-ডেনিস ইয়েসেইয়েভকে। মাত্র ৫২ মিনিটে। ভারতীয় জুটির পক্ষে ফল ৬-৩, ৬-৪। এশিয়ান গেমসে এর আগে তিন বার ভারতীয় জুটি সোনা পেয়েছে। ২০১০ সালে গুয়াংঝৌতে সোমদেব দেববর্মণ-সনম সিংহ। তারও আগে টানা দু’বার লিয়েন্ডার পেজ-মহেশ ভূপতি। এ দিকে পুরুষ সিঙ্গলসের সেমিফাইনালে হেরে গেলেও গেমস থেকে ব্রোঞ্জ পেলেন প্রাজ্ঞেশ গুণেশ্বরণ।

জাকার্তায় ষষ্ঠ দিন চমকে দিয়েছে ভারতীয় রোয়িং দল। কোয়াড্রাপল স্কালসে সোনা জিতে। সোনাজয়ী দলে ছিলেন স্বর্ণ সিংহ, দাত্তু ভোকানল, ওম প্রকাশ এবং সুখমিত সিংহ। সময় নিয়েছেন ৬ মিনিট ১৭.১৩ সেকেন্ড। দলের চার জনই সেনাবাহিনির কর্মী। খুবই সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসেছেন।  দলের সব চেয়ে বয়স্ক সদস্য স্বর্ণ সিংহ বলেছেন, ‘‘সৈনিকরা কখনও লড়াই ছাড়ে না। সবাই সেটা জানেও। তাই আজ সোনা জন্য ঝাঁপাবই এই ছিল পণ। এবং সেটা করেও দেখালাম।’’ প্রসঙ্গত এশিয়ান গেমসে রোয়িং থেকে এর আগে একবারই ভারত সোনা জিতেছে। ২০১০ সালে জিতেছিলেন বজরং লাল ঠক্কর। রোয়িং থেকে এসেছে দু’টি ব্রোঞ্জও। লাইটওয়েট সিঙ্গল স্কালসে জিতেছেন দুষ্মন্ত চৌহান। এই ইভেন্টেরই দলগত বিভাগে ব্রোঞ্জ জিতেছেন ভগবান সিংহ ও রোহিত কুমার জুটি। দুষ্মন্ত কিন্তু গত এশিয়াডেও ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন।

এশিয়ান গেমসে জীবনের প্রথম পদক জিতলেন শুটার হিনা সিন্ধুও। জিতেছেন ব্রোঞ্জ। ১০ মিটার এয়ার পিস্তলে। ফাইনালে হিনা পিছিয়ে থেকেও পদক নিশ্চিত করেন। আর চতুর্থ স্থানাধিকারীর সঙ্গে তাঁর পয়েন্টের ফারাক মাত্র ০.১। এই ইভেন্টে পঞ্চম হয়ে আবার হতাশ করেছে ষোলো বছরের মনু ভাকের। ব্রোঞ্জ জিতে হিনা বলেছেন, ‘‘প্রথম শট থেকেই লড়াই করেছি। তবে ফাইনাল মানেই বেশ চাপের ব্যাপার। তার উপর যোগ্যতা অর্জনের রাউন্ড খুব ভাল করতে পারিনি বলে নিজের উপর একেবারেই সন্তুষ্ট ছিলাম না। ফাইনালে সেই খামতি অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছিলাম। তবে আরও ক্লিক পেলে আমি হয়তো সোনাও জিততে পারতাম।’’

আরও পড়ুন: তিন ম্যাচে ৫১ গোল সর্দারদের

জাকার্তায় গেমসের ষষ্ঠ দিন ভারতের জন্য খারাপ খবরও আছে। গতকাল ইরানের কাছে হেরে কবাডির  সোনা হাতছাড়া করেছিল ভারতের পুরুষ দল। এ দিন কবাডিতে সেই ইরানই হারিয়ে দিল ভারতের মেয়েদের দলকে। অপ্রত্যাশিত ভাবে মেয়েরা হারল ২৪-২৭ পয়েন্টে। পিছিয়ে থেকেও দ্বিতীয়ার্ধে ভারতকে ছাপিয়ে যায় ইরান টানা ৬টি পয়েন্ট জিতে। এশিয়াডে ভারতের মেয়েরা গত দু’বারের চ্যাম্পিয়ন। এ বার কিন্তু তাদের রুপোতেই সন্তুষ্ট থাকতে হল। 

স্কোয়াশে পুরুষদের সিঙ্গলস সেমিফাইনালে সৌরভ ঘোষাল ভারতেরই হারিন্দর পাল সাঁধুকে ৩-১ হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছেন। এমনিতেই স্কোয়াশে তিনটি পদক  ভারত পাচ্ছেই। মেয়েদের সিঙ্গলসে দীপিকা পাল্লিকাল ৩-০ হারিয়েছেন জাপানের মিশাকি কোবায়াসিকে এবং সেমিফাইনালে উঠেছেন। শেষ চারে পৌঁছেছেন জ্যোৎস্না চিনাপ্পাও। 

ব্যাডমিন্টনে কিদম্বি শ্রীকান্ত হেরে গেলেন বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে তাঁর চেয়ে কুড়ি ধাপ নীচে থাকা খেলোয়াড় হংকংয়ের ভিনসেন্ট ওং কি-র কাছে। শ্রীকান্ত হারলেন ২১-২৩, ১৯-২১। হেরেছেন এইচএস প্রণয়ও। তিরন্দাজির মিক্সড দলগত কোয়ার্টার ফাইনালে ইরান ১৫৫-১৫৩ স্কোরে হারিয়েছে ভারতকে। রিকার্ভ কোয়ার্টার ফাইনালে মঙ্গোলিয়ার কাছেও হেরেছে ভারত। জাতীয় রেকর্ড করলেও পুরুষদের সাঁতারের ৪x১০০ মিটার রিলেতে ভারত নবম হওয়ায় ফাইনালে উঠতে পারেনি। ভারোত্তোলনে ব্যর্থ রাখি হালদার। ৬৩ কেজিতে তিন বারের চেষ্টাতেও ৯৩ কেজি তুলতে পারেননি। হ্যান্ডবলে ভারতের পুরুষ দলে গ্রুপের খেলায় পাকিস্তানকে ২৮-২৭ হারিয়েছে।