এশিয়ান গেমসে পুরুষদের হকির ফাইনালে ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ দেখার জন্য মুখিয়ে ছিল এশিয়া। ভারত-পাক দ্বৈরথ কিন্তু থাকছেই, তবে তা ফাইনালে নয়। তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান নির্ণায়ক ম্যাচে দেখা হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের। ছেলেদের সোনা জেতার স্বপ্ন শেষ হয়ে গেলেও ভারতের মেয়েরা তা শেষ হতে দেননি। শুক্রবার জাপানের বিরুদ্ধে ৩৬ বছরের স্বপ্নপূরণ করার ম্যাচে নামছেন রানি রামপালরা।

এশিয়াডের সেমিফাইনালে মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে সাডেন ডেথ-এ হারল হরেন্দ্র সিংহের ছেলেরা। নির্ধারিত সময়ে ম্যাচের ফল ছিল ২-২। পেনাল্টি স্ট্রোকও যার ব্যবধান গড়ে দিতে পারেনি। শেষে সাডেন ডেথে ৬-৭ গোলে হারে ভারত। ২০১০ গুয়াংঝৌ এশিয়াডে মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধেই শেষ চারের রাস্তা থেকে ফিরে যেতে হয়েছিল ভারতকে। অন্য সেমিফাইনালে জাপানের বিরুদ্ধে ০-১ গোলে হেরে ফাইনালের রাস্তা বন্ধ হয়ে যায় পাকিস্তানেরও। 

শুধু সোনা জেতার স্বপ্নই নয়, ২০২০ অলিম্পিক্সে সরাসরি যোগ্যতা অর্জন করার রাস্তাও বন্ধ হয়ে গেল মনপ্রীত সিংহদের। যা আরও বেশি করে ভাবাচ্ছে ভারতীয় কোচকে। শুক্রবার ম্যাচ শেষে হরেন্দ্র বলেছেন, ‘‘অলিম্পিক্সে যোগ্যতা অর্জন করার রাস্তা অনেক শক্ত হয়ে গেল আমাদের জন্য। এটাই হয়তো সুবর্ণ সুযোগ ছিল। তবে আমরা যা খেলেছি, তাতে জেতা যায় না।’’

ভারতীয় কোচের মতে মালয়েশিয়া প্রতিআক্রমণ নির্ভর দল। আর ভারত সেটার সুযোগ করে দিয়েছে। হরেন্দ্র কথায়, ‘‘আমরা খুব বেশি বল ধরে খেলেছি। এতটা সাবধানতার কোনও দরকার ছিল না। সেই সুযোগটা ভাল করেই কাজে লাগিয়েছে মালয়েশিয়া। ওদের দু’টি গোলই কিন্তু হয়েছে প্রতিআক্রমণে।’’

ভারত অবশ্য দু’টি গোলই করেছে পেনাল্টি কর্নার থেকে। ৩৩ মিনিটে গোল করেন হরমনপ্রীত সিংহ। ৪০ মিনিটে বরুণ কুমার। 

ছেলেদের সোনার স্বপ্ন শেষ হলেও রানিদের আশা শেষ হয়ে যায়নি। শেষ বার ১৯৯৮ এশিয়াডে ফাইনালে উঠেও দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে হারতে হয়েছিল ভারতকে। এ বার তার পুনরাবৃত্তি চান না ভারতীয় কোচ সোর্দ মারিন। তিনি বলেছেন, ‘‘গোটা প্রতিযোগিতায় একটি মাত্র গোল খেয়েছে আমার দল। রক্ষণই আমাদের শক্তি। ফাইনালের আগে এটা ভেবেই কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছি।’’

আজ মেয়েদের হকি ফাইনাল: ভারত বনাম জাপান (সন্ধে ৬.৩০)।