শেষ বার যখন মেলবোর্নে এসেছিলেন সেরিনা উইলিয়ামস, তখন তিনি পাঁচ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা। সেই অবস্থাতেই তিনি সপ্তম অস্ট্রেলীয় ওপেন জেতেন। কার্যত সেরিনা যখন জিতছেন, কেউ জানতই না যে, তিনি অন্তঃসত্ত্বা। পরে নিজেই তা ফাঁস করেন। 

দু’বছর পরে সেই মেলবোর্ন পার্কেই মা হয়ে ফিরে এসে ফের টেনিস জগতকে চমকে দিচ্ছেন সেরিনা। যে রকম আক্রমণাত্মক টেনিস খেলে সোমবার তিনি বিশ্বের এক নম্বর মহিলা টেনিস খেলোয়াড় সিমোনা হালেপকে হারিয়ে দিলেন, তা দেখে কে বলবে এখন তাঁর বয়স ৩৮! 

৬-১, ৪-৬, ৬-৪ জয়ের মধ্যে খুঁজে পাওয়া গেল যেন সেই পুরনো সেরিনার ঝলক। সেই অপ্রতিরোধ্য ভঙ্গি। সেই মরিয়া মনোভাব। যিনি স্টেফি গ্রাফের রেকর্ড ভেঙে ইতিমধ্যেই জিতে ফেলেছেন ২৩টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম। আর একটি জিতলেই ধরে ফেলবেন মার্গারেট কোর্টের সর্বোচ্চ ২৪ গ্র্যান্ড স্ল্যাম জেতার অনন্য রেকর্ডকে। তবে পুরনো সেই সেরিনার একাধিপত্য দেখা যায়নি। বরং হালেপ মাঝেমধ্যেই বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন, কেন তিন এক নম্বর। তৃতীয় সেটে তিন বার ব্রেক পয়েন্ট বাঁচান সেরিনা। শেষ পর্যন্ত তাঁর অদম্য মনোভাবেরই জয় হয়। ‘‘দুর্দান্ত একটা ম্যাচ হল,’’ জেতার পরে বলেন সেরিনা, ‘‘সিমোনা বিশ্বের এক নম্বর। আমাকে অনেক উন্নত টেনিস খেলতে হত জিততে গেলে। আমি খুব খুশি প্রিয় এই কোর্টে ফিরে জিততে পেরে।’’ কী ভাবে সম্ভব হল এই প্রত্যাবর্তন? জিজ্ঞেস করায় বিশ্বের সর্বকালের অন্যতম সেরার জবাব, ‘‘আমি এক জন ফাইটার। কখনও লড়াই ছাড়ি না। কখনও হাল ছাড়ি না। সব সময় পরিশ্রম করে যাই। অলৌকিক ব্যাপার যে, আমি আজ এখানে এই কোর্টে দাঁড়িয়ে রয়েছি। আমি প্রত্যেকটা পয়েন্টের জন্য নিজের শেষ বিন্দু দিয়ে লড়াই করি।’’ 

জীবনের যে কোনও খাতে সফল হতে চাওয়া অনেকের জন্য ‘মোটিভেশনাল স্পিচ’-এর মতো শোনাচ্ছিল তখন কোর্টে দাঁড়িয়ে সেরিনার সেই কথাগুলো। মেলবোর্ন পার্কে সোমবারের পরে বলাবলি শুরু হয়ে গিয়েছে, টেনিসের সবার সেরা রেকর্ড মার্গারেট কোর্টের কীর্তি এ বারেই তিনি ধরে ফেলবেন কি না। হালেপকে হারানোর পরে তাঁর সামনে কী রকম চ্যালেঞ্জ রয়েছে, দেখে নেওয়া যাক। বুধবার কোয়ার্টার ফাইনালে তিনি মুখোমুখি হবেন ক্যারোলিনা প্লিসকোভার। তার পরে দেখা হতে পারে নেয়োমি ওসাকা অথবা এলিনা সোয়াইতোলিনার সঙ্গে। যে ভাবে হালেপের সঙ্গে তিনি ঝোড়ো গতিতে শুরু করেন এবং পরে নাছোড় ভঙ্গিতে ম্যাচ ছিনিয়ে নিয়ে যান, তা দেখে সেরিনা-ভক্তরা আশাবাদী হয়ে উঠতেই পারেন। হালেপের বিরুদ্ধে প্রথম সেট তিনি জেতেন ঝড়ের গতিতে মাত্র ২০ মিনিটে। যেন র‌্যাপিড ফায়ার রাউন্ড চলল। তার পরে হালেপ দুর্দান্ত ভাবে ম্যাচে ফেরেন। কিন্তু মেলবোর্নের গরমেও শেষ পর্যন্ত কামড়ে পড়ে থাকার মানসিকতা দেখান সেরিনা। 

রড লেভার এরিনায় পনেরো হাজার দর্শকের সামনে অদ্ভুত এক ম্যাচ হয়ে গেল। যেখানে বিশ্বের এক নম্বর খেলছেন আন্ডারডগ হিসেবে। যেখানে বিশ্ব সেরার চেয়েও তাঁর উল্টো দিকে থাকা প্রতিপক্ষের জয় দেখতে বসে আছেন বেশি সমর্থক। এমন এক প্রতিপক্ষ, যিনি ২৩টি গ্র্যান্ড স্ল্যামের মালিক। তার মধ্যে অস্ট্রেলীয় ওপেনই জিতেছেন সাত বার। দু’বছর আগে এখানেই তিনি অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় জিতেছিলেন শেষ গ্র্যান্ড স্ল্যাম। এ বার হয়তো প্রিয় কোর্টই হয়ে থাকছে প্রত্যাবর্তনের মঞ্চ!