বার্সেলোনা ৩       •       ম্যান ইউ ০

প্রতীক্ষার অবসান। অবশেষে চার বছর পরে ফের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালে লিয়োনেল মেসির বার্সেলোনা।

শুধু তাই নয়, উজ্জ্বল হল মেসির পঞ্চম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ভাগ্যও। যা বাস্তবায়িত হলে তিনি ধরে ফেলবেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকেও। কারণ, ছয় বছর পরে মেসির কোয়ার্টার ফাইনালে গোল করার রাতেই আয়াখ্‌সের কাছে ১-২ হেরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ অভিযান এ বারের মতো শেষ রোনাল্ডোর। যে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ রোনাল্ডোর পয়া ট্রফি হিসেবে গত কয়েক বছরে গণ্য হয়ে এসেছে, এ বার সেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সিআর সেভেনের আধিপত্যও ছুঁতে চলেছেন মেসি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গোলসংখ্যায়ও রোনাল্ডোকে তাড়া করছেন মেসি। এই প্রতিযোগিতায় রোনাল্ডোর গোল ১২৬। সেখানে মেসি মঙ্গলবার রাতে করে ফেললেন তাঁর ১১০তম  গোল।

ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডকে প্রথম পর্বের কোয়ার্টার ফাইনালে ১-০ হারিয়ে এসেছিল বার্সা। তার পরেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বার্সেলোনার সেমিফাইনাল খেলা নিয়ে আশাবাদী হয়ে উঠেছিলেন সমর্থকরা। কিন্তু বিপক্ষে ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড বলেই ফিরতি পর্বের ম্যাচের আগে পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারেননি তাঁরা। মঙ্গলবার রাতে বার্সার ঘরের মাঠে ২০ মিনিটের মধ্যেই জোড়া গোল করে বার্সেলোনার সেমিফাইনাল খেলার রাস্তা মসৃণ করে দেন স্বয়ং মেসিই। তাঁর জাদুতেই বার্সা জিতল ৩-০। বার্সার অপর গোলদাতা ফিলিপে কুতিনহো। দ্বিতীয়ার্ধের ৬১ মিনিটে জোরালো শটে গোল করে যান তিনি। ফলে দুই পর্ব মিলিয়ে ৪-০ জিতল বার্সেলোনা। 

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তাঁর শেষ ১২টি কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে গোল করতে পারেননি মেসি। তাই ম্যাচের আগে কেউ কেউ সেই পরিসংখ্যান তুলে এনেছিলেন। মঙ্গলবার রাতে শুরুটা ভালই করেছিল ওয়ে গুন্নার সোলসারের ম্যান ইউ। তার উপর ম্যান ইউ মিডফিল্ডার ফ্রেড তাদের বক্সে বার্সার ইভান রাকিতিচকে ফাউল করলে পেনাল্টি দিয়েছিলেন রেফারি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভিডিয়ো প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে সিদ্ধান্ত নাকচ করেন।

তবে এতেও স্নায়ুর যুদ্ধে হারেননি মেসি। ১৬ মিনিটে বিপক্ষের অ্যাশলে ইয়ংয়ের ভুল পাস ধরে বার্সাকে প্রথম এগিয়ে দেন তাদের আর্জেন্টিনীয় তারকা। মেসির বাঁক খাওয়ানো শট কোনাকুনি গোলে ঢোকে। এর আগে ২০১৩ সালে প্যারিস সাঁ জারমাঁ-র বিরুদ্ধে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কোয়ার্টার ফাইনালে শেষ গোল করেছিলেন মেসি। চার মিনিট পরেই ফের বার্সাকে এগিয়ে দেন মেসি। এ ক্ষেত্রেও সোলসারের দলের রক্ষণের ভুলে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শটে ব্যবধান বাড়ান এলএম টেন। তবে এ ক্ষেত্রে দাভিদ দ্য হিয়া বল ধরতে গিয়ে সময়ের ভুল করেছিলেন। তাই তিনি বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে মেসির নিরীহ শট বাঁচাতে গেলেও বল তাঁর হাতের তলা দিয়ে গোলে ঢুকে যায়। যা নিয়ে প্রবল সমালোচিত হয়েছেন দ্য হিয়া।

চলতি বছরে বার্সেলোনার জার্সি গায়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৫ গোল করেছেন মেসি। বিপক্ষ ম্যানেজার ওয়ে গুন্নার সোলসার বলছেন, ‘‘শুরুটা ভালই হয়েছিল। কিন্তু তার পরেই জোড়া গোল করে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয় মেসি। এই ধরনের ম্যাচে সামান্য ভুল করা চলে না। সুযোগ পেলে গোল করতে হয়। যার কোনওটাই পারিনি আমরা।’’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘‘মেসি এক ব্যতিক্রমী প্রতিভা। আজ দেখিয়ে দিয়েছে কেন ও ক্লাব ফুটবলে এত খেতাব জিতেছে।’’