মহেন্দ্র সিংহ ধোনির বিশ্বকাপ জয়ের শহরে আজ, সোমবার, ২০১৯ বিশ্বকাপের দল নির্বাচনী সভায় সামান্য হলেও এগিয়ে থেকে শুরু করছেন ঋষভ পন্থ। ভারতীয় ক্রিকেটের প্রভাবশালী মহলে গরিষ্ঠ অংশের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দিল্লির তরুণ প্রতিভার পক্ষে যেতে পারে এক) দুর্ধর্ষ আগ্রাসী ব্যাটিং দক্ষতা এবং দুই) বাঁ হাতি হওয়ার সুবিধা। 

পন্থের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দীনেশ কার্তিক ‘ফিনিশার’ হিসেবে সুনাম অর্জন করেছেন। অভিজ্ঞতাতেও তিনি অনেক এগিয়ে। কারও কারও মতে, আইপিএলের হাড্ডাহাড্ডি ম্যাচের মতোই রুদ্ধশ্বাস লড়াই হতে চলেছে কার্তিক বনাম পন্থ। রবিবার আনন্দবাজারে প্রকাশিত খবর মতোই এ নিয়েও কোনও সন্দেহ নেই যে, বৈঠকে এই একটি জায়গা নিয়েই সব চেয়ে বেশি সময় ব্যয় হতে যাচ্ছে। তবু রবিবার রাতের দিকে যা ইঙ্গিত, পাল্লা পন্থের দিকেই কিছুটা ঝুঁকে। 

কোহালির দলে খুব বেশি বাঁ হাতি নেই। ফাস্ট বোলারদের মধ্যে কেউ বাঁ হাতি নন। একমাত্র আছেন স্পিনার-অলরাউন্ডার রবীন্দ্র জাডেজা। উপরের দিকের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে বাঁ হাতি শুধু শিখর ধওয়ন। যদি পন্থকে নেওয়া হয়, তা হলে নিঃসন্দেহে তিনি ডান-বাঁ জুটি তৈরি করতে পারবেন। যা প্রতিপক্ষ বোলারদের ছন্দ নষ্ট করতে সাহায্য করবে। ধোনির দল যে ২০১১ বিশ্বকাপ জিতেছিল, তাতে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন দুই বাঁ হাতি ব্যাটসম্যান। যুবরাজ সিংহ এবং সুরেশ রায়না। এর মধ্যে যুবরাজ ছিলেন ম্যান অফ দ্য টুর্নামেন্ট। আর ধোনি-যুবরাজদের বিশ্বজয়ের সেই মাঠ, ওয়াখংড়ে স্টেডিয়ামেই বোর্ডের ক্রিকেট সেন্টার অবস্থিত। সেখানেই বিশ্বকাপের দল নির্বাচনী বৈঠকে বসছেন এম এস কে প্রসাদের নেতৃ্ত্বাধীন নির্বাচক কমিটি। আট বছর আগে বিশ্বজয়ের অভিযানে বাঁ হাতিদের অবদান ভুলে যাওয়া কি সম্ভব হবে প্রসাদদের পক্ষে? 

তা বলে দীনেশ কার্তিক একেবারে বৈঠকের আগের রাতেই ম্যাচ হেরে গিয়েছেন, এমন ভাবার কারণ নেই। নির্বাচকদের মধ্যে কেউ কেউ তাঁর জন্য লড়তে পারেন। এঁরা তথ্য তুলে ধরে দেখাতে পারেন যে, কার্তিকই চার নম্বর ব্যাটসম্যান হিসেবে যাওয়ার যোগ্য। ২০১৫ বিশ্বকাপের পর থেকে চার নম্বরে ৯টি ম্যাচে খেলে কার্তিকের গড় পঞ্চাশের উপর। দু’টো হাফ সেঞ্চুরিও আছে। তেমনই পন্থকে নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে যে, তাঁর অভিজ্ঞতা কম। ভারতের হয়ে টেস্টে দারুণ করেছেন, সন্দেহ নেই। ইতিমধ্যেই ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট সেঞ্চুরি পেয়েছেন। কিন্তু এক দিনের ক্রিকেটে এখনও অপরীক্ষিত। মাত্র পাঁচটি ওয়ান ডে খেলে তাঁর গড় ২৩.২৫। টি-টোয়েন্টি ও পঞ্চাশ ওভারের খেলায় অনেক তফাতও রয়েছে। কুড়ি ওভারের ব্যাটিংয়ে শুধু আগ্রাসন দেখিয়ে বাজিমাত করা যায়। পঞ্চাশ ওভারের বিশ্বকাপে আগ্রাসনের সঙ্গে সতর্কতার আদর্শ মিশ্রণ ঘটাতে হবে। নানা ধরনের গিয়ার পন্থের ব্যাটিংয়ে আছে কি না, এই প্রশ্নের উত্তর  এখনও অজানা। সঙ্গে তাঁর উইকেটকিপিংও দারুণ কিছু নয়। 

তবু প্রাক-বৈঠক আলোচনায় পন্থ কিছুটা এগিয়ে। তাঁর মধ্যে ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা অনেক বেশি রয়েছে বলেই ভারতীয় ক্রিকেটের মস্তিষ্কদের মনে হচ্ছে। সঙ্গে বাঁ হাতি হওয়ায় বাড়তি সুবিধে। ৩৩ বছরের কার্তিকের জায়গায় ২১ বছরের পন্থ এলে দলে তারুণ্যের জোশও বাড়বে বলে মনে করছেন কেউ কেউ।  

কাকতালীয় হলেও কারও চোখ এড়াল না যে, পন্থ এবং কার্তিক দু’জনেই নির্বাচনী বৈঠকের আগের দিন আইপিএলে নেমেছিলেন। তাঁদের চোখমুখই বলে দিচ্ছিল, বিশ্বকাপের নির্বাচনকে ঘিরে ভিতরে ভিতরে চাপা উদ্বেগ চলছে। কার্তিক করলেন ১৪ বলে ১৮। পন্থ ১৯ বলে ২৩। কেকেআর অধিনায়ক চলতি প্রতিযোগিতায় ৮ ম্যাচে করেছেন মাত্র ১১১ রান। গড় ১৮.৫০। অতীত পারফরম্যান্সই রক্ষাকবচ হতে পারে!

মোট পনেরো জনের দল নির্বাচিত হবে। বাকি চোদ্দোটি জায়গা খুব বেশি আলোচনার সম্ভাবনা কম। বিজয় শঙ্করকে নিয়ে যাওয়ারই পক্ষপাতী গরিষ্ঠ সংখ্যক নির্বাচক। টিম ম্যানেজমেন্ট তো তাঁর পক্ষেই। এ দিন আইপিএলে খলিল আহমেদ দারুণ বল করে ৩০ রানে তিন উইকেট নিলেন। বাঁ হাতি পেসার বলে তাঁর নাম তুলতে পারেন কেউ কেউ। তবে চতুর্থ পেসারের জায়গায় রবীন্দ্র জাডেজাকে অলরাউন্ডার হিসেবে নিয়ে যাওয়ার দিকেই ভোট বেশি। ধোনির দলের হয়ে এ দিন ইডেনে ব্যর্থ হওয়া অম্বাতি রায়ডুও সম্ভবত ইংল্যান্ডের উড়ান ‘মিস’ করছেন।  

সম্ভাব্য দল এ রকম: রোহিত শর্মা, শিখর ধওয়ন, বিরাট কোহালি (অধিনায়ক), কেদার যাদব, মহেন্দ্র সিংহ ধোনি (উইকেটকিপার), হার্দিক পাণ্ড্য, ভুবনেশ্বর কুমার, কুলদীপ যাদব, যুজবেন্দ্র চহাল, মহম্মদ শামি, যশপ্রীত বুমরা, বিজয় শঙ্কর, রবীন্দ্র জাডেজা, কে এল রাহুল, ঋষভ পন্থ/দীনেশ কার্তিক।