ডারহামের চেস্টার-লি-স্ট্রিট স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ হাতে ভ্রমণ করলেন বেন স্টোকস। শৈশব তাঁর নিউজ়িল্যান্ডে কাটলেও ১২ বছর বয়সে চলে আসেন ইং‌ল্যান্ডের এই ডারহাম শহরে। সেখানেই ক্রিকেটার হয়ে ওঠা তাঁর। 

শনিবার বিশ্বকাপ-সহ স্টোকসকে দেখার জন্য স্টেডিয়ামে ভিড় করেছিলেন সমর্থকেরা। ডারহামের খুদে ক্রিকেটাররাও তাঁর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য মুখিয়ে ছিল। স্বপ্নের নায়ককে দেখে এক খুদে ক্রিকেটারের চোখ থেকে জল পড়তে দেখে তাঁকে নিয়েই সারা মাঠ ভ্রমণ করেন ইংল্যান্ডের এই তারকা অলরাউন্ডার। 

দিনের শেষে বিশ্বকাপ ফাইনালের ম্যান অব দ্য ম্যাচের টুইট, ‘‘আমার ও মার্ক উডের কাছে এটি একটি বিশেষ দিন। ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে ভ্রমণ করার অনুভূতি বলে বোঝানো সম্ভব নয়। উত্তর-পূর্ব ইংল্যান্ডের মানুষেরা আমাদের ভালবাসায় ভরিয়ে দিয়েছেন।’’ এ দিনই টি-টোয়েন্টি লিগের ম্যাচ ছিল ডারহামের। যেখানে তাঁর দল জেতে। স্টোকস বলেন, ‘‘এই বিশেষ দিনে নিজের দলকে জিততে দেখে আরও ভাল লাগছে।’’

বিশ্বকাপে ৪৬৫ রান রয়েছে তাঁর। ব্যাটিং গড় ৬৬.৪২। পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে পাঁচটি হাফসেঞ্চুরি রয়েছে তাঁর। বেশি বল করার সুযোগ না পেলেও তিনি খারাপ করেননি। সাতটি উইকেট রয়েছে বিশ্বকাপে। এক দিন তাঁর জন্যই ইডেনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হারতে হয়েছিল ইংল্যান্ডকে। ২০১৬-র টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালের শেষ ওভারে স্টোকসের চার বলে চারটি ছয় মেরে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ তুলে দিয়েছিলেন কার্লোস ব্রাথওয়েট। ইংল্যান্ডের খলনায়ক হিসেবে ক্রিকেটবিশ্বের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন। তার পরে ব্রিস্টলের পানশালায় হাতাহাতিতে জড়িয়ে নির্বাসিত হয়ে অ্যাশেজ খেলা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল তাঁর। তখন ডারহামের মানুষেরা তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রুপ করেছিলেন। লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে যাওয়ার গল্প শুনিয়েছিলেন কেউ কেউ। শনিবার ব্রিস্টলের সেই ছবি দেখলে আগের স্মৃতি কেউ হয়তো মেলাতে পারবেন না। গতকালের খলনায়ক, আজ নায়কের বেশে। এবং তাঁর হাতে বিশ্বকাপ। 

ইংল্যান্ডের দুই স্বপ্নের নায়ককে দেখার জন্য প্রায় ছয় হাজার দর্শক উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের অনেকেই স্টোকসের সঙ্গে ছবি তোলার জন্য উদগ্রীব হয়ে পড়েছিলেন। ইংল্যান্ড অলরাউন্ডার তাঁদের যদিও হতাশ করেননি। গ্যালারির সামনে গিয়ে দর্শকাসনের এক জনের ফোন নিয়ে সবার সঙ্গে নিজস্বী তুলে তা টুইটারে আপলোড করতে বলেন স্টোকস। যাতে সবাই নিজেদের সেই ছবিতে ট্যাগ করে নিতে পারেন।