দোলা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে অতনু দাশ, রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে তৃষা দেব—যে রাজ্য থেকে বেড়ে উঠে তিরন্দাজির আন্তর্জাতিক পদক এনে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন, সেই বাংলা থেকেই এ বার অদ্ভুত কারণ দেখিয়ে জাতীয় প্রতিযোগিতায় দল পাঠানো হচ্ছে না।

অন্ধ্রপ্রদেশের বিজয়ওয়াড়ায় ২৩-২৮ অক্টোবর জাতীয় মিনি তিরন্দাজি প্রতিযোগিতা হচ্ছে। অনূর্ধ্ব ১৪-র প্রতিযোগিতায় দুটি বিভাগ আছে। একটি বিভাগ ১২ থেকে ১৪ বছরের জন্য নির্ধারিত, অন্যটি ৯ বছরের কম বয়সিদের। দেশের প্রায় সব রাজ্য দল পাঠালেও সেখানে যোগ দিচ্ছে না বাংলা। অথচ এই প্রতিযোগিতায় ভাল ফল করলে খেলো ইন্ডিয়ায় সুযোগ পেত বাংলার প্রতিশ্রুতিমান তিরন্দাজেরা। পদকও আসত বাংলায়।

ঝাড়গ্রামের রাজ্য অ্যাকাডেমি, দার্জির্লিং, কলিম্পং-সহ তিরন্দাজির যে কোচিং সেন্টারগুলো রয়েছে সেখানে কয়েকশো শিক্ষার্থী নিয়মিত প্রশিক্ষণ নেন। সম্প্রতি রাজ্য স্কুল প্রতিযোগিতায় তুহিন দাশ, আকাশ কুন্ডু, রূপক দাশরা পদক জিতেছেন। শুধু এরাই নয় অনন্যা রায়, জুয়েল সরকার, জয়ন্ত মাহাতো, সুদীপ রানারাও নামলে পদকের দাবিদার হতে পারতেন মত কোচেদের। কেন সেই সুযোগটা ওরা পাবে না? রাজ্য তিরন্দাজি সংস্থার সচিব রূপেশ করের প্রথমে জবাব ছিল, ওটা সর্বভারতীয় সংস্থার নথিভুক্তি টুনার্মেন্ট নয়। তাঁকে জানানো হয়, এটা যে অনুমোদিত টুনার্মেন্ট তার প্রমাণ-সহ চিঠি আনন্দবাজারের কাছে আছে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘আমরা কী ভাবে দল পাঠাবো? খরচ দেবে কে? রাজ্য সরকারের কাছ থেকে তো কোনও সহযোগিতা পাই না।’’ তাঁকে জানানো হয়, অন্তত তিন জন অভিভাবক জানিয়েছেন, যে-হেতু এটা জাতীয় প্রতিযোগিতা তাই দরকার হলে ছেলে-মেয়েদের স্বার্থে সব খরচ বহন করতে  প্রস্তুত। সঙ্গে সঙ্গেই রূপেশবাবু বলেন, ‘‘না, না ওখানে বয়স ভাঁড়ানো হয়। সে জন্যই আমরা দল পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছি। টুনার্মেন্ট বয়কট করেছি।’’ এই ‘বয়কট’ শব্দটাতেই প্রবল আপত্তি রয়েছে দোলা বন্দ্যোপাধ্যায়দের। দোলা বলছিলেন, ‘‘সংস্থার কর্তারা বয়কট করার কে? বয়সভিত্তিক সব প্রতিযোগিতাতেই বয়স নিয়ে সমস্যা হয়। বেশি বয়সের কেউ নামলে প্রতিবাদ করা যেত।’’