রঞ্জি ট্রফিতে বাংলার চরম ব্যর্থতার পরে কোচ-বিদায়ের পালা বোধহয় আসন্ন। জাতীয় টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে খোলনলচে বদলে দল নামানোর ভাবনা চিন্তাও শুরু হয়ে গিয়েছে বঙ্গ ক্রিকেট প্রশাসনে। 

জাতীয় ওয়ান ডে বিজয় হজারে ট্রফিতে জঘন্য পারফরম্যান্সের পরে রঞ্জি ট্রফিতেও কেন বাংলা শেষ আটে উঠতে পারল না, এই প্রশ্নে যখন উত্তাল রাজ্যের ক্রিকেট মহল, তখন অবশ্য তা নিয়ে উচ্চবাচ্য না করে সিএবি কর্তারা ব্যস্ত তাদের নতুন প্রতিযোগিতা কর্পোরেট ট্রফি নিয়ে। রঞ্জি ট্রফি থেকে বাংলা ছিটকে যাওয়ার পরের দিনই এই প্রতিযোগিতার নীল নকশা চূড়ান্ত রূপ পেল শুক্রবার। 

নতুন যে উদ্যোগ নিয়ে সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের দাবি, ‘‘এই প্রতিযোগিতায় খেলার জন্য বাংলার অন্তত ৫০-৬০ জন ক্রিকেটারের কর্মসংস্থান হবে।’’ রাজ্যের ক্রিকেটারদের কর্মসংস্থান, না বাংলার ক্রিকেটের উন্নতি, কোনটা এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ তাঁদের কাছে, সেটাই এখন প্রশ্ন। 

কেন রঞ্জিতে এই ব্যর্থতা, সিএবি-তে সরকারি ভাবে তার ময়না তদন্ত শুরু না হলেও ক্রিকেট প্রশাসনের কর্তা ও রঞ্জি দলের কোচ, সাপোর্ট স্টাফের মধ্যে এই নিয়ে ব্যক্তিগত আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে। যা থেকে জানা গেল কোচ সাইরাজ বাহুতুলের ছুটির ঘণ্টা প্রায় বেজেই গিয়েছে। ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে কটকে মুস্তাক আলি ট্রফিতেও দলের সঙ্গে তাঁর থাকার সম্ভাবনা বেশ ক্ষীণ বলে শোনা যাচ্ছে। বিজয় হজারে ট্রফির পরেও এমনই উপক্রম হয়েছিল। কিন্তু রঞ্জি ট্রফি দীর্ঘ ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা বলে দলের স্বার্থে সাইরাজকে না সরিয়ে তাঁর মাথার উপর অরুণ লালকে মেন্টর করে বসিয়ে দেওয়া হয়, তিনিই শেষ কথা বলবেন, এই অধিকার দিয়ে। কিন্তু রঞ্জি ট্রফিতেও লিগ পর্ব থেকে বাংলা ছিটকে যাওয়ার পরে আর বোধহয় তাঁকে সুযোগ দেওয়া হবে না।   

যদিও প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এখনই এই ব্যাপারে কিছু বলতে রাজি নন। কিন্তু সিএবি সূত্রের খবর, এমন ভাবনা-চিন্তাই নাকি চলছে। ঘনিষ্ঠ মহলে বাংলায় ফিরে আসার ব্যাপারে অনিচ্ছাও প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন ভারতীয় স্পিনার। এই মরসুমের পরেই তাঁর চুক্তির মেয়াদ সরকারি ভাবে শেষ হওয়ার কথা। তার আগেই তাঁর পাওনা মিটিয়ে তাঁকে বিদায় করে দেওয়া হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। 

মুস্তাক আলি ট্রফিতেও দলে অনেক পরিবর্তন আনা হতে পারে। মূলত তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়ে হয়তো গড়া হবে এই দল। বড়জোর দু-তিনজন সিনিয়র থাকতে পারেন সেই দলে। আর অরুণ লালই সম্ভবত হতে চলেছেন সেই দলের মেন্টর ও কোচ। পি সেন ট্রফি বন্ধ করে দিয়ে একই নামে যে কর্পোরেট ট্রফি হবে, তাতে বাংলার প্রায় সব নামী ক্রিকেটারেরই খেলার কথা। মূলত এই প্রতিযোগিতায় পারফরম্যান্স দেখেই জাতীয় টি টোয়েন্টির দল গড়া হবে বলে শোনা গেল। 

মুস্তাক আলিতে বাংলা খেলবে মিজোরাম (২১ ফেব্রুয়ারি), কর্নাটক (২২), হরিয়ানা (২৪), অসম (২৫), অরুণাচল (২৭), ছত্তীসগঢ় (২৮) ও ওড়িশার (২ মার্চ) বিরুদ্ধে।