বিশ্বকাপে ভারতীয় দলের চার নম্বরে কাকে খেলানো হবে তা নিয়ে সংশয় থেকে গিয়েছে। নির্বাচকেরা জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁদের ভাবনায় রয়েছেন বিজয় শঙ্কর। কিন্তু প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার দিলীপ বেঙ্গসরকরের মত, চার নম্বরে খেলানো হোক কে এল রাহুলকে। শুক্রবার সংবাদসংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাহুল জানিয়েছেন, দলের হয়ে যে কোনও জায়গায় নামতে তিনি প্রস্তুত। 

সাধারণত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ওপেনার হিসেবেই বেশি পরিচিত রাহুল। বিশ্বকাপে অতিরিক্ত ওপেনার হিসেবেই তিনি যাচ্ছেন। কিন্তু পরিস্থিতি যদি বাধ্য করে তাঁকে চার নম্বরে নামতে, তা হলে তিনি পিছু হটবেন না। রাহুল বলেছেন, ‘‘নির্বাচকেরা জানিয়ে দিয়েছেন, দলে আমি রয়েছি। দল যা চাইবে আমি তা করতে প্রস্তুত।’’

হেড কোচ রবি শাস্ত্রী আগেই বলে দিয়েছিলেন, ইংল্যান্ডে পরিস্থিতি ও পরিবেশ দেখেই দলগঠন করা হবে। এ বার বিশ্বকাপে যদি পরিস্থিতি বাধ্য করে রাহুলকে চারে খেলতে তা হলে নিশ্চয়ই না বলবেন না রাহুল। এমনিতেই ভারতীয় দলে ফেরার রাস্তা তাঁর কাছে খুব একটা সহজ ছিল না। গত ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট সিরিজে তাঁর ফর্ম ভাল ছিল না। দেশে ফেরার পরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজেও সে ভাবে রান পাননি। তার উপর কর্ণ জোহরের চ্যাট শো-এ হার্দিক পাণ্ড্যর সঙ্গে মহিলাদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করায় ভারতীয় দল থেকে নির্বাসিত হন। 

২৭ বছর বয়সি রাহুল সেই সময় কী করবেন বুঝে উঠতে পারছিলেন না। কিন্তু তাঁর ভিতরের যোদ্ধাসুলভ সত্তা হয়তো তখনও ফুরিয়ে যায়নি। ইংল্যান্ড লায়ন্সের বিরুদ্ধে ভারতীয় ‘এ’ দলের হয়ে খেলার সুযোগ পান রাহুল। সেখানেই ফর্ম ফিরে পান রাহুল। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজে প্রত্যাবর্তন ঘটে তাঁর। একটি ম্যাচে করেন ৫০ ও একটিতে ৪৭ রান। আর আইপিএলে রান সংগ্রাহকদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থেকে শেষ করেন। আইপিএল মরসুমে তাঁর রান ১৪ ম্যাচে ৫৯৩। 

কী ভাবে ফর্ম ফিরে পেলেন রাহুল? তাঁর উত্তর, ‘‘অস্ট্রেলিয়া সফরে রান না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। তার পরে বেশ কিছু সমস্যার সৃষ্টি হয়। ইংল্যান্ড লায়ন্সের বিরুদ্ধে সিরিজের সময় নিজেকে সময় দিই। বুঝতে পারি যে, দক্ষতার দিক দিয়ে কোনও সমস্যা নেই। দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজে রান পাওয়ার পরে কিছুটা স্বস্তিবোধ করি।’’

ইংল্যান্ড লায়ন্সের বিরুদ্ধে সিরিজ চলাকালীন রাহুল দ্রাবিড়ের সঙ্গে সময় কাটান রাহুল। দু’জনেই আলোচনা করে দেখেন, সে রকম কিছুই বদলানোর নেই। বলছিলেন, ‘‘বেশি পরিবর্তনে বিশ্বাস করি না। তাই নিজেও বেশি পরিবর্তন করিনি। যতটা সহজ ভাবে ব্যাট করা সম্ভব, ততটাই সহজ করার চেষ্টা করেছি।’’

ইংল্যান্ডের পরিবেশে মানিয়ে নিতে কোনও সমস্যা হবে? রাহুলের উত্তর, ‘‘গত বার এই সময়েই ইংল্যান্ডে খেলেছি। কী হতে পারে আমরা জানি। তাই আগের থেকে অনেক বেশি প্রস্তুত হয়ে যাব।’’