• নিজস্ব প্রতিবেদন
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

লকডাউনে স্বামীর পাশে: কেউ টুইটারে, কেউ কাঁচি হাতে

ধোনিকে নিয়ে বিতর্কের ঝড়ে সাক্ষীর পাল্টা তির

Dhoni-Sakshi
পাশে: করোনা নিয়ে বিশেষ তহবিলে ধোনির অর্থসাহায্য নিয়ে খবর ওড়ালেন সাক্ষী। বললেন, গুজব বন্ধ করুন।

২৮ মার্চ: এক দিকে করোনাভাইরাসের হানায় তাঁর ক্রিকেট ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। মনে করা হচ্ছিল, আইপিএলকে মঞ্চ করে ভারতীয় দলে প্রত্যাবর্তনের দাবি জোরালো করে তুলবেন। কিন্তু করোনার জেরে আইপিএল যদি বাতিলই হয়ে যায়, ধোনি সেই সুযোগটুকুও পাবেন না। 

এর মধ্যেই নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে আর্থিক অনুদান নিয়ে। খবর ছড়িয়েছিল, ধোনি নাকি ত্রাণ তহবিলে ১ লক্ষ টাকা দিয়েছেন। তা নিয়ে ঝড় বয়ে গিয়েছে গত চব্বিশ ঘণ্টায়। অনেকেই বলতে থাকেন, এত টাকা যিনি আয় করেন, তাঁর হাত দিয়ে মাত্র ১ লক্ষ টাকা জমা পড় কী ভাবে? অনেক ধোনি-ভক্ত পর্যন্ত বলতে থাকেন, এটা কী করলেন তিনি? 

করোনাভাইরাসের জন্য অর্থসংগ্রহের তহবিলে পুণের একটি ট্রাস্টের মাধ্যমে ধোনি ১ লক্ষ টাকা দেন বলে খবর ছড়াতে শুরু করে। যা দেখার পরে কেউ কেউ ধোনির প্রশংসা করেন অবদান রাখার জন্য। কিন্তু অনেকে সমালোচনার সুরে বলতে থাকেন, ৩৮ বছরের তারকা, যিনি ক্রিকেট খেলে প্রচুর আয় করেছেন, আরও বেশ অর্থসাহায্য করতে পারতেন। তুলনা করা হতে থাকে সচিন তেন্ডুলকর এবং সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সাহায্যের সঙ্গে। সচিন ৫০ লক্ষ টাকা দিয়েছেন, সৌরভ সমপরিমাণ টাকার চাল অনগ্রসরদের হাতে তুলে দেবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ দিন সুরেশ রায়না জানিয়েছেন, ৫২ লক্ষ টাকা দেবেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর তহবিলে। 

বিতর্ক বাড়তে থাকার মধ্যে সাক্ষী ধোনি এ দিন একটি টুইট করেছেন। তাতে তিনি সংবাদমাধ্যমকে এক হাত নিয়ে বলেছেন, ‘‘আমি সব মিডিয়াকে অনুরোধ করব, ভুল খবর যেন তারা প্রকাশ না-করতে থাকে। আমরা সকলেই খুব কঠিন একটা সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। এর মধ্যে এমন ভুল খবর না ছড়ানোই ঠিক হবে। যারা এমন খবর ছড়াচ্ছে, তাদের লজ্জা হওয়া উচিত। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা কোথায় হারিয়ে গেল!’’ সাক্ষীর টুইট মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক ধোনি-ভক্ত রিটুইট করতে থাকেন। 

যদিও তহবিলে অর্থসাহায্য নিয়ে সরাসরি কিছু বলেননি সাক্ষী। স্বামীকে নিয়ে সমালোচনার ঝ়ড়ের মধ্যে  টুইটারে এর আগেও পাল্টা জবাব দিয়েছেন সাক্ষী। শ্রীনিবাসন বোর্ড প্রেসিডেন্ট থাকার সময়ে আইপিএলের স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারি যখন ঘটেছিল, কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছিল চেন্নাই সুপার কিংসকে। শ্রীনির জামাই গুরুনাথ মাইয়াপ্পানের নাম জড়িয়ে গিয়েছিল ক্রিকেট জুয়ায়।   সিএসকে অধিনায়ক ধোনির দিকেও উড়ে এসেছিল অস্বস্তিকর সব প্রশ্ন। সাক্ষী ধোনি তখন জনপ্রিয় গানের কলি তুলে দিয়ে টুইট করেছিলেন, ‘কুছ তো লোগ কহেঙ্গে। লোগো কা কাম হ্যায় কহেনা’। তখনও সরাসরি না-বলেও বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, ছড়ানো গুজবে কান দেবেন না। 

ভারত এবং বিশ্বের ক্রিকেট মহলে অবশ্য ক্রিকেটার ধোনির ভবিষ্যৎ নিয়েও জোর চর্চা চলছে। জুনে বিশ্বকাপ খেলার পর থেকে আর ভারতীয় দলের জার্সিতে দেখা যায়নি তাঁকে। শেষ বার ব্যাট হাতে দেখা গিয়েছিল ম্যাঞ্চেস্টারে। সেমিফাইনালে নিউজ়িল্যান্ডের কাছে হেরে বিদায় নেয় কোহালির ভারত। রবীন্দ্র জাডেজার সঙ্গে জুটিতে ভারতকে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের স্বপ্ন দেখালেও শেষরক্ষা করতে পারেননি তিনি। রান আউট হয়ে চোখে জল নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল। 

তার পর থেকে আর ধোনিকে ক্রিকেট মাটে নামতে দেখা যায়নি। আইপিএলে দারুণ কিছু করতে পারলে নিঃসন্দেহে তাঁকে নিয়ে চর্চা ফিরে আসত। কিন্তু করোনাভাইরাসের জেরে আইপিএল যদি বাতিলই হয়ে যায়, সেই চর্চার আর অবকাশই থাকবে না। হালফিলে কে এল রাহুল সাদা বলের ক্রিকেটে উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজেকে দারুণ ভাবে প্রমাণ করেছেন। টিম ম্যানেজমেন্টের আস্থা জয় করেছেন। তাই আইপিএল বাতিল হয়ে গেলে সব চেয়ে ক্ষতি হতে পারে ধোনিরই। 

যদিও শনিবার পর্যন্ত যা খবর, বোর্ড অপেক্ষা করছে আগামী দু’সপ্তাহে পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়, তা দেখার জন্য। করোনা নিয়ে বিশ্ব এবং ভারতের হাল এই দু’সপ্তাহে অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যাবে। তার পর যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার নেওয়া হবে।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন