লর্ডসে মিতালি রাজ টস করতে নামার আগে থেকেই তাঁদের নিয়ে উন্মাদনা বাড়ছিল। শ্রীলঙ্কা থেকে বিরাট কোহালির টিম, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রাক্তন ক্রিকেটারেরা, বলিউড সুপারস্টার— কেউই বাকি ছিলেন না টুইট করে শুভেচ্ছা জানাতে। ভারতীয় ক্রিকেট টিমের পক্ষ থেকে টুইটারে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয় মেয়েদের শুভেচ্ছা জানিয়ে।

রাতে ছবিটা বদলে যায় ভারতের হারের পরে। তবে দেশজুড়ে হতাশার মধ্যে মেয়েদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন সচিন তেন্ডুলকর থেকে লিয়েন্ডার পেজ। সচিন যেমন টুইট করেন, ‘তোমাদের জন্য খারাপ লাগছে। গোটা টুর্নামেন্ট দারুণ খেললে। কিন্তু কখনও কখনও স্বপ্ন অধরাই থেকে যায়।’ প্রায় একই সুরে রোহিত শর্মার টুইট, ‘পুরো টুর্নামেন্টে দারুণ খেলেছ। একটা ম্যাচ হারলে ঠিকই, কিন্তু লক্ষ লক্ষ মানুষের হৃদয় জিতে নিয়েছ।’ লিয়েন্ডার পরামর্শ দিচ্ছেন, এই হারে যেন ভেঙে না পড়ে ভারতের মেয়েরা। তাঁর টুইট, ‘ফল যাই হোক না কেন, চ্যাম্পিয়ন তোমরাই। আমাদের গর্বিত করেছ। মাথা উঁচু রেখো।’ বলিউড তারকা অক্ষয় কুমার আপাতত লন্ডনে আছেন তাঁর ফিল্মের প্রচারে। ঠিক করে রেখেছিলেন, রবিবার লর্ডসে বসেই ফাইনাল দেখবেন। কিন্তু কোনও কারণে দেরি হয়ে যাওয়ায় ট্রেন প্রায় ফস্কে গিয়েছিল তাঁর। অবস্থা এমন দাঁড়ায় যে খালি পায়ে ট্রেনের পিছনে ছুটতে হয় অক্ষয়কে। টুইটারে নিজের এক ভিডিও পোস্ট করেছেন তিনি। সঙ্গে লিখেছেন, ‘দারুণ উত্তেজিত লাগছে। জীবনে কখনও খালি পায়ে ট্রেনের পিছনে ছুটিনি ম্যাচ দেখার জন্য। এখন ট্রেনে বসে আছি। প্রার্থনা করছি, ভারত যেন চ্যাম্পিয়ন হয়।’

সেই প্রার্থনা অবশ্য পুরো দেশ জুড়েই ছিল। কিন্তু কাজে আসেনি। বরং ভারতকে হারিয়ে দিয়ে গেলেন ইংল্যান্ডের পেসার আনিয়া শ্রুবসোলে। ছয় উইকেট তুলে নিয়ে। ম্যাচের সেরার পুরস্কার নিয়ে তিনি বলছিলেন, ‘‘অবিশ্বাস্য একটা খেলা হল। অনুভূতিটা বলে বোঝাতে পারব না। একটা সময় মনে হচ্ছিল, আমরা ম্যাচ থেকে হারিয়ে গিয়েছি। কিন্তু হরমনপ্রীত আউট হতেই আমরা ম্যাচে ফিরে আসি।’’ ছোটবেলায় ছেলেদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলা শুরু। ২৫ বছরের এই পেসার বলছিলেন, ‘‘এটা বিশ্বকাপ ফাইনাল। সর্বোচ্চ চাপের খেলা। নতুন ব্যাটসম্যানরা সব সময় চাপের মধ্যে থাকবে। আমরা জানতাম, দু’একটা উইকেট পড়লেই ভারত চাপে পড়ে যাবে।’’ ইংল্যান্ড অধিনায়ক হেদার নাইট বলেছেন, ‘‘ভারতকেও কৃতিত্ব দিতে হবে। ওরা দুর্দান্ত খেলেছে। পুনম তো খুব ভাল ব্যাট করল।’’