প্রাক্তন অস্ট্রেলীয় তারকা অ্যালান বর্ডার এই বিশ্বকাপে তিন জন অধিনায়কের উপর নজর রাখতে বলছেন। বিরাট কোহালি, অইন মর্গ্যান এবং তাঁর দেশের অ্যারন ফিঞ্চ। কেন, তা নিজে ব্যাখ্যাও করলেন।

বর্ডার নিজে কিংবদন্তি। সাতাশির বিশ্বজয়ী অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক ছিলেন। কোহালি কোন জায়গায় ফিঞ্চ বা মর্গ্যানের থেকে আলাদা, তা ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। মন্তব্য, ‘‘বিরাট একেবারেই অন্যরকম অধিনায়ক।’’ প্রাক্তন অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক বলেছেন, ‘‘কোহালি এমন একজন ক্রিকেটার, যে হইচই পছন্দ করে। ওর হৃদয়টাকে যেন জামার আস্তিনে ভরে রাখে।’’ কোহালিতে মোহিত বর্ডার সেখানেই না থেমে যোগ করেছেন, ‘‘ওর দলের ছেলেরা জানে, দমবন্ধ হওয়া অবস্থায় সামনা-সামনি যে কোনও পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে বিরাটই।’’

বর্ডার অবশ্য পছন্দের তিন অধিনায়ককে ক্রমতালিকায় ফেলতে চাননি। তিনি নিজে ১৭৮টি ওয়ান ডে-তে অস্ট্রেলিয়াকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। অধিনায়কদের নিয়ে তাঁর মূল্যায়ন যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। বর্ডারের খুবই পছন্দ মর্গ্যানকেও। এই মর্গ্যানের নেতৃত্বেই ইংল্যান্ড আইসিসি-র ওয়ান ডে র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে উঠেছে। ‘‘আমার মনে হয়, এই বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড খুবই ভাল কিছু করে দেখাবে। বোঝাই যাচ্ছে, ম্যাচ বা টুর্নামেন্ট নিয়ে ওদের পরিকল্পনাটা আলাদা। এবং সেটা ঠিক কী তা দেখার জন্য উন্মুখ হয়ে আছি। সন্দেহ নেই মগ্যার্নের জন্যই ওরা এখন আরও ভয়ঙ্কর একটা দল। আর ওদের বিরুদ্ধে বল করার সময় যে কোনও দলের বোলাররাই চাপে থাকবে বলে আমার বিশ্বাস।’’ 

মগ্যার্নের ইংল্যান্ড নিয়ে বর্ডার আরও বলেছেন, ‘‘বলছি না ওরা ম্যাচ হারবে না। সেটা হতেই পারে। কিন্তু তার জন্য ইংল্যান্ডের সেমিফাইনালে যাওয়া আটকাবে না। একটা-দু’টো ম্যাচ হারলেও ঠিক শেষ চারে পৌঁছে যাবে মগ্যার্নরা।’’ সঙ্গে যোগ করেছেন, ‘‘এখন তো অনেক অধিনায়ককেই দেখছি। তার মধ্যে মগ্যার্নকে আমার বেশ ভালই মনে হয়। ওয়ান ডে-টাও দাপটের সঙ্গে খেলে। এটাও বলব যে, কোচ ট্রেভর বেলিস আর মগ্যার্নের রণনীতিও দারুণ। যে কোনও দলই যা সামলাতে গিয়ে বড় সমস্যায় পড়তে পারে।’’

তাঁর নিজের দেশ অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ প্রসঙ্গে বর্ডারের মন্তব্য, ‘‘আমি তো বলব, ফিঞ্চ এখন অধিনায়ক হিসেবে দারুম কাজ করছে। সতীর্থরাও পাশে থাকছে। সেটা ওর নেতৃত্ব দেওয়ার সহজাত ক্ষমতার জন্যই। দলের সকলে ওর নেতৃত্বে একজোটও হচ্ছে। সেটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ।’’ যোগ করছেন, ‘‘আমাদের দলের প্রত্যেকে জানে কাকে কী করতে হবে। এটা একজন অধিনায়কের বিরাট সুবিধা। তাতে দলের পরিবেশেও শৃঙ্খলা থাকে। ট্যাকটিক্যাল দিকগুলোর কথা ভেবে বলতে পারি, কোহালি, ফিঞ্চ, মগ্যার্ন— তিন জনই এই বিশ্বকাপে চমকে দিতে পারে।’’