নেপালের বিরুদ্ধে শনিবার ভারতীয় মহিলা ফুটবল দলের দুরন্ত জয়ের উচ্ছ্বাস থেমে গিয়েছিল মায়ানমার গ্রুপের শীর্ষ স্থান দখল করায়। গোল পার্থক্যে এগিয়ে থাকায় অলিম্পিক্সের যোগ্যতা অর্জন পর্বের তৃতীয় রাউন্ডে ইতিমধ্যেই পৌঁছে গিয়েছে তারা। এই মুহূর্তে যা পরিস্থিতি তাতে মঙ্গলবার মায়ানমারের বিরুদ্ধে জিততেই হবে ভারতকে।

অগ্নিপরীক্ষার ম্যাচের আগে কোচ মেমল রকির প্রধান লক্ষ্য ফুটবলারদের চাপমুক্ত রাখা। এ দিন অবশ্য অনুশীলন ছিল না ভারতীয় দলের। তবে ক্লান্তি কাটাতে রিকভারি সেশনে যোগ দেন ফুটবলারেরা। অধিনায়ক আশালতা দেবী কিন্তু উদ্বেগ চেপে রাখতে পারলেন না। তিনি বলেছেন, ‘‘মায়ানমারের বিরুদ্ধেই আমাদের মরণ-বাঁচন লড়াই। এই গ্রুপে ওরাই সব চেয়ে শক্তিশালী দল। তবে কোনও ম্যাচই সহজ নয়।’’

অলিম্পিক্সের যোগ্যতা অর্জন পর্বে দ্বিতীয় রাউন্ডের আয়োজক এ বার মায়ানমার। মঙ্গলবার ঘরের মাঠে নিজেদের দর্শকদের সামনে খেলার সুবিধে পাবে তারা। ফিফা র‌্যাঙ্কিয়েও ভারতের চেয়ে ১৯ ধাপ এগিয়ে মায়ানমারের মহিলা ফুটবল দল। ভারত এই মুহূর্তে ৬৩ নম্বরে। মায়ানমার ৪৪ তম স্থানে। যোগ্যতা অর্জন পর্বের প্রথম পর্বেও একই গ্রুপে ছিল দুই দল। ২০১৮ সালের ১৩ নভেম্বর সেই ম্যাচে ১-২ হেরেছিল ভারত। তবে গ্রুপে রানার্স হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেছিলেন সঙ্গীতা বাশফোর-রা। ভুবনেশ্বরে গোল্ড কাপেও ০-২ হেরেছিলেন তাঁরা। আশালতা বলছেন, ‘‘আমরা ধারাবাহিক ভাবে ভাল খেলছি। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছি। তুরস্ক কাপে বিভিন্ন শক্তিশালী দেশগুলোর বিরুদ্ধে খেলে প্রস্তুতি নিয়েছি। মায়ানমার এশিয়ার অন্যতম সেরা দল ঠিকই, তবুও আমরা আশা ছাড়ছি না।’’

ভারতীয় দলের কোচের মতে ফুটবলে কোনও কিছুই অসম্ভব নয়। তাঁর প্রধান ভরসা সিনিয়র দলে সুযোগ পাওয়া জবামণি টুডু, রোজা দেবী ও মনীষা। তিনি বলেছেন, ‘‘ওরা তিন জনই দারুণ প্রতিশ্রুতিমান। রক্ষণে জবামণি ক্ষিপ্র। রোজা প্রচণ্ড গতিতে উইং দিয়ে উঠে বিপক্ষের রক্ষণে ঢুকে পড়ে। মনীষা শারীরিক ভাবে দারুণ শক্তিশালী। সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দেয়। এই তিন জন ভবিষ্যতে ভারতীয় দলের সম্পদ হয়ে উঠতে পারে। তবে ওদের এখন 

অনেক দূর যেতে হবে।’’