ইগর স্তিমাচের দলকে এ বার খেলতে দেখা যেতে পারে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে। সব কিছু ঠিকঠাক চললে ৫ সেপ্টেম্বর প্রাক-বিশ্বকাপের যোগ্যতা নির্ণায়ক পর্বের উদ্বোধনী ম্যাচে সুনীল ছেত্রীদের খেলতে দেখা যেতে পারে ওমানের বিরুদ্ধে। 

প্রাক-বিশ্বকাপের জন্য সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন চারটি ম্যাচের জন্য যে তিনটি মাঠকে প্রাথমিক ভাবে বেছে নিয়েছে, তার মধ্যে এগিয়ে আছে যুবভারতী। অন্য দুটি মাঠ হল মুম্বই ও আমদাবাদ। বেঙ্গালুরুর কান্তিরাভা স্টেডিয়ামকেও রাখা হয়েছিল তালিকায়। কিন্তু কর্নাটক অ্যাথলেটিক্স অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে মাঠ নিয়ে মামলা চলছে বেঙ্গালুরুর। যা পরিস্থিতি, তাতে আইএসএল খেলার জন্য সুনীল ছেত্রীদের ক্লাবকে অন্য মাঠ খুঁজতে হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে আমদাবাদ তাদের প্রথম পছন্দ। কিন্তু আমদাবাদে আন্তর্মহাদেশীয় কাপ আয়োজন করতে গিয়ে ফেডারেশন কর্তাদের মাথায় হাত পড়ে গিয়েছে। সেখানে ম্যাচ সংগঠনের জন্য যে কোনও স্টেডিয়ামের চেয়ে দ্বিগুণ খরচ হয়েছে। প্রাক বিশ্বকাপের জন্য তাই আমদাবাদকে তিন নম্বরে রাখা হয়েছে। ফেডারেশন কর্তাদের প্রথম পছন্দ কলকাতা অথবা মুম্বই।     

যুবভারতীতে ভারতের জাতীয় ফুটবল দল শেষ ম্যাচ খেলেছিল ২০১১ সালে। সেই প্রস্তুতি ম্যাচে ৩-২ গোলে মালয়েশিয়াকে হারিয়েছিল ভারত। গোল করেছিলেন সুনীল ছেত্রী এবং জেজে লালপেখলুয়া। তার পরে আট বছর ভারতের কোনও ম্যাচ কলকাতায় হয়নি। ফেডারেশন এক কর্তা শুক্রবার দিল্লি থেকে ফোনে বললেন, ‘‘উদ্বোধনী ম্যাচ কলকাতায় করার ইচ্ছে আমাদের। কারণ অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে ভারত না খেলা সত্ত্বেও মাঠ ভর্তি করে দর্শক এসেছিলেন খেলা দেখতে। শুধু তাই নয়, আই লিগ এবং আইএসএলের ম্যাচেও ভাল দর্শক হয়।’’ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও জানা গিয়েছে উদ্বোধনী ম্যাচ মুম্বইতে সরে গেলে ভারত বনাম বাংলাদেশ (১৫ অক্টোবর) এবং পরের বছর ভারত বনাম কাতারের (২৬ মার্চ ২০২০) ম্যাচ হতে পারে যুবভারতীতে।

আন্তর্মহাদেশীয় কাপের পরে জাতীয় শিবিরের নির্বাচিত ফুটবলারদের ছুটি দিয়েছেন ইগর স্তিমাচ। ফের শিবির শুরু হবে ১৮ অগস্ট। ফেডারেশন সূত্রের খবর, ক্লাব ফুটবলের স্থানীয় বিভিন্ন লিগ শুরু হলে সেগুলোর উপর নজর রাখবেন ক্রোয়েশিয়ান কোচ। সেখান থেকে কাউকে ভাল লাগলে শিবিরে ডাকা হবে। প্রাক বিশ্বকাপে ঘরের মাঠে উদ্বোধনী ম্যাচ খেলে কাতারে চলে যাবেন উদান্ত সিংহ, প্রীতম কোটালরা। সেপ্টেম্বরের দুটি ম্যাচের পর সুনীলদের দেশে ফিরে অক্টোবরে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ম্যাচ। 

তার মধ্যেই সুপার কাপ হবে বলে ঠিক করেছিল ফেডারেশন। কিন্তু আই লিগের ক্লাব জোট বনাম ফেডারেশনের লড়াই এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সুপার কাপ হবে কী না তা নিয়ে ধন্দ রয়েছে। কারণ আই লিগ ক্লাবগুলি ওই টুনার্মেন্ট খেলতে আগ্রহী নয়। সেটা তারা ফেডারেশনকে জানিয়েও দিয়েছে। সুপার কাপ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় সমস্যায় আইএসএলের ক্লাবগুলি। কারণ তারা ঠিকই করতে পারছে না কবে থেকে শুরু করবে প্রাক মরসুম প্রস্তুতি।