কে এল রাহুলের শটটা মহম্মদ নবির মাথার ওপর দিয়ে বাউন্ডারিতে পৌঁছতেই ভিআইপি গ্যালারিতে লাফিয়ে উঠলেন প্রীতি জ়িন্টা। তখনও ম্যাচটা অবশ্য জেতা হয়নি কিংস ইলেভেন পঞ্জাবের। তবে অঙ্কটা সহজ হয়ে যায় ওই বাউন্ডারির পরে। শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ১১। রাহুলের ওই শটের পরে হিসেবটা দাঁড়ায় দু’বলে দুই। পঞ্চম বলে ডেভিড ওয়ার্নার ঠিক মতো ফিল্ডিং করতে না পারায় দুই রান তুলে নিতে সমস্যা হয়নি পঞ্জাব ব্যাটসম্যানদের। চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে হারের ধাক্কা সামলে ফের জয়ে ফিরল দল। প্রীতির মুখেও ফুটল তৃপ্তির হাসি। 

সোমবার মোহালিতে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে পঞ্জাবের ছয় উইকেটে এই জয়ের পিছনে রয়েছে কে এল রাহুলের (৫৩ বলে অপরাজিত ৭১) ইনিংস। রাহুলের সঙ্গে এ দিন ভাল খেলে গেলেন মায়াঙ্ক আগরওয়ালও (৫৫)। পরে রাহুল জানিয়ে গেলেন, আঙুলে চোট নিয়ে খেলেছেন মায়াঙ্ক। ম্যাচের সেরা রাহুল বলেন, ‘‘আমি আর মায়াঙ্ক ছোটবেলা থেকে খেলছি। ওর ইনিংসটা আমাকে সময় দিয়েছিল। মায়াঙ্কের আঙুলে চোট লেগেছিল। ওই অবস্থায় যে ব্যাটিংটা ও করল, তা এক কথায় অসাধারণ।’’

তবে শেষ দিকে ম্যাচ হঠাৎ করে কঠিন হয়ে গিয়েছিল। ন’রানের মধ্যে তিন উইকেট পড়ে যায় পঞ্জাবের। শেষ পর্যন্ত মাথা ঠান্ডা রেখে ম্যাচ বার করে নেন রাহুল। পরে টিভি-তে ব্রায়ান লারা বলছিলেন, ‘‘রাহুলের উচিত ছিল ম্যাচটা আরও আগে শেষ করে দেওয়া। শুরুতে ব্যাট করতে নামলে স্ট্রাইক রেট আরও বাড়াতে হবে।’’

এই ম্যাচ জিতে লিগ তালিকায় তিন নম্বরে উঠে এল পঞ্জাব। আবার শুরুর দিকে ভাল ছন্দে থাকা হায়দরাবাদ পরপর দুটো ম্যাচ হেরে চার নম্বরে নেমে এল। পঞ্জাব অধিনায়ক আর অশ্বিন ম্যাচের পরে বলেন, ‘‘আমাদের বোলাররা পরিকল্পনা অনুযায়ী বল করেছে। ডেভিড ওয়ার্নারকে আমরা তাই আটকে রাখতে পেরেছিলাম।’’ 

এই আইপিএলের অন্যতম সেরা ওপেনিং জুটি হায়দরাবাদেরই। জনি বেয়ারস্টো-ওয়ার্নার। কিন্তু পঞ্জাবের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ওভারেই ফিরে যান বেয়ারস্টো। ওয়ার্নার শেষ পর্যন্ত থেকে গেলেও সেই বিধ্বংসী মেজাজে পাওয়া যায়নি অস্ট্রেলিয়ার ওপেনিং ব্যাটসম্যানকে। ওয়ার্নার ৬২ বলে ৭০ রানে অপরাজিত ছিলেন। হায়দরাবাদ ২০ ওভারে তোলে চার উইকেটে ১৫০। শেষ পর্যন্ত যা যথেষ্ট হয়নি। 

এই ম্যাচে দলে ফিরে এসে দ্বিতীয় ওভারেই বল করতে আসেন আফগানিস্তানের স্পিনার মুজিব উর রহমান। সেই ওভারেই ফিরিয়ে দেন বেয়ারস্টোকে। মোহালিতে লড়াই ছিল তিন আফগান স্পিনারের। পঞ্জাবের মুজিব বনাম হায়দরাবাদের নবি ও রশিদ খানের। যে লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসলেন মুজিবই।    

ম্যাচের পরে হায়দরাবাদ অধিনায়ক ভুবনেশ্বর কুমার বলেন, ‘‘প্রচুর শিশির পড়ছিল মাঠে। সেই অবস্থার মধ্যেও আমাদের বোলাররা ভাল বল করেছে। তবে স্লোয়ার এবং ইয়র্কার দিতে সমস্যা হয়েছে।’’ শিশির যে বোলারদের সমস্যা করেছে, তা স্বীকার করছেন পঞ্জাব অধিনায়ক অশ্বিনও। তিনি বলছিলেন, ‘‘প্রথম ১০ ওভারে আমরা খুব একটা রান দিইনি। পরের দিকে একটু রান বেশি উঠেছে। কিন্তু তার জন্য বোলারদের দোষ দিয়ে লাভ নেই। শিশির পড়ায় ওদের  সমস্যা হচ্ছিল।’’ 

অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়ে ম্যাচের সেরা রাহুল টিভি-তে বলছিলেন, ‘‘এ বারের আইপিএলে আমার শুরুটা সে রকম ভাল হয়নি। কিন্তু এখন ছন্দ ফিরে পেয়েছি। যে ক’টা হাফসেঞ্চুরি করেছি, সবই রান তাড়া করতে নেমে। রান তাড়া করতে ভালই লাগছে।’’ এই ম্যাচ জিতে প্লে-অফের দৌড়ে চলে এল প্রীতির পঞ্জাব।