নিজের ক্রিকেট জীবনে তিনি নিজে ওজন এবং চোট সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগেছেন। প্রাক্তন অস্ট্রেলীয় পেসার এবং  কিংস ইলেভেন পঞ্জাবের বোলিং কোচ রায়ান হ্যারিস তাই স্বাগত জানাচ্ছেন নতুন রূপের, কোগা চেহারার মহম্মদ শামিকে। বলে দিচ্ছেন, ভারতীয় পেসারের ফিটনেসে অভাবনীয় উন্নতি দেখে তিনি মুগ্ধ। 

যশপ্রীত বুমরার সঙ্গে গত বারো মাসে ভারতীয় দলের দুরন্ত পেস বোলিং সাফল্যের অন্যতম স্তম্ভ শামি। চোট-আঘাত থেকেও দূরে থাকতে পেরেছেন তিনি। 

আইপিএলে কোচিং করতে এসে যা চোখ এড়াচ্ছে না হ্যারিসের। ২০১৩-১৪ মরসুমে অ্যাশেজে ইংল্যান্ডকে ৫-০ হারানো অস্ট্রেলিয়া দলের অন্যতম সদস্য বলছেন, ‘‘আমাকে খুব বেশি শামিকে নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে না। ও নিজে থেকেই যা করার করছে। আমাদের গ্রুপে দারুণ ভূমিকা রয়েছে ওর। সকলের সঙ্গে কথা বলছে, পরিকল্পনা করছে। আমার সঙ্গে কথা বলছে। আমাদের দলের অনেকেই ওর সঙ্গে কথা বলে বোলিংকে ক্ষুরধার করার চেষ্টা করছে। এই মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম সেরা পেসার ও। সবার সেরাও বলা যেতে পারে।’’ 

কী ভাবে নিজেকে এত ধারালো করে তুললেন শামি? সেই কাহিনি শুনিয়েছেন প্রীতি জিন্টার দলের বোলিং কোচ। বলেছেন, ‘‘যখন পঞ্জাব দলে যোগ দিলাম, শামি আমার কাছে গল্প করল, কী ভাবে ও ৭-৮ কিলো ওজন ঝরিয়ে ফেলেছে। চেন্নাইয়ে গরমের মধ্যে ও ট্রেনিং করেছে। যাতে ওজন কমাতে পারে।’’ তার পরেই নিজের উদাহরণ টেনে হ্যারিস বলেন, ‘‘ক্রিকেটজীবনে একটা সময়ে আমারও ওজন বেড়ে গিয়েছিল। তাই আমি খুব ভাল করে জানি, ছিপছিপে থাকতে পারলে কত তফাত হয়। ছিপছিপে, ফিট থাকলে লম্বা স্পেল বোলিং করা যায়। শামির ক্ষেত্রে সেটাই হচ্ছে। দারুণ গতিতে বল করছে। খুব ধারাবাহিকতা এসেছে ওর বোলিংয়ে। সেটা দেখতে আমাদের দারুণ লাগছে।’’ 

অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাস সৃষ্টিকারী টেস্ট সিরিজ জয়ে অন্যতম প্রধান স্থপতি ছিলেন শামি। তিনি এবং যশপ্রীত বুমরা মিলে আতঙ্ক তৈরি করেছিলেন অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যানদের মনে। ‘‘ওরা দু’জনে (বুমরা ও শামি) গতির জুটি হিসেবে দারুণ করছে। বুমরা একটু অন্য রকম। শামি ছন্দময়। স্টাম্পে বল করে যেতে পারে। ভারতীয় বোলিং আক্রমণ এখন দারুণ,’’ বলছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন বোলার। বুমরাকে নিয়ে যোগ করছেন, ‘‘ওর বোলিং অ্যাকশন নিয়ে নানা পরামর্শ শুনতে পাচ্ছি। অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট সিরিজের সময়ে ধারাভাষ্যকারদের কেউ কেউ তাদের মতামত জানাচ্ছিলেন। আমার মনে হয়, বুমরা একদম ঠিক আছে।’’ 

অশ্বিনের মাঁকড়ীয় ভঙ্গিতে আউট করা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। হ্যারিস বলেন, ‘‘এটা অধিনায়কের উপর নির্ভর করছে, আউটটা করবে কি করবে না। অশ্বিন করতে চেয়েছে। মনে রাখা দরকার যে, ব্যাটসম্যানকেও তার ক্রিজের মধ্যে থাকতে হবে। সেটাই নিয়ম। আর তা যদি ব্যাটসম্যানেরা থাকে, তা হলে কেউ তো আ ওই আউটটা করতে পারবে না।’’ হ্যারিসের সংযোজন, ‘‘কয়েক জন ব্যাটসম্যান আছে, যারা এই অন্যায় সুবিধে নেওয়ার চেষ্টা করে। এক বার তাকে সতর্ক করা যেতে পারে। না শুনলে বোলারের অধিকার আছে রান আউট করার।’’ 

যদিও জস বাটলারের আউটের ক্ষেত্রে এই প্রশ্নই উঠেছে যে, অশ্বিন তাঁকে সাবধান করেছিলেন কি না। আবার ক্রিকেট আইনে কোথাও বলা নেই, ব্যাটসম্যানকে সতর্ক করতেই হবে। বিতর্ক চলছেই যে, এই ধরনের আউট অখেলোয়াড়ি মনোভাবের পরিচায়ক কি না।