• দেবাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

কোহালির দলে রিয়ানকে দেখতে চান গর্বিত বাবা

Parag
চমক: আইপিএলে সাড়া ফেলেছে ১৭ বছর বয়সি রিয়ান। ছবি পিটিআই।

অনূর্ধ্ব-১৬ জাতীয় স্কুল ক্রিকেটে অসমের রাজ্য দলে তাঁর জায়গা হয়েছিল মাত্র আট বছর বয়সেই। কিন্তু মুম্বইয়ে গিয়ে বয়সের কারণেই খেলা হচ্ছিল না তাঁর। আয়োজকদের আশঙ্কা ছিল, বাচ্চা ছেলে চোট পেয়ে যেতে পারে। শেষমেশ গুয়াহাটি থেকে উড়ে গিয়ে সেই খুদে ক্রিকেটারের বাবা পরাগ দাস মুচলেকা দেওয়ায় তবে জাতীয় স্কুল ক্রিকেটে খেলা হয়েছিল রিয়ান দাসের। 

সেই রিয়ান দাস, বৃহস্পতিবার রাতে যাঁর ৩১ বলে ৪৭ রান ইডেনে প্রায় চূর্ণ করে দিয়েছে শাহরুখ খানের দলের এ বারের আইপিএলে প্লে-অফ খেলার স্বপ্ন। রিয়ানের ৩১ বলে সেই ৪৭ রানের পরে প্রশংসার বন্যা বইছে ভারতীয় ক্রিকেটে। স্টিভ স্মিথ থেকে অজিত আগারকর সকলেই তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

যা দেখে হাসছেন রিয়ানের বাবা। যিনি নিজেও প্রাক্তন ক্রিকেটার। রেলওয়েজের হয়ে রঞ্জি ট্রফিতে খেলেছেন মহেন্দ্র সিংহ ধোনির সঙ্গে। শুক্রবার সকালে ফোনে যোগাযোগ করা হলে ছেলের সাফল্যে খুশির মেজাজ তাঁর গলায়। বিনয়ের সঙ্গে বলেন, ‘‘জাতীয় দলে খেলার মতো প্রতিভা আমার ছিল না। কিন্তু আমার ছেলে সেই প্রতিভা নিয়ে জন্মেছে। পৃথ্বী শ, কমলেশ নগরকোটিদের সঙ্গে আমার ছেলে যুব বিশ্বকাপ জিতেছে। ক্রিকেটার তৈরির জন্যই রিয়ানকে ছোট থেকে তৈরি করেছি। ইডেনে ও নাইটদের বিরুদ্ধে যে ইনিংস খেলেছে তা সিনিয়র পর্যায়ে চোখে পড়ার প্রথম ধাপ। দেশের হয়ে খেলতে গেলে এখনও অনেক রাস্তা হাঁটতে হবে ওকে।’’ কী ভাবে বুঝলেন রিয়ানের ঝোঁক ক্রিকেটে? পরাগবাবু বললেন,  ‘‘ছেলের যখন ১৬ মাস বয়স তখনও আমি খেলতাম। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে শ্যাডো করতাম। রিয়ানের একটা ছোট খেলনা ব্যাট ছিল। তা দিয়েই ও আমাকে দেখে শ্যাডো করত।’’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘‘তখন মালিগাঁও রেল কোয়ার্টারে থাকতাম। সংলগ্ন মাঠে একটা কংক্রিটের পিচ ছিল। সেখানেই ব্যাকফুট ডিফেন্স, ফ্রন্টফুট ডিফেন্সের প্রথম পাঠ ওকে দিই। দেখতাম মন দিয়ে অনুশীলন করছে। তার পরে খারগোলিতে ফ্ল্যাট কিনে আসার পরে নেহরু স্টেডিয়ামে ভিসিসি কোচিং সেন্টারে ওকে ভর্তি করে দিই।’’ অসমের অনূর্ধ্ব-১৪ ক্রিকেটে পরপর দু’ম্যাচে শতরান করে প্রথম জাতীয় স্পটার সন্দীপ পাটিলের চোখে পড়ে রিয়ান, এমনটাই দাবি তাঁর বাবার। তার পরে অনূর্ধ্ব-১৯ ভারতীয় দলের সঙ্গে ইংল্যান্ডে গিয়ে চারটি ইনিংসে তিনটি পঞ্চাশ করে রিয়ান চোখে পড়ে জাতীয় জুনিয়র নির্বাচকদের। তার পরেই যুব বিশ্বকাপের দলে নির্বাচিত হয়।

পরাগবাবু বলে চলেন, ‘‘এ বার চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে ধোনির কাছে গিয়ে আমার কথা বলেছিল রিয়ান। শুনে মাহির হাসি থামতেই চায় না। ছেলে বলল, তখনই ইমরান তাহির ও ডোয়েন ব্র্যাভোকে ডাকে ধোনি। হাসতে হাসতে বলে, ওর বাবার সঙ্গে খেলেছি। এখন ওর সঙ্গেও খেলছি। তোরা ভাব একবার...।’’

তবে দাস পরিবার এই সাফল্যের দিনেও ভুলছেন না জুনিয়র দলের কোচ রাহুল দ্রাবিড়কে। রিয়ানের মা মিঠু বড়ুয়া প্রাক্তন আন্তর্জাতিক সাঁতারু। বাংলার প্রাক্তন সাঁতারু বুলা চৌধুরীর সতীর্থ। তিনি বললেন, ‘‘প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আমার ছেলের কোচ দু’জন। ওর বাবা আর রাহুল স্যার (রাহুল দ্রাবিড়)।’’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘‘গত বছর শিবম মাভি, কমলেশ নগরকোটি, পৃথ্বী শ-রা আইপিএলে দল পেয়েছিল। আমার ছেলেকে কেউ নেয়নি। দিন কয়েক খুব মুষড়ে ছিল। এর পরেই রাহুল ভাইকে ফোন করে। তিনি সে দিন বলেছিলেন, ভালই হয়েছে। এখনও শর্ট বলে তোমার কিছু সমস্যা আছে। সেগুলো শুধরে নাও। তোমার সময়ও আসবে। আর রোজ তিরিশ মিনিট করে ধ্যান করো। সাফল্য পেতে গেলে মনটাকে একাগ্র করতে হবে আগে। আজও রিয়ান সেটা মেনে চলেছে।’’

এ বার রিয়ানের বাবা বলতে থাকেন,  ‘‘তার পরেই ছেলেকে শর্ট বলে দক্ষ করার কাজ করেছি। জলে ভিজিয়ে ক্যাম্বিস বল ১৭-১৮ গজ থেকে ছুড়ে অনুশীলন করিয়েছি। তালিম দিয়েছি, ব্লক হোলে বল পড়লে সেগুলোকে কী ভাবে খেলতে হবে। শিখিয়েছি ‘দিল স্কুপ’-এর মতো উদ্ভাবনী শট। রিয়ানও বাধ্য ছাত্রের মতো সেগুলো শিখেছে। এ বার আইপিএল খেলতে পেরে ও খুব খুশি।’’ পরের লক্ষ্য? পরাগবাবু বলেন, ‘‘অসম থেকেই ছেলেকে সিনিয়র জাতীয় দলে ঢুকতে হবে। অন্য কোনও রাজ্য থেকে নয়। অসমের জন্যই উইকেট পেলে ও বিহু নাচে। ইডেনেও ব্যাট করার সময় অসমের ‘গামোসা’ (গামছা) রুমাল হিসেবে কোমরে ছিল ওর। ছেলে বিরাট কোহালির ভারতীয় দলের সঙ্গে নামছে এখন সেই স্বপ্নই  

দেখছি আমরা।’’  

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন