নিখুঁত লাইনে বল করা। ঝাড়খণ্ডের বাঁ-হাতি স্পিনার শাহবাজ় নাদিমের এটাই সেরা অস্ত্র। আইপিএলে তাঁর দল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। বিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের বেঁধে রাখতে নাদিমের নির্ভুল নিশানায় বোলিংকেই কাজে লাগাচ্ছে সানরাইজার্স। আর ধোনির রাজ্যের এই বোলার তাঁর সাফল্যের জন্য কৃতিত্ব দিচ্ছেন ‘মেন্টর’ মুথাইয়া মুরলীধরনকে।

ভারতীয় ‘এ’ দলে তিনি নিয়মিত সদস্য। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে উইকেট পাচ্ছেন অনেক দিন। তবে আইপিএলে দিল্লি দলে থাকার সময় তাঁর সেই ধারাবাহিকতা দেখা যায়নি। নাদিমের দাবি, সানরাইজার্সে তাঁর উন্নতির কারণ মুরলীর গুরুত্বপূর্ণ  পরামর্শ। বলেছেন, ‘‘মুরলীর কাছে স্পিন বোলিং শিখতে পারাটা অসাধারণ অভিজ্ঞতা। সেগুলোই কাজে লাগানোর চেষ্টা করছি। উনিই আমাকে পরামর্শ দিয়েছেন, বেশি বৈচিত্রের দরকার নেই। নিজের শক্তি অনুযায়ী বোলিং করে যাও।’’

এই মুহূর্তে কব্জির সাহায্যে যাঁরা স্পিন করেন, তাঁদেরই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে। ভারতে যজুবেন্দ্র চাহাল ও কুলদীপ যাদব। পাকিস্তানে ইয়াসির শাহ। ইংল্যান্ডে আদিল রশিদ। অস্ট্রেলিয়ায় অ্যাডাম জাম্পা। এঁদের নিয়ে আগ্রহ বেশি। যা নিয়ে নাদিমের বক্তব্য, ‘‘মনে হয় আঙুলের সাহায্যে স্পিন করা বা কব্জি-স্পিনার হওয়াটা বড় বিষয় নয়। আসল ব্যাপার হচ্ছে সফল হওয়া এবং ধারাবাহিকতা দেখানো। নিয়মিত  উইকেট পেলে সুযোগ আসবেই।’’

ঘরোয়া ক্রিকেটে সাফল্যের জন্য নাদিম ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি দলে সুযোগ পান। যা নিয়ে তাঁর বক্তব্য, ‘‘জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ে খুশি হয়েছিলাম। সেটা বিরাট ব্যাপার।’’ স্কোয়াডে থাকলেও প্রথম এগারোয় অবশ্য তাঁর জায়গা হয়নি। নাদিম কিন্তু ভেঙে পড়ছেন না। তাঁর কথা, ‘‘সুযোগ না পেলে আরও ভাল বল করতে হবে ভেবে নিজেকে উদ্বুদ্ধ করি। জানি, সেটা পারলে ভারতের প্রথম দলে সুযোগ পেতে পারি।’’ 

নাদিম জানিয়েছেন, ভারতীয় দলে কোচ রবি শাস্ত্রী তাঁর বোলিং নিয়ে আগ্রহ দেখান। রবি নিজেও বাঁ-হাতি স্পিনার ছিলেন। ‘‘জাতীয় শিবিরে থাকার অভিজ্ঞতাটা দারুণ। রবি শাস্ত্রী আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। উনিও আমাকে অনেক পরামর্শ দিয়েছিলেন।’’