• শিশির ঘোষ
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

‘মেসি না খেললে আর্জেন্তিনা খুব সাধারণ মানের’

Isco
উৎসব: হ্যাটট্রিকের পরে ইস্কো (ডান দিকে)। ছবি: এএফপি

স্পেন ৬   :   আর্জেন্তিনা ১

অশনি সংকেত!

রাশিয়া বিশ্বকাপে এই আর্জেন্তিনাকে নিয়ে খুব বেশি আশা না করাই ভাল। লিওনেল মেসি না খেললে আর্জেন্তিনাকে কোনও দলই সমীহ করবে না।

স্পেনের বিরুদ্ধে ১-৬ বিপর্যয়কে অনেকেই হয়তো গুরুত্ব দিচ্ছেন না। কেউ কেউ যুক্তি দিচ্ছেন, মেসি থাকলে ম্যাচের ফলটা উল্টো হতো। আবার অনেকে মনে করছেন, ফিফা ফ্রেন্ডলির কোনও গুরুত্ব নেই। তাই এই ফল দিয়ে আর্জেন্তিনাকে বিচার করা উচিত নয়। আমি কিন্তু আতঙ্কিত বিশ্বকাপে আর্জেন্তিনার ভবিষ্যতের কথা ভেবে। স্পেনও মঙ্গলবার রাতে মাদ্রিদে বিশ্বকাপ ফাইনাল নয়, ফিফা ফ্রেন্ডলি খেলতেই নেমেছিল। হারের পর আর্জেন্তিনা সমর্থকদের এই যুক্তিগুলি একেবারেই অবাস্তব।

আর্জেন্তিনার সমস্যাটা আসলে অন্য জায়গায়। পুরো দলটাই মেসির উপর নির্ভরশীল। কোচ হর্হে সাম্পাওলি থেকে দলের বাকি ফুটবলাররা— মনে করে মেসি যখন আছে, তখন আর চিন্তা নেই। ও একাই ম্যাচ জিতিয়ে দেবে। ফুটবল এগারো জনের খেলা। ব্যক্তিগত দক্ষতায় মেসি হয়তো কয়েকটা ম্যাচ জিতিয়ে দেবে। কিন্তু ধারাবাহিক ভাবে সাফল্য পাওয়া সম্ভব নয়। একা মেসি সব ম্যাচ জেতাবে, এ রকম ভাবাটাই তো ভুল। মেসি তো রোবট নয়। তাই চোট লাগতেই পারে। তখন কী হবে?

মেসি-র বিকল্প হয় না ঠিকই। কিন্তু সাম্পাওলি-র উচিত ছিল এমন কাউকে তৈরি করা, যে দুঃসময়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব নেবে। যা করেছিলেন আর্জেন্তিনার কিংবদন্তি কোচ কার্লোস বিলার্দো।

১৯৮৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্তিনাকে একাই চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন দিয়েগো মারাদোনা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতাও হয়েছিলেন তিনি। আর্জেন্তিনার কোচ ছিলেন বিলার্দো। তিনি জানতেন, পরের বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষের প্রধান লক্ষ্যই হবে মারাদোনাকে খেলতে না দেওয়া। ১৯৯০ বিশ্বকাপের জন্য বিলার্দো তাই তৈরি করেছিলেন ক্লদিও ক্যানিজিয়া-কে। তিনি যে কতটা দূরদর্শী ছিলেন, প্রমাণ হয়ে গিয়েছে। সেই বিশ্বকাপে মারাদোনা একটাও গোল করতে পারেননি। তা সত্ত্বেও ফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্তিনা। ক্যানিজিয়া করেছিল দু’টো গোল।

আরও পড়ুন: ‘নেমার ছাড়াও জিততে পারে, দেখাল ব্রাজিল’

আর্জেন্তিনার এই দলে সের্জিও আগুয়েরো ছাড়া আর কেউ-ই ভরসা করার মতো নয়। চোটের জন্য স্পেনের বিরুদ্ধে আগুয়েরো-ও খেলতে পারল না। আর গঞ্জালো হিগুয়াইন তো বারবারই বড় মঞ্চে ব্যর্থ। এই ম্যাচেও শুরুতে যে ভাবে ও গোল নষ্ট করছে, তা অবিশ্বাস্য। আর এক তারকা  অ্যাঙ্খেল দি’মারিয়া কবে ছন্দে থাকবে কেউ জানে না। ফল যা হওয়ার তাই হয়েছে। স্প্যানিশ আর্মাডার ধাক্কায় বিপর্যস্ত আর্জেন্তিনা।

মেসি-আগুয়েরো না  থাকায় অভিজ্ঞতাতেও আর্জেন্তিনার ফুটবলার অনেক পিছিয়ে ছিল এই ম্যাচে। স্পেনের ফুটবলারদের প্রত্যেকেই বিশ্বের সেরা লিগে খেলে। দাভিদ দ্য হিয়া খেলছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে। লা লিগায় খেলে আন্দ্রে ইনিয়েস্তা, জেরার পিকে, ইস্কো-রা। থিয়াগো আলকান্তারা খেলে বুন্দেশলিগায়। আর্জেন্তিনার কয়েক জন ছাড়া বাকি ফুটবলাররা সারা বছর কোথায় খেলে খুব কম লোকই খবর রাখে। বড় মঞ্চে খেলার অভিজ্ঞতা ওদের নেই। তাই স্পেনের বিরুদ্ধে চাপও সামলাতে পারেনি।

ফুটবল কোচেরা বলেন, ম্যাচে সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ৬০ মিনিট। ৯০ মিনিটের ম্যাচকে তাঁরা চারটি ভাগে ভাগ করেন। ম্যাচের প্রথম ১৫ মিনিট। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগের ১৫ মিনিট। একই ভাবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরু ও শেষের ১৫ মিনিট। এই সময় রণনীতি হচ্ছে, সতর্ক হয়ে খেলা। আর্জেন্তিনার খেলায় সেই পরিকল্পনা দেখা যায়নি। ১২ মিনিটেই দিয়েগো কোস্তার গোলে পিছিয়ে পড়ে আর্জেন্তিনা। দ্বিতীয় গোল ২৭ মিনিটে। এ বার স্পেনকে এগিয়ে দেয় রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে সারা মরসুমে দুরন্ত খেলা ইস্কো। ৩৯ মিনিটে নিকোলাস ওতামেন্দি গোল করে ব্যবধান কমায়। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে স্পেন আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করে ইস্কো। বাকি দু’টো গোল করে যথাক্রমে থিয়াগো ও ইয়াগো আস্পাস। স্পেন যে ভাবে আক্রমণের ঝড় তুলেছিল, তাতে গোল আরও বেশি হতে পারত। কিন্তু আমি উদ্বিগ্ন যে ভাবে গোল হয়েছে তা নিয়ে।

দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্তিনা তৃতীয় ও চতুর্থ গোল খেয়েছে যাথাক্রমে ৫২ ও ৫৫ মিনিটে। অর্থাৎ তিন মিনিটের ব্যবধানে। পঞ্চম ও ষষ্ঠ গোল খায় ৭৩ ও ৭৪ মিনিটে। অর্থাৎ,  এক মিনিটের ব্যবধানে!

ফিফা ফ্রেন্ডলিতেই যদি আর্জেন্তিনার এই হাল হয়, বিশ্বকাপে তা হলে কী হবে!

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন