কাছে তবু দূরে। মোহনবাগান দিবসে বাগান-রত্ন সৈয়দ নইমুদ্দিন বললেন। চুনী গোস্বামী শুনলেন। কিন্তু গোটা অনুষ্ঠানে দু’জনের মধ্যে একবারও বাক্য বিনিময় হল না। শুক্রবার। -উৎপল সরকার

অর্জুন, দ্রোণাচার্য দু’টো জাতীয় পুরস্কারই সাজানো রয়েছে তাঁর বাড়িতে। এ বার সেখানে জায়গা করে নিল জাতীয় ক্লাবের দেওয়া সম্মানও— মোহনবাগানরত্ন।

শুক্রবার গঙ্গাপারের তাঁবুতে সেই পুরস্কার পেয়ে আপ্লুত সৈয়দ নইমুদ্দিন বলে দিলেন, ‘‘এই সম্মানের মূল্যই আলাদা।’’

মোহনবাগান দিবসে স্ত্রী আতিয়া এবং মেয়ে তহসিনকে নিয়ে দুপুর দুপুর সবুজ-মেরুন তাঁবুতে পৌঁছে গিয়েছিলেন নইম। পরিবারের সঙ্গে বসে দেখেন প্রাক্তন ফুটবলার ও সাংবাদিক বনাম অভিনেতাদের ম্যাচ। সন্ধেয় বাগান সচিব অঞ্জন মিত্র যখন সবুজ-মেরুনকে আটটা ট্রফি দেওয়া কোচের  হাতে মোহনবাগানরত্নের মেডেল, স্কার্ফের সঙ্গে এক লক্ষ টাকার চেক তুলে দিচ্ছেন তখন সত্তর এশিয়াডের ব্রোঞ্জজয়ী ভারতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক আবেগপ্রবণ। বলেন, ‘‘মোহনবাগান মানেই তো ইতিহাস। সবুজ-মেরুন জার্সিতে আমার প্রতিটা মুহূর্তই স্মরণীয়। আমাকে যিনি প্রথম কলকাতায় ইস্টবেঙ্গলে এনেছিলেন সেই জ্যোতিষ গুহ স্যরও বলতেন মোহনবাগান গ্রেট ক্লাব।’’

জনৈক সাংবাদিক তাঁর সঙ্গে এই ক্লাবের অতীতের কিছু তিক্ত ঘটনা মনে করাতে গেলে নইম বলে দেন, ‘‘আজ সব ভুলে গিয়েছি।’’ তবে এ দিন নিজের বক্তৃতায় গোষ্ঠ পাল থেকে শৈলেন মান্নার কথা বললেও মঞ্চে উপস্থিত চুনী গোস্বামীর নাম উল্লেখ তো দূরের কথা, বাক্যালাপও করলেন না নইম। কেন তা জানতে চাইলে নইম বা চুনী দুজনই প্রতিক্রিয়া দিতে চাইলেন না।

এ দিনই বাইপাসের ধারের এক বেসরকারি হাসপাতালকে দু’বছরের জন্য ক্লাবের মেডিকেল পার্টনার ঘোষণা করল মোহনবাগান। মাঠে ফুটবলারদের হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য ডিফিব্রিলেটর মেশিন দান করে সবুজ-মেরুন ফ্যান ক্লাব  ‘ঐতিহ্যের নাম মোহনবাগান’।