প্রায় তিন যুগ পরে ইস্টবেঙ্গল মাঠে ফের মজিদ বাসকর। তাঁকে দেখার জন্যই সোমবার ক্লাব-তাঁবুতে ভিড় জমিয়েছিলেন অসংখ্য লাল-হলুদ সমর্থক। সাংবাদিক বৈঠকের পরে ইস্টবেঙ্গলের ১২ নম্বর জার্সি পিঠে চাপিয়ে দু’ বার মাঠে  ঢোকার চেষ্টা করেন মজিদ।

কিন্তু, ভিড়ের ঠেলায় দু’ বারই মাঠে প্রবেশের চেষ্টা তাঁর ব্যর্থ হয়। ক্লাব-তাঁবুর ভিতরে চলে যেতে হয় মজিদকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মাঠে নামে পুলিশ। ভিড় সরানোর চেষ্টা শুরু হয়। এ দিকে মজিদকে মাঠে দেখতে না পেয়ে ক্ষোভ বাড়তে থাকে ভক্তদের।

হাতের মুঠোয় পরিস্থিতি এলে মজিদকে আনা হয় মাঠে। উপস্থিত দর্শকদের দিকে হাত নাড়েন তিনি। তাতেই ভক্তদের ক্ষোভ গলে মুহূর্তে জল। গ্যালারিতে ওঠে ‘ম-জি-দ, ম-জি-দ’ ধ্বনি। বর্ষাস্নাত ইস্টবেঙ্গল মাঠে দাঁড়িয়ে বলে শটও মারেন তিনি। এই মুহূর্তেরই তো অপেক্ষায় ছিলেন ভক্তরা। তাঁদের হতাশ করেননি মজিদ।

আরও পড়ুন: কীভাবে মিলবে সাফল্য, ইস্টবেঙ্গলকে ‘টিপস’ দিলেন মজিদ 

আরও পড়ুন: দেশে ফিরে ইস্টবেঙ্গলের জন্য ইরানি ফুটবলার খুঁজবেন মজিদ

 

মনে হাজার দ্বিধা-দ্বন্দ্ব নিয়ে কলকাতার বিমানে উঠেছিলেন বাদশা। পুরনো শহর কি তাঁকে চিনতে পারবে? মনে উঠেছিল ঝড়। ভেবেছিলেন বিমানবন্দরে তাঁকে দেখার জন্য অল্প কয়েকজন ভক্ত বুঝি উপস্থিত থাকবেন। শনিবার গভীর রাতে দমদম বিমানবন্দরে পা রাখার পরে ভুল ভাঙে ইরানি-তারকার। অসংখ্য ভক্তের উপস্থিতি দেখে বিস্মিত হয়ে যান বাদশা। সেই কবে কলকাতা ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন তিনি। ফিরে এসে দেখলেন এখনও তিনি জনতার মনেই রয়ে গিয়েছেন। মজিদ বলেন, ‘‘একটা ইতিহাস তৈরি হতে দেখলাম। মাঝরাতে এত সংখ্যক মানুষ যে বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকবেন ভাবিনি।’’

কলকাতায় না এলে মজিদ সত্যিই জানতে পারতেন না, তাঁকে এখনও আগের মতোই ভালবাসেন ভক্তরা। সমর্থকদের হৃদয়ে এখনও তিনি বাদশা হয়েই রয়ে গিয়েছেন।