মোহনবাগান কর্তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল আরও জটিল আকার ধারণ করল।

ক্লাব তাঁবুতে বসেই পদত্যাগী প্রেসিডেন্ট টুটু বসুকে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল সচিব অঞ্জন মিত্রের তৈরি করে দেওয়া পাঁচ সদস্যের বিশেষ আর্থিক কমিটি। যে কমিটির সদস্যদের এত দিন প্রায় দেখাই যেত না ক্লাবে। 

ফুটবলারদের বকেয়া বেতন দেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট সোমবার নিজে উদ্যোগী হয়ে এক কোটি টাকা দিয়েছিলেন। মঙ্গলবার ক্লাবে সভা করার পরে বিশেষ কমিটির অন্যতম সদস্য শৈলেন ঘোষ বলে দিলেন, ‘‘ওই টাকা আমরা ফুটবলারদের বেতন দিতে ব্যবহার করব। তবে ওঁর কাছে চিঠি দিয়ে আমরা জানতে চাইব, ওই টাকা উনি ধার হিসাবে দিয়েছেন না, স্পনসর হিসেবে।’’ গত চার বছরে স্পনসরহীন মোহনবাগানে যিনি দল গড়তে কোটি কোটি টাকা খরচ করেছেন, তাঁকে কর্মসমিতির একজন সাধারণ সদস্য এ ভাবে প্রকাশ্যে কটাক্ষ করবেন, সম্ভবত ভাবেননি টুটু বসু। অঞ্জন অনুগামীদের এই বক্তব্য শোনার এক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর ই-মেল চলে এসেছে সংবাদমাধ্যমে। প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, ‘কর্মসমিতির একজন সাধারণ সদস্য যে ভাবে আমার ক্লাবকে এক কোটি টাকা দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তাতে আমি হতবাক। আমি এই টাকা ব্যক্তিগত ভাবে ক্লাবকে অনুদান হিসাবে দিয়েছি।’’

দীর্ঘ দিনের  প্রেসিডেন্টের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি পাঁচ সদস্যের কমিটি আরও বড় তিনটি ঘোষণা করেছে। তা হল, এক) সাত দিনের মধ্যে ফুটবলারদের বকেয়া তিন মাসের মাইনে মিটিয়ে দেওয়া হবে। টাকা জোগাড় হয়ে গিয়েছে। দুই) পরের মরসুমের দল গঠনের জন্য এগারো কোটি টাকার স্পনসর পাওয়া গিয়েছে। তিন) ক্লাবের হিসাব ফের খতিয়ে দেখা হবে।

পাঁচ সদস্যের কমিটির পক্ষ থেকে বলে দেওয়া হয়, চুক্তিবদ্ধ ২৫ জন ফুটবলারকে রেখে দেওয়া হবে। তাঁদের সঙ্গে ক্লাবের যে আর্থিক চুক্তি, তা বহাল থাকবে। নতুন কমিটির সদস্যদের দাবি অনুযায়ী, শেষ হয়ে যাওয়া মরসুমের বকেয়া এবং পরের মরসুমের দল গঠনের টাকা মিলিয়ে প্রায় ১৪ কোটি টাকার দরকার। সেটা যে চার দিনের মধ্যে জোগাড় করে ফেলেছে অঞ্জন মিত্রর গড়ে দেওয়া কমিটি, এটা নিয়ে অবশ্য ক্লাব তাঁবুতেই ধন্দ তৈরি হয়েছে। পদত্যাগী কোনও কর্তাই এ ব্যাপারে সরকারি ভাবে মন্তব্য কোনও করতে চাননি। তাঁদের কেউ কেউ মনে করছেন, এটা চমক ছাড়া কিছু নয়। এরই মধ্যে ১১ মে ফের কর্মসিমিতির সভা ডেকে দিয়েছেন মোহনবাগান সচিব।