শুক্রবারে শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের রাতটি সুন্দর হতে পারত সাকিবের। ৩৯তম বলে হাফ সেঞ্চুরি উদ‌্‌যাপনের ইনিংসে ব্যাটে জ্বলেছে আগুন। ৩৮তম ওভারে মঈন আলিকে অনে সাইডে ছক্কা এবং বোলারস ব্যাক ড্রাইভে বাউন্ডারিতে মাতিয়েছেন স্টেডিয়াম। পরের ওভারে ক্রিস ওকসকে তিন তিনটি বাউন্ডারিতে  কী দারুন একটি রাতের আবহই না ছিল।  ওপেনিংয়ে প্রত্যাবর্তন ম্যাচে প্রথম বলে ছক্কায় ইমরুল কায়েসের শুরু। কাঁটায় কাঁটায় পঞ্চাশ ম্যাচ প্রতীক্ষার পর এই বাঁ হাতি ওপেনারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি (১১৯ বলে ১১২)। পঞ্চম উইকেট জুটিতে ইমরুল-সাকিবের ১১৮ রানে  শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে এই প্রথম ৩০০ রান লক্ষ্য করে জয়ের স্বপ্নও দেখেছে বাংলাদেশ সমর্থকরা।  ৫১ বলে ৩৯ রানের টার্গেটটাও মামুলি মনে হয়েছে এই দু’জনের পার্টনারশিপে। ৮০ রান পূর্ন করার পর থেকে হ্যামেস্ট্রিংয়ে চোট নিয়ে দলের প্রয়োজনে খেলছিলেন বলে দু’রানের জায়গায় সিঙ্গলসের বেশি নিতে পারছিলেন না ইমরুল।  এমন পরিস্থিতিতে পড়ে বিগ হিটেই মনোযোগ দিয়েছিলেন। সেই পরিকল্পনায় লক্ষ্যের কাছাকাছি দলকে নিয়ে গিয়েছিলেন সাকিবও। পেস বোলার জ্যাক বলের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে ফিরে এসেছেন ড্রেসিংরুমে (৫৫ বলে ৭৯ রান)। ওখানে দারুণ একটি স্বপ্নের মৃত্যু হয়েছে বাংলাদেশের। সাকিবের ওই আউটটাই ম্যাচে ফিরিয়ে এনেছে ইংল্যান্ডকে। তাসের ঘরের মতো উড়ে গেয়েছে বাংলাদেশের শেষ ছয় উইকেট। ২০১১ বিশ্বকাপে চট্টগ্রামে এবং ২০১৫ বিশ্বকাপে অ্যাডিলেডে জয়ের হ্যাটট্রিক জয়ের স্বাক্ষী হতে এসেছেন যারা, তাঁরাই দেখেছেন সম্ভাবনার ম্যাচে বাংলাদেশের ২১ রানে হার।

তিন তিনটি ক্যাচ ড্রপ। দু’টি সহজ ক্যাচ নেওয়ার চেষ্টা থেকে বিরত থাকায় বাজে ফিল্ডিংয়ে অভিযুক্ত হয়েছেন মোশারফ হোসেন, মাহামুদুল্লাহ। তবে তাঁদের সেই অভিযোগ ছাপিয়ে আসামীর কাঠগড়ায় এখন বাংলাদেশ টিমের সাকিব আল হাসান। জয়ের এত কাছে পৌঁছে হারটাই তাই মেনে নিতে পারছেন না মাশরাফি, ‘‘এই ম্যাচটা অবশ্য জেতা উচিৎ ছিল আমাদের। ৫১ বলে ৩৯ লাগবে, ৬ উইকেট হাতে। ওখান থেকে ম্যাচ হারা অবশ্যই হতাশার। পুরো দলই এখন আপসেট। একটা পর্যায়ে যখন ৭-৮ করে লাগত তখন আমরা এ ভাবে ব্যাটিং করতে পারতাম। কিন্তু যখন আমাদের ওভারে পাঁচ করে লাগবে তখন আরও ধৈর্য ধরে ব্যাটিং করা দরকার ছিল।’’

 সুবিধেজনক অবস্থা থেকে ম্যাচ হারের পিছনে ব্যাটসম্যানদের আতঙ্ককেই প্রধান অন্তরায় হিসেবে দেখছেন মাশরাফি, ‘‘আউটগুলি দেখলেই বোঝা যাবে, ব্যাটসম্যানরা কতটা প্যানিক ছিল। ওই সময়ে ১০-১২ ডট বল হলে খুব একটা সমস্যা ছিল না। রান করার তাড়াতেই আমরা আউট হয়েছি।  একটা পর্যায়ে  সিঙ্গলস আটকানোর জন্য ফিল্ডিং সাজিয়েছিল ওরা। ড্রেসিং রুম থেকে বার্তা ছিল ইমরুলকে শেষ পর্যন্ত সাপোর্ট দেওয়ার। কিন্তু কেউ সে নির্দেশ শেষ দিকে পালন করতে পারেনি।’’ তিন তিনটি ক্যাচ ড্রপকেও আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন মাশরাফি,‘‘আমাদের ফিল্ডিং ভাল হয়নি।  যদি ক্যাচ তিনটি নিতে পারতাম তা হলে ওরা  ২৮০-২৯০ করতে পারত। তখন আমাদের মানসিক অবস্থা অন্যরকম হতে পারত। কারণ ৩০০ রান  করার অভিজ্ঞতা তেমন নেই আমাদের।’’

সিরিজের প্রথম ম্যাচ হেরে ঘুরে দাঁড়ানোর অতীত আছে বাংলাদেশের।  ঘরের মাঠে সিরিজের প্রথম ম্যাচে হার থেকে শিক্ষা নিয়ে শেষ ২টি ম্যাচে আক্রমনাত্মক ক্রিকেট দর্শন বাংলাদেশ দলের এখনই আসল লক্ষ্য। রবিবারের ম্যাচকে সামনে রেখে সে হুঙ্কার দিয়েছেন টিম ম্যানেজার খালেদ মেহমুদ সুজন, ‘‘ প্রথম ম্যাচে যে সব ছোট খাট ভুল ছিল তা থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন উদ্যমে জয়ের জন্যই খেলব। এখনও আমাদের অনেক কিছু পাওয়ার আছে। ১-০তে পিছিয়ে থাকলেও এটা ২-১ হতে পারে। আমরা বিশ্বাস করি সিরিজটা আমরা এখনও জিততে পারি। আক্রমণাত্মক ক্রিকেটটাই খেলবে বাংলাদেশ।  এটাই আমাদের এখন আমাদের মূলমন্ত্র।’’

আরও খবর

বাংলাদেশের বিপক্ষে নিজেদের আন্ডারডগ ধরেই খেলতে নামছে ইংল্যান্ড!