সোনার মেয়ে সোনিয়াকে ঘিরে উচ্ছ্বসিত রায়গঞ্জ।

ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় ১৮তম এশিয়ান গেমসে ইনভিটেশন টুর্নামেন্টে দৌড় প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান দখল করার পর থেকে তার কথাই শহরের মুখে মুখে। রবিবার ওই টুর্নামেন্টের সাধারণ বিভাগের ৪০০ মিটার দৌড় প্রতিযোগিতায় এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ৩০ জন প্রতিযোগী অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের সবাইকে পিছনে ফেলে প্রথম স্থান অর্জন করেন সোনিয়া। পুরস্কার হিসেবে তাঁর গলায় সোনার পদক পরিয়ে হাতে শংসাপত্র তুলে দিয়েছেন উদ্যোক্তারা।

আন্তর্জাতিক স্তরের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় সোনিয়া সফল হওয়ায় খুশিতে ভাসছেন রায়গঞ্জ শহরের বাসিন্দারা। রায়গঞ্জের কংগ্রেস বিধায়ক মোহিত সেনগুপ্ত রবিবারই সোনিয়ার পরিবারের লোকেদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। মোহিতবাবু বলেন, ‘‘সোনিয়া রায়গঞ্জই নয়, গোটা দেশের নাম উজ্বল করেছেন। উনি ফিরলে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হবে।’’

রায়গঞ্জের নেতাজিপল্লি এলাকার বাসিন্দা সোনিয়ার সোনিয়ার বাবা বরেণ বৈশ্য ও মা মমতা বৈশ্য দুজনেই রায়গঞ্জ পুরসভার প্রাক্তন নির্দল কাউন্সিলর। তাঁদের দুই মেয়ে এক ছেলের মধ্যে সোনিয়া মেজো। সোনিয়া কলকাতার চারুচন্দ্র কলেজের ছাত্রী। বড় মেয়ে তানিয়া গতবছর বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে স্নাতকোত্তর পাশ করেছেন। ছেলে বিশাল নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে।

বরেণবাবু ও মমতাদেবী জানান, খেলাধুলোর প্রতি মেয়ের ন্যাক ছোটবেলা থেকেই। খুব ছোটবেলা থেকেই সে সোনিয়া দৌড় ও লংজাম্পে পারদর্শী। রায়গঞ্জের উদয়পুর এলাকার বাসিন্দা অ্যাথলেটিক কোচ কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের কাছে নিয়মিত দৌড় ও ক্রীড়া প্রশিক্ষণ নিতেন সোনিয়া। তবে গত চারমাস ধরে তিনি পঞ্জাবের পাতিয়ালায় ভারতীয় অ্যাথলিট দলের প্রশিক্ষণ শিবিরের কোচেদের কাছে দৌড় সহ বিভিন্ন ক্রীড়া প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। দেড় দশকে সোনিয়া রাজ্য ও জাতীয় স্তরের বিভিন্ন অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় সফল হয়ে বহু পুরস্কার পেয়েছেন। তবে কয়েকবছর ধরে তিনি দৌড়েই মন দিয়েছেন।

গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে অ্যাথলেটিক ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার উদ্যোগে চেন্নাইতে আয়োজিত জাতীয় স্তরের ৪০০ মিটার দৌড় প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান দখল করে জাকার্তায় আয়োজিত আন্তর্জাতিক স্তরের ওই টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার ছাড়পত্র পান। সেখানে সাফল্য পেয়ে গর্বিত সোনিয়াও। তাঁর কথায়, ‘‘আন্তর্জাতিক স্তরে রায়গঞ্জ-সহ গোটা দেশের নাম উজ্বল করতে পেরে একজন ভারতীয় হিসেবে গর্ব অনুভব করছি। বাবা, মা, কোচ সহ পরিবারের লোকেদের উত্সাহ ও অনুপ্রেরণা ছাড়া আমার পক্ষে এতবড় সাফল্য পাওয়া সম্ভব ছিল না।’’