মহিলাদের বিশ্ব বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে সোমবার বিচারকদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিতর্ক তৈরি করলেন বুলগেরিয়ার কোচ ও বক্সার। তবে এই বিতর্কের মাঝেও জয়জয়কার ভারতীয়দের। এ দিনই প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালের বাঁধা টপকে শেষ আটে গেলেন সনিয়া চহাল (৫৭ কেজি), পিঙ্কি রানি (৫১ কেজি) ও সিমরনজিৎ কৌর (৬৪ কেজি)। দিনের নায়ক অবশ্যই সনিয়া। তিনি হারান ২০১৪ সালে বিশ্ব বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে সোনাজয়ী বুলগেরিয়ার স্তানিমিরা পেত্রোভাকে।

এর আগেই কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গিয়েছিলেন মেরি কম (৪৮ কেজি), মণীষা মউন (৫৪ কেজি), লভলিনা বরগোঁহেন (৬৯ কেজি), ভাগ্যবতী কাছারি (৮১ কেজি) ও সীমা পুনিয়া (৮১ কেজি-র বেশি বিভাগ) ফলে সব বিভাগ মিলিয়ে ১০ জনের ভারতীয় দল থেকে কোয়ার্টার ফাইনালে গেলেন আট ভারতীয় বক্সার। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে কোয়ার্টার ফাইনাল। ফলে বিশ্ব বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে পদকপ্রাপ্তি থেকে এক ম্যাচ দূরে রয়েছেন এই আট ভারতীয় বক্সার। এর আগে শেষ দুই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ মিলিয়ে ভারতের পদক সংখ্যা ছিল তিন। যদি এই আট বক্সারই পদক পান, তা হলে এটিই হবে সাম্প্রতিক কালে ভারতীয় মহিলা বক্সিংয়ের সব চেয়ে ভাল ফল। এর আগে ২০০৬ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে আটটি পদক জিতেছিল ভারত। 

এ দিন প্রি কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতের একমাত্র খারাপ খবর, সয়েটি বুরা (৭৫ কেজি)-র হার। ভারতীয় শিবিরের দাবি, রবিবার সরিতা দেবীর মতোই বিচারকদের ভুল সিদ্ধান্তের শিকার হতে হয়েছে সয়েটি-কে। যা নিয়ে ক্ষোভ ব্যক্ত করেন ভারতীয় দলের কোচ শিব সিংহ।

এত সব ঘটনার মাঝে দিনের প্রধান আকর্ষণ হরিয়ানার কৃষক পরিবারের কন্যা সনিয়া চহাল। এ দিন স্তানিমিরার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় রাউন্ড পর্যন্ত পিছিয়ে ছিলেন সনিয়া। কিন্তু হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পরে সেই বাউট ৩-২ জিতে রিং ছাড়েন তিনি।

এই ম্যাচ হারের পরেই বিচারকদের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন বুলগেরিয়ার বক্সার ও তাঁর কোচ। পেত্রোভা বলে যান, ‘‘একটাই কথা এর পরে বলতে হয়। এই ফল সঠিক নয়। বিচারকরা সব দুর্নীতিগ্রস্ত।’’ তাঁর কোচ ১৯৮০ সালে অলিম্পিক্সে সোনা জয়ী পিটার লেসভ রিংয়ের ভিতর জলের বোতল ছুঁড়ে মারেন। এর পরেই বিশ্ব বক্সিংয়ের নিয়ামক সংস্থা (আইবা) বাকি প্রতিযোগিতা থেকে বহিষ্কার করে লেসভকে। আইবার তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অবাঞ্ছিত ব্যবহারের জন্য প্রতিযোগিতা থেকে বহিষ্কার করা হল বুলগেরিয়ার কোচ লেসভকে। এ ধরনের ব্যবহার কোনও মতেই মানা যায় না। বিষয়টি পাঠানো হচ্ছে শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির কাছে।’

এই বিতর্ক সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে সনিয়া বলে যান, ‘‘ফল এক দম ঠিক আছে। এক সঙ্গে পাঁচ জন বিচারক কী ভাবে ভুল সিদ্ধান্ত জানান, তা বোধগম্য নয়। এই অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই।’’ এটিই সনিয়ার জীবনে প্রথম বড় প্রতিযোগিতায় কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়া। গত বছর সার্বিয়া কাপে সোনা জিতেছিলেন সনিয়া। চলতি বছরে তুরস্কে অনুষ্ঠিত আহমেট কমের্ট প্রতিযোগিতায় ব্রোঞ্জ পেয়েছিলেন সনিয়া। মঙ্গলবার শেষ আটের ম্যাচে ম্যাচে তাঁর প্রতিপক্ষ কলম্বিয়ার বক্সার ইয়েনি মার্সেলা। তবে ভারতীয় শিবির খুশি নয় সয়েটি বুরা-র হারে। ম্যাচের পরে ভারতীয় কোচ শিব সিংহ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘রবিবার সরিতা দেবীর মতো এ দিনও ভুল সিদ্ধান্তের শিকার সয়েটি। বিপক্ষ বক্সার ওকে ঘুসি মেরে নয়। ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়েছিল।  বিচারক তা কেন দেখলেন না বোঝা গেল না।’’