বাংলার দুই নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান সুদীপ চট্টোপাধ্যায় ও  অনুষ্টুপ মজুমদারকে পাওয়ার আশা ক্রমশ ক্ষীণ হচ্ছে। শনিবার রেলওয়েজ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এ বার তাঁদের বাংলার হয়ে খেলার জন্য ছাড়পত্র দেওয়া হবে না।

সুদীপ, অনুষ্টুপরা এ বার দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে কোন দলের হয়ে খেলবেন, তা নিয়ে কয়েক দিন ধরেই জল্পনা চলছিল। তার অবসান ঘটিয়ে শনিবার রেলওয়েজ স্পোর্টস প্রোমোশন বোর্ডের সচিব রেখা যাদব সংবাদ সংস্থাকে জানিয়ে দেন, ‘‘সুদীপ, অনুষ্টুপরা রেলের কর্মী, তাই ওদের পাওয়ার অধিকার  আমাদেরই প্রাপ্য। রেলের গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার ওরা। এ বছর সুদীপ ও অনুষ্টুপকে আমাদের হয়েই খেলতে হবে।’’ রেল বোর্ডের প্রধানের এই বিবৃতির কথা শুনে সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ শনিবার রাতে বলেন, ‘‘রেল বোর্ডের প্রধানের সঙ্গে আমি এই নিয়ে কথা বলব। তার পরে এই ব্যাপারে যথাসম্ভব দ্রুত সিদ্ধান্ত নেব।’’

এই খবরে হতাশ হয়ে পড়েন বাংলার সহ-অধিনায়ক। সুদীপ বলেন, ‘‘আমি বাংলার হয়েই খেলতে চাই। সিএবি যদি কোনও বিকল্প উপায় বার করে দেয়, তা হলে ভাল হয়।’’ রেলের চাকরি থেকে ইস্তফা দেওয়া ছাড়া আর কোনও বিকল্প উপায় আপাতত নেই সুদীপের সামনে। তা মেনে নিয়েই সুদীপ বলেন, ‘‘দেখি, সিএবি যদি কোনও উপায় বাতলে দিতে পারে। যদি অন্য কোথাও চাকরি করার সুযোগ পাই’’

রেলের আবাসিক শিবির শুরু হচ্ছে ২৯ অগস্ট দিল্লিতে। সুদীপের পাশাপাশি অনুষ্টুপ মজুমদারকেও যোগ দিতে বলা হয়েছে শিবিরে‌। সে দিনই দলীপ ট্রফির দ্বিতীয় ম্যাচে সুদীপ নামছেন। অনুষ্টুপ বাংলা দলের সঙ্গে রয়েছেন নাগপুরে। তাঁদের দু’জনকেই আবাসিক শিবিরে যোগ দিতে বলা হয়েছে। গত বারও সমস্যায় পড়েছিলেন সুদীপ। কিন্তু সিএবি প্রেসিডেন্টের অনুরোধে শেষ পর্যন্ত বাংলার হয়ে খেলার ছাড়পত্র পান তিনি। কিন্তু এ বার সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় অনুরোধ করলেও হয়তো সুদীপকে ছাড়বে না রেল। রেখা বলেন, ‘‘সৌরভকে আমি শ্রদ্ধা করি। মনে হয় ওঁর মতো একজন বড় মাপের ক্রিকেটার বোঝার চেষ্টা করবেন যে আমাদের নিয়ম মেনেই চলতে হবে। সুদীপকে ছাড়পত্র দেওয়ার অনুরোধ উনি করবেন বলে মনে হয় না।’’