মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প থেকে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, টেনিস তারকা সেরিনা উইলিয়ামস থেকে বাস্কেটবলের কিংবদন্তি কোবে ব্রায়ান্ট— টাইগার উডসের স্বপ্নের প্রত্যাবর্তন নিয়ে উচ্ছ্বসিত। সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছে মার্কিন গল্ফারের উদ্দেশে শুভেচ্ছার স্রোতে।

‘‘অভিনন্দন টাইগার উডস। সত্যিকারের গ্রেট চ্যাম্পিয়ন। চাপের মধ্যেও যাঁরা লক্ষ্যে স্থির থাকতে পারেন, তাঁদের আমি ভালবাসি। কী অসাধারণ প্রত্যাবর্তনই না ঘটাল,’’ টুইট করেছেন ট্রাম্প। পাশাপাশি বারাক ওবামার টুইট, ‘‘অভিনন্দন টাইগার। এত উত্থান-পতন সামলে মাস্টার্স জয় তোমার দক্ষতা, জেদ এবং দৃঢ়চরিত্রকেই তুলে ধরে।’’ রবিবার অগাস্টা মাস্টার্সে টাইগারের এগারো বছর পরে মেজর জয় তাঁকে নতুন করে প্রেরণা দেবে মনে করছেন সেরিনা উইলিয়ামস। কিংবদন্তি টেনিস তারকা লিখেছেন, ‘‘টাইগারের জয় দেখে চোখে প্রায় জল চলে এসেছিল। টাইগারের এই কৃতিত্বকে সবচেয়ে এগিয়ে রাখব। জানি তোমায় চোট-আঘাত কতটা ভুগিয়েছে। সেখান থেকে উঠে দাঁড়িয়ে এ ভাবে ফিরে আসা? লক্ষ লক্ষ অভিনন্দন তোমায়। আমি ভীষণ ভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছি তোমায় দেখে। ধন্যবাদ বন্ধু।’’ একই ভাবে টুইটারে টাইগারকে অভিন্দন জানিয়েছেন কোবে ব্রায়ান্টও।

আর টাইগার নিজে কী বলছেন? 

‘‘অবিশ্বাস্য লাগছে।’’

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অগাস্টা ন্যাশনাল গল্ফ ক্লাবে এগারো বছর পরে টাইগার আবার যখন মেজর জিতলেন, আর এক জনের স্বপ্নও পূরণ হয়েছিল। চার্লি উডসের। টাইগারের ১০ বছরের ছেলের। ২০১৯-এর গোড়ায় স্কুলে ‘নতুন বছরের লক্ষ্য কী’ জানতে চাইলে চার্লি লিখেছিল, ‘‘বাবাকে আবার চ্যাম্পিয়ন হতে দেখতে চাই।’’ তাই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন ঘটিয়ে টাইগার গল্ফ কোর্সেই প্রথমে ছেলেকে জড়িয়ে ধরেছিলেন। ঠিক একই জায়গায় প্রথম মাস্টার্স জিতে ২২ বছর আগে টাইগার যে ভাবে তাঁর বাবাকে জড়িয়ে ধরেছিলেন। তাই ছেলের স্বপ্ন পূরণ করে আবেগে ভাসছিলেন উডস, ‘‘চার্লি চেয়েছিল ওর সামনে আমি কোনও প্রতিযোগিতা জিতি। আমিও এ ভাবে বাবাকে জড়িয়ে ধরেছিলাম। এ বার আমার ছেলের সঙ্গেও একই রকম ঘটল। কী ভাবে জীবন বদলে যায় ভাবলে অবাক লাগে।’’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘‘আমার ছেলে যেখানে দাঁড়িয়েছিল, ২২ বছর আগে আমার বাবাও ওখানে দাঁড়িয়েছিলেন। শুধু ছেলে নয় আমার মেয়ে, মাও ছিলেন এ বার। ২২ বছর আগেও মা ছিলেন একই জায়গায়। এখনও মা আমার পাশে। কঠিন পরিস্থিতি সামলে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, যাতে বোঝা যায় মার কতটা সহ্যশক্তি। জয়ের পরে বেশ কয়েক ঘণ্টা কেটে গেলও এখনও আমি যেন একটা ঘোরের মধ্যে আছি। বোঝার চেষ্টা করছি কী ভাবে আমি সত্যিই ফের জিতেছি। এই অনুভূতিতে ডুবে যেতে আমার আরও কিছুটা সময় লাগবে।’’

চোট-আঘাত, অস্ত্রোপচারের ধাক্কা কাটিয়ে তিনি যে ফিরে আসতে পারবেন সেই বিশ্বাসটা ছিল টাইগারের। ‘‘জানতাম ঠিক এই দিনটা আসবে। সেই ক্ষমতা আমার মধ্যে রয়েছে। তবে এই সপ্তাহেই সেটা পারব ভাবিনি। তবে যে ভাবে খেলাটায় আমি ফিরে আসছিলাম। আমার পারফরম্যান্সে যে ভাবে উন্নতি হচ্ছিল, সে সব দেখেই মনে হয়েছিল আমি আবার পারব,’’ বলেছেন ১৫ নম্বর মেজর জিতে বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে ছয় নম্বরে উঠে আসা সর্বকালের অন্যতম সেরা প্রত্যাবর্তন ঘটানো কিংবদন্তি।