ক্রিকেটজীবনে বহু ছয় মেরেছেন তিনি। কিন্তু ক্রিকেট প্রশাসনে এসে তাঁর দেওয়া বাউন্সার যে ‘ব্যাটসম্যান’ এ  ভাবে সোজা বাউন্ডারির বাইরে ফেলে দেবেন, তা বোধহয় কখনও ভাবতে পারেননি প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়!

এখানে ‘ব্যাটসম্যান’ সিএবি-রই ওম্বাডসমান ও বিশিষ্ট আইনজীবী উষানাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। যাঁকে বুধবার এক চিঠির বাউন্সার দিয়ে সৌরভ তাঁর অধিকার সম্পর্কে সচেতন করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু উষানাথবাবু চার পাতার চিঠিতে দুঁদে আইনজীবীর মতোই স্বপক্ষে যুক্তি ও আইনি দৃষ্টান্ত দিয়ে সৌরভকে বুঝিয়ে দেন, নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতনই রয়েছেন।   

স্বার্থ সংঘাতে অভিযুক্ত বাংলার দুই নির্বাচকের পাশে দাঁড়াতে বলে সিএবি-র ওম্বাডসমান উষানাথ বন্দ্যোপাধ্যায়কে বুধবার কড়া চিঠি পাঠান সৌরভ। উষানাথবাবুকে তিনি মনে করিয়ে দেন, কোনও বেনামী চিঠির ভিত্তিতে বাংলার দুই নির্বাচকের স্বার্থ সংঘাত নিয়ে প্রশ্ন তোলার ‘অধিকার’ তাঁর নেই। সিএবি যে হেতু কোনও বেনামী চিঠিকে গুরুত্ব দেয় না, তাই তাঁকেও সেই নীতি অনুসরণ করার ‘পরামর্শ’ দেন সৌরভ। এই চিঠি সংবাদমাধ্যমেও পাঠিয়ে দেন তিনি।

কিন্তু তাঁর এই চিঠির জবাব কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পেয়ে যান সৌরভ। তাঁর এক পাতার চিঠির জবাবে উষানাথবাবু পাল্টা চার পাতার চিঠি পাঠিয়ে সিএবি প্রেসিডেন্টকে বুঝিয়ে দেন, সিএবি-র তথাকথিত নীতি মানতে তিনি বাধ্য নন। বিচারপতি লোঢার সুপারিশ ও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ভারতীয় বোর্ড ও রাজ্য ক্রিকেট সংস্থাগুলির ওম্বাডসমানরা যে নীতিতে কাজ করছেন, সেই নীতি অনুযায়ী তিনিও কাজ করবেন। সৌরভের চিঠি পেয়ে যে তিনি চমকে গিয়েছিলেন, তাও এই  জবাবি পত্রে জানাতে ভোলেননি উষানাথবাবু।

সিনিয়র ও জুনিয়র নির্বাচক কমিটির প্রধান যথাক্রমে পলাশ নন্দী ও মদন ঘোষ, দু’জনেই কলকাতায় ক্রিকেট কোচিং ক্যাম্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন, এই অভিযোগ করে সম্প্রতি উষানাথবাবুর কাছে চিঠি জমা পড়ে। যার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি সিএবি-র কাছে এই দুই নির্বাচকের ব্যাপারে বিশদে জানতে চান। তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সত্যি কি না, তার ব্যাখ্যাও দিতে বলা হয় দু’জনকে। সে জন্যই এই চিঠি সৌরভের। 

পাল্টা চিঠিতে ওম্বাডসমান জানান, বেনামী চিঠিতে অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে অতীতে বহু মামলা হয়েছে দেশের বিভিন্ন আদালতে। এ রকম একাধিক মামলার দৃষ্টান্তও এই চিঠিতে দেন তিনি। এ ছাড়াও লোঢা সুপারিশের ভিত্তিতে দেশের সর্বোচ্চ আদালত যে অন্তর্বর্তী রায় দিয়েছে, তাতেও বোর্ডের ওম্বাডসমানকে বেনামী চিঠিতে করা অভিযোগ গ্রহণের অধিকার দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। অর্থাৎ, সৌরভের এই ‘পরামর্শ’ তাঁর পক্ষে মানা কঠিন।

সৌরভ যে চিঠিতে জানিয়েছেন, বেনামী চিঠি গ্রাহ্য না করা সিএবি-র নীতি, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন উষানাথবাবু। তাঁর বক্তব্য, এমন কোনও নীতি সিএবি-র কোনও সাধারণ সভায় গ্রহণ করা হয়েছে বলে তাঁর জানা নেই। এমন নীতি-র কথা হয়তো ভাবা হয়েছিল, কিন্তু সরকারি ভাবে সেই নীতি গৃহিত হয়নি বলে পাল্টা দাবি করেন তিনি।