শুক্রবার সন্ধেয় নোভাক জোকোভিচ ও রাফায়েল নাদালের টেনিস যুদ্ধ দেখতে আসা দর্শকরা সেন্টার কোর্টে দেখলেন এক অন্য যুদ্ধ। নিজেদের মধ্যে ‘এস’-এর লড়াইয়ে মাতলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন ইসনার ও দক্ষিণ আফ্রিকার কেভিন অ্যান্ডারসন। শেষ পর্যন্ত ছ’ঘণ্টা ৩৫ মিনিটের ম্যাচ জিতে শেষ হাসি হাসেন দক্ষিণ আফ্রিকার নতুন তারকা। ফল ৭-৬ (৮-৬), ৬-৭ (৫-৭), ৬-৭ (৯-১১), ৬-৪, ২৬-২৪। এটাই উইম্বলডনের দীর্ঘতম সেমিফাইনাল। সেন্টার কোর্টেও দীর্ঘতম ম্যাচ এটিই। 

দু’দিন আগেই অ্যান্ডারসন টেনিস বিশ্বের নজর কেড়ে নিয়েছিলেন আট বারের চ্যাম্পিয়ন রজার ফেডেরারকে কোয়ার্টার ফাইনালে হারিয়ে। শুক্রবার উইম্বলডনের প্রথম সেমিফাইনালে ফের তিনি হইচই ফেলে দেন ডালাসের ৩৩ বছর বয়সি ইসনারের সঙ্গে ‘এস’ যুদ্ধে পাল্লা দিয়ে জিতে। দু’জনে মিলে একশোর ওপর এস সার্ভিস করেছেন শুক্রবার। ইসনার ৫৩টি এস মারেন, সেখানে অ্যান্ডারসন হাঁকান ৪৯টি।

ইসনার ছ’ফুট দশ ইঞ্চির। অ্যান্ডারসন ছ’ফুট আট। প্রথম জন বিশ্বের দশ নম্বর। অন্য জন আট। দীর্ঘকায় অ্যান্ডারসনের ওজন যেখানে ৯৩ কেজি, সেখানে ইসনার ১০৮ কেজির। দু’জনের সবই প্রায় সমান হলেও একটা ব্যাপারে এগিয়ে থেকেই শুক্রবার কোর্টে নেমেছিলেন মার্কিন তারকা। এই ম্যাচে নামার আগে তিনি অল ইংল্যান্ড ক্লাবের ঘাসের কোর্টে আগুন জ্বালিয়েছেন পাঁচটি ম্যাচে ১৬১টি ‘এস’ সার্ভিস করে। তার চেয়ে ৪৮টি কম ছিল দক্ষিণ আফ্রিকানের। তবে এ দিন বিধ্বংসী সার্ভিসে ইসনারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লড়াই করেন তিনি। 

আরও পড়ুন: ‘সেরা দু’টো দলই খেলছে ফাইনালে’

শেষ পাঁচ ম্যাচে ইসনারের একটিও সার্ভিস কেউ ব্রেক করতে পারেননি। সাতটি ব্রেকপয়েন্টের সবক’টিই বাঁচিয়ে নেন তিনি। অ্যান্ডারসনই এ দিন প্রথম চার সেটে সেই অসাধ্য সাধন করেন তিন-তিনবার। প্রথম তিন সেটে দু’জনেই দু’বার করে একে অপরের সার্ভিস ব্রেক করেন। তাই এই তিন সেটের ফয়সালা হয় টাইব্রেকারে। চতুর্থটি জেতেন অ্যান্ডারসন। শেষ সেটেও সেই নিজের সার্ভিস খুইয়েই ম্যাচ হারেন ইসনার।  ২০১০-এ উইম্বলডনের প্রথম রাউন্ডের ম্যাচে ইসনার ও নিকোলাস মাহুত খেলেছিলেন ১১ ঘণ্টা পাঁচ মিনিটের ম্যাচ। যার শেষ সেটের ফল ছিল ৭০-৬৮। এই ম্যাচটাই এখন পর্যন্ত টেনিসের ইতিহাসে দীর্ঘতম ম্যাচ। ১৯৭৩-এ টেনিসে টাইব্রেকার প্রথা প্রচলনের পর থেকে এ রকম দীর্ঘ ম্যাচের সংখ্যা অবশ্য কমে যায়। তবে যুক্তরাষ্ট্র ওপেন ছাড়া অন্য তিন গ্র্যান্ড স্ল্যামে শেষ সেট টাইব্রেকারে নিষ্পত্তির নিয়ম নেই। শুধু ঝাঁকে ঝাঁকে ‘এস’ মারা নয়, সার্ভিসেও নিখুঁত ইসনার এ দিনও স্বমহিমাতেই ছিলেন। চাপের মুখে হাল ছাড়ার পাত্র নন তিনি। শুক্রবার কোর্টে নামার আগে ৫৩৫-টির মধ্যে ৪০৫ বারই প্রথম সার্ভিসে সাফল্য পান তিনি। এ দিনও তাঁর ‘ফার্স্ট সার্ভ কনভার্সান রেট’ ছিল ৭৫ শতাংশ।

অন্য দিকে ভারতীয় সময় রাত ১টায় শুরু হয়েছে নোভাক জোকোভিচ বনাম রাফায়েল নাদালের দ্বৈরথ। যা দেখতে মাঠে উপস্থিত ভারতীয় ব্যাটসম্যান অজিঙ্ক রাহানে। রাত ২.২০-তে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে প্রথম সেট ৪-৬ হারলেও দ্বিতীয় সেটে ৬-৩ জিতে ঘুরে দাঁড়লেন নাদাল।