×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

২২ জুন ২০২১ ই-পেপার

ইপিএলের দেশেও এখন লোকে আইপিএল দেখে

সোহম দে
০৪ এপ্রিল ২০১৭ ০৩:৫৯

টিম তখন ইডেনের যাওয়ার আগে প্রস্তুত হচ্ছে। বাইপাসের ধারে কলকাতা নাইট রাইডার্সের টিম হোটেলের লবিতে কাঁধে কিটব্যাগ ঝুলিয়ে এলেন তিনি। দেখেই লবিতে উপস্থিত কয়েকজন সেলফির আব্দার জুড়ে দিলেন। তিনি— কেকেআরের নতুন অতিথি ক্রিস ওক্‌স হাসিমুখে রাজি হয়ে গেলেন। সেলফি-পর্ব শেষ করে ইংল্যান্ডের অলরাউন্ডার একান্ত সাক্ষাৎকার দিতে বসলেন আনন্দবাজার-কে।

প্রশ্ন: আইপিএলে এটাই আপনার প্রথম মরসুম। গুজরাত লায়ন্সের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে মনের মধ্যে কী চলছে?

ওক্‌স: আমি প্রথম আইপিএল ম্যাচ নিয়ে খুবই উৎসাহী। আমার অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল আইপিএলে খেলা। কলকাতা নাইট রাইডার্সের মতো বড় ফ্র্যাঞ্চাইজিতে খেলার সুযোগ পাওয়া স্বপ্ন পূরণের মতো।

Advertisement

প্র: যখন শুনলেন নিলামে আপনাকে কলকাতা নাইট রাইডার্স কিনেছে, কী মনে হচ্ছিল?

ওক্‌স: (হাসতে হাসতে) বললাম না কলকাতা খুব বড় একটা ফ্র্যাঞ্চাইজি। নিলামের পরে বন্ধুদের বললাম, আমি কলকাতা যাচ্ছি। কলকাতা নিয়ে অনেক গল্প শুনেছি। গত কয়েক বছর নাইট রাইডার্সের অনেক ম্যাচও দেখেছি। কলকাতা নাইট রাইডার্স গ্ল্যামারাস ফ্র্যাঞ্চাইজির মধ্যে একটা। দু’বার চ্যাম্পিয়নও হয়েছে।

প্র: গল্প শুনেছেন কার থেকে?

ওক্‌স: ট্রেভর বেলিস কোচিং করেছেন কলকাতা নাইট রাইডার্সে। বেলিসের থেকেই শুনেছি নাইট রাইডার্স ঠিক কতটা শক্তিশালী। বেলিস আমাকে বলেছেন, কলকাতা শহরে আলাদা একটা ম্যাজিক আছে। ইডেনে প্রতিটা ম্যাচেই মাঠ ভর্তি হয়ে যায়। এখানকার দর্শকরা যেন দলের টুয়েলফ্‌থ ম্যান।

প্র: কলকাতা শহর নিয়ে কী ধারণা?

ওক্‌স: এর আগে আমি একবারই এসেছিলাম কলকাতায়। গত বছর ইংল্যান্ড সফরে। খুব ভাল অভিজ্ঞতা হয়েছিল। খুব বেশিদিন তখন থাকা হয়নি। কিন্তু এ বার এখানে আছি। আরও জানতে চাই শহরটা সম্পর্কে। রসগোল্লা আর মিষ্টি দইও খেতে চাই।

প্র: আপনার ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক বলিউডের সুপারস্টার শাহরুখ খান। কথা হয়েছে কোনও?

ওক্‌স: (মুখে আবার হাসি) আমি জানি তো বলিউড নিয়ে ভারতে উন্মাদনা কতটা। শাহরুখের সঙ্গে কোনও কথা হয়নি। কিন্তু আমার দেশেও শাহরুখ খুব জনপ্রিয় একজন ব্যক্তিত্ব। অসংখ্য ভক্ত আছে শাহরুখের।

প্র: আপনার দেশ মানে তো ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ নিয়ে মাতামাতি। সেখানে আইপিএল কত জন দেখে?

ওক্‌স: কী বলছেন? ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ নিয়ে ওখানে হয়তো খুব মাতামাতি ঠিকই। কিন্তু আইপিএলের জনপ্রিয়তাও কম নয়। গত কয়েক বছরে আরও বেড়েছে কারণ স্কাই স্পোর্টস টিভি স্বত্ব নেওয়ার পরে ইংল্যান্ডেও অনেকে দেখতে পাচ্ছে লিগটা। ইংল্যান্ডে আইপিএলের এখন রমরমা বাজার।

প্র: আপনি কতটা খোঁজ রাখতেন আইপিএল নিয়ে?

ওক্‌স: আমি টিভিতে অনেক আইপিএল ম্যাচ দেখেছি। বিশ্বের সব সেরা ক্রিকেটারেরা যখন এক মঞ্চে লড়াই করে, সারা বিশ্বের নজর থাকে সেই লিগটার ওপরেই।

প্র: কেকেআর দলটা কি আইপিএলে সবচেয়ে ব্যালান্সড?

ওক্‌স: আমার তো তাই মনে হয়। স্পিনার থেকে শুরু করে পেসার, ব্যাটসম্যান থেকে অলরাউন্ডার। কে নেই বলুন তো! খুব বুদ্ধি করে ক্রিকেটার নিয়েছে কেকেআর। কিন্তু একটা অভাব রয়ে যাচ্ছে।

প্র: কী অভাব?

ওক্‌স: আন্দ্রে রাসেল। দারুণ ক্রিকেটার। টি-টোয়েন্টি ফর্ম্যাটের জন্য খুব আদর্শ একজন ক্রিকেটার। বাকিদের সেই অভাব মেটাতে হবে।

প্র: আপনি নিজে একজন অলরাউন্ডার। নাইট রাইডার্সের কোচ জাক কালিস বিশ্বের সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডারদের মধ্যে একজন। কতটা মুখিয়ে আছেন কালিসের কোচিংয়ে খেলতে?

ওক্‌স: জাক কালিস আমার আদর্শ ক্রিকেটার। আমি যখন জানতে পারলাম কলকাতায় খেলব, প্রথমেই মাথায় কালিসের নামটা এসেছিল। কালিসের কত স্মরণীয় পারফরম্যান্স দেখেছি। আশা করছি সময়টা দারুণ কাটবে ওঁর কোচিংয়ে।

প্র: কোচ কালিসের মতো অধিনায়ক গম্ভীর নিয়ে কী বলবেন?

ওক্‌স: গম্ভীরের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। গম্ভীর খুব অভিজ্ঞ একজন ক্রিকেটার। দু’বার নাইট রাইডার্সকে চ্যাম্পিয়ন করতে সাহায্য করেছে। ওর বিরুদ্ধে আমি আগে খেলেছি। এ বার ওর নেতৃত্বে খেলতে তৈরি।

প্র: টি-টোয়েন্টিতে বেশি কঠিন কোনটা? বড় রান তাড়া করা না অল্প রান করে জেতা?

ওক্‌স: অবশ্যই অল্প রান বাঁচানো। সবাই জানে এখনকার ব্যাটসম্যানরা বলটা মাঠের যে কোনও জায়গায় পাঠাতে পারে। তাই প্রথমে ব্যাট করে যদি বেশি রান না তোলা যায় তা হলে খুব কঠিন হয়ে যেতে পারে পরিস্থিতি।

প্র: অলরাউন্ডার হিসেবে আপনার লক্ষ্য কী থাকবে?

ওক্‌স: প্রথমে যদি আমরা ব্যাট করি তা হলে যত পারব বড় স্কোর তোলার চেষ্টা করব। কিন্তু তার থেকেও গুরুত্বপূর্ণ স্লগ ওভারে বল করলে বেশি রান না দেওয়া। টি-টোয়েন্টি মানেই বোলারদের রান আটকানোর দিকে নজর দিতে হবে।

প্র: ইডেনে গত বছর টি-টোয়েন্টি ফাইনাল হেরেছিল ইংল্যান্ড। এ বার ইডেনেই আপনাকে খেলতে হবে সাতটা ম্যাচ। কী ভাবছেন?

ওক্‌স: চাইব ইডেন যাতে আমার জন্য ভাল ভাগ্য নিয়ে আসে। আমি দলে ছিলাম না ঠিকই কিন্তু টি-টোয়েন্টি ফাইনালে ইংল্যান্ডের হারের দিন মনটা খুব খারাপ ছিল। কিন্তু ভারত সফরে আমার অভিজ্ঞতা ভালই ছিল। ওয়ান ডে-তে ভারতের বিরুদ্ধে জিতেছিলাম আমরা। ইডেন বিশ্বের সেরা ক্রিকেট স্টেডিয়ামগুলোর মধ্যে একটা।

আরও পড়ুন...
কালিস এসে গেলেন, আজ আসছেন বোল্ট

প্র: ভারত-অস্ট্রেলিয়া সিরিজে স্লেজিং নিয়ে হইচই পড়ে গিয়েছিল। স্লেজিং নিয়ে আপনার কী মত?

ওক্‌স: টি-টোয়েন্টিতে স্লেজিং করার সময় থাকে নাকি? খুব দ্রুতই তো শেষ হয়ে যায় ইনিংস। অন্যান্য ফর্ম্যাটে হয় আর একটু-আধটু তো হতেই পারে।

প্র: আপনি আইপিএল খেলছেন এতে আপনার পরিবার কতটা উৎসুক?

ওক্‌স: আমার স্ত্রী আসছে কয়েক দিনের মধ্যেই। আমার পরিবারের জন্যও দারুণ অভিজ্ঞতা হতে চলেছে।

Advertisement