Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

০২ জুলাই ২০২২ ই-পেপার

URL Copied

খেলা

মাথায় বল লেগে মৃত্যু বারবার কাঁদিয়েছে ক্রিকেটকে

নিজস্ব প্রতিবেদন
কলকাতা ০৫ ডিসেম্বর ২০২০ ১৪:০০
মিচেল স্টার্কের বল মাথায় লাগে রবীন্দ্র জাডেজার। ব্যাট হাতে ইনিংস শেষ করলেও, বল করতে নামেননি। তাঁর বদলে ভারত দলে নেয় যুজবেন্দ্র চহালকে। কনকাশন সাব হিসেবে দলে আসেন তিনি।

২০১৯ সালে ক্রিকেটে কনকাশন সাব-এর নিয়ম চালু হয়। অস্ট্রেলিয়ার তরুণ ক্রিকেটার ফিল হিউজের মৃত্যু এর পিছনে যে বড় ভূমিকা নিয়েছিল, তা বলাই যায়। শন অ্যাবটের বলে ঘাড়ে আঘাত লাগে হিউজের। হাসপাতালে নিয়ে গেলে ২ দিন পর মৃত্যু হয় তাঁর। ২০১৪ সালের সেই ঘটনা নাড়িয়ে দেয় ক্রিকেট বিশ্বকে।
Advertisement
কনকাশনের অর্থ মাথায় আঘাতের ফলে মস্তিস্কের ওপর তার প্রভাব। ক্রিকেট মাঠে বল এসে মাথায় লাগলে তার থেকে সমস্যা তৈরি হতে পারে ব্যাটসম্যানের। ঘটতে পারে মৃত্যুও। এই বিষয়কে মাথায় রেখেই কনকাশন সাব নিয়ম আনে আইসিসি।

এই নিয়মের ফলে কোনও ক্রিকেটারের মাথায় আঘাত লাগলে, তাঁর পরিবর্তে অন্য ক্রিকেটার দলে আনা যাবে ম্যাচ রেফারির অনুমতি নিয়ে। তবে ব্যাটসম্যানের বদলে ব্যাটসম্যান নিতে হবে বা বোলারের পরিবর্তে বোলার। যদি কোনও ব্যাটসম্যানের পরিবর্তে অলরাউন্ডার নেওয়া হয়, সেই ক্ষেত্রে ম্যাচ রেফারি চাইলে ওই ক্রিকেটারকে বল করার অনুমতি নাও দিতে পারেন।
Advertisement
ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার সুনীল গাওস্কর যদিও কনকাশন সাবের বিরোধী। তাঁদের সময় বিনা হেলমেটে খেলা হলেও কনকাশন সাব ছিল না। এখন এত সুরক্ষা ব্যবস্থার পরেও কনকাশন সাব মানতে পারেন না তিনি। যদিও শুক্রবার ভারত নিয়ম মেনেই কনকাশন সাব নিয়েছে বলে তাঁর মত।

অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন ক্রিকেটার টম মুডি যদিও মেনে নিতে পারেননি এমন কনকাশন সাব। তিনি বলেন, “জাডেজার মাথায় বল লাগার পর কোনও চিকিৎসক তাঁকে দেখতে মাঠেই এলেন না, অথচ কনকাশন সাব নিল ভারত।” একই অভিযোগ করেন প্রাক্তন ইংরেজ অধিনায়ক মাইকেল ভনও।

তবে এই প্রথম নয়। ক্রিকেট মাঠে প্রথম কনকাসন সাব হয় ২০১৯ সালে লর্ডসে অ্যাসেজ টেস্টের দ্বিতীয় দিনে। ইংল্যান্ডের জোফ্রা আর্চারের বিষাক্ত বাউন্সারে মাঠেই লুটিয়ে পড়েন স্টিভ স্মিথ। ঘাড়ে চোট পেয়ে ছিটকে যান এক টেস্টের জন্য। তাঁর বদলে মাঠে নামেন মার্নাস লাবুশানে।

সেই ম্যাচে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে লাবুশানে ৫৯ রানের ইনিংস খেলেন। ওই ইনিংস টেস্ট ক্রিকেটে তাঁকে যেন নতুন করে প্রতিষ্ঠা করে।

ফিল হিউজের ঘটনার আগেও বহু বার মাথায় আঘাত লেগে মৃত্যু হয়েছে ক্রিকেটারদের। দেখে নেওয়া যাক তেমনই কিছু ঘটনা।

একটি সূত্র বলছে, ১৬২৪ সালে জাস্পার ভিনাল প্রথম ক্রিকেটার, যিনি মাথায় আঘাত লেগে মারা যান। ক্রিকেটের আদি যুগ বলা যেতে পারে এই সময়টাকে। ভিনাল সেই ম্যাচে ফিল্ডিং করার সময় তাঁকে বল ধরা থেকে আটকাতে যান ব্যাটসম্যান। তাঁর ব্যাটের আঘাতে মৃত্যু হয় ইংল্যান্ডের এই ক্রিকেটারের। ঘটনাটি ঘটে ইংল্যান্ডের সাসেক্সে। আঘাত লাগার ১৩ দিন পর মৃত্যু হয় ভিনালের।

বল লেগে মৃত্যুর ঘটনা ফের ঘটে ১৮৭০ সালে। নটিংহ্যামসায়ারের ক্রিকেটারের জর্জ সামার্স সে দিন খেলতে নেমেছিলেন মেলবোর্ন ক্রিকেট ক্লাবের বিরুদ্ধে। জন প্ল্যাটসের শর্ট বল এসে লাগে সামার্সের মাথায়। ৪ দিন পর ওই আঘাতের কারণেই মৃত্যু হয় তাঁর।

১৮৮৩ সালে বল লেগে মারা যান ফ্রেডরিক র‍্যান্ডন সিনিয়র। ইংল্যান্ডের মেরিলিবোর্ন ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে খেলতেন তিনি। ১৮৮১ সালে তাঁর মাথায় বল লাগে। কিন্তু কোনও ভাবেই তার পর থেকে তিনি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি। ২ বছর পর মৃত্যু হয় তাঁর।

মাত্র ১৭ বছর বয়সে মারা যান ইংল্যান্ডের আর্থার আর্লাম। ফিল্ডিং করার সময় ব্যাটসম্যানের মারা বল এসে লাগে তাঁর মাথায়। মৃত্যু হয় তাঁর।

পাকিস্তানের ক্রিকেটার আব্দুল আজিজ মারা যান ১৯৫৯ সালে। মাথায় নয় তাঁর বুকে এসে বল লাগে। মাত্র ১৮ বছর বয়সে মৃত্যু হয় তাঁর। কয়েদ-ই-আজাম ট্রফিতে প্রথম ইনিংসে ব্যাট করার সময় দিলদার আওয়ানের বল এসে লাগে তাঁর বুকে। ফের স্টান্স নেওয়ার জন্য দাঁড়াতে গিয়ে পড়ে যান তিনি। আর উঠতে পারেননি তিনি। দ্বিতীয় ইনিংসে তাঁর নামের পাশে লেখা হয় ‘হার্ট বাই ডেড’।

মাথায় বল লেগে মারা গিয়েছেন এক ভারতীয় ক্রিকেটারও। ১৯৯৮ সালে রমন লাম্বা। ১৯৮৬ সালে ভারতের একদিনের দলে প্রথম অভিষেক ঘটে তাঁর। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে টেস্ট ক্রিকেটও খেলেন তিনি। তবে সেই ম্যাচে আঙুলে চোট লাগলে তাঁর বদলে মহম্মদ আজহারউদ্দিনকে সুযোগ দেওয়া হয়।

বাংলাদেশের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে তিনি ছিলেন যথেষ্ট পরিচিত। সেখানেই ফরোয়ার্ড শর্ট লেগে ফিল্ডিং করতে গিয়ে মাথায় বল লাগে তাঁর। স্পিনার সাইফুল্লা খানের বলে ব্যাটসম্যানের অত কাছে দাঁড়িয়েও হেলমেট পরতে চাননি তিনি। মস্তিষ্কে ইন্টারনাল হ্যামারেজে মৃত্যু হয় তাঁর।

২০১৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ড্যারিন রান্ডল মারা যান মাথায় বল লেগে। মাঠের মধ্যে আঘাত লাগার সঙ্গে সঙ্গেই মারা যান তিনি।

তার পরের বছরই ঘটে ফিল হিউজের মৃত্যু। ২৫ নভেম্বর ২০১৪ সালে অ্যাবটের বল লাগে হিউজের মাথায়। ২ দিন পর হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর। আজও দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলতে নামা হিউজের নামের পাশে লেখা থাকে ৬৩, অপরাজিত।

২০১৫ সালে বাংলার ক্রিকেটার হয়ে মারা যান অঙ্কিত কেশরী। অনূর্ধ্ব-১৯ বাংলা দলের অধিনায়ক ছিলেন তিনি। ক্যাচ নেওয়ার সময় অন্য ফিল্ডারের সঙ্গে সংঘর্ষে মৃত্যু হয় তাঁর।