×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

০৮ মার্চ ২০২১ ই-পেপার

খেলা

ওয়ার্নারের মন্থর ব্যাটিং না এক ওভারে ভুবির জোড়া উইকেট, ভারতের জয়ের প্রধান কারণ কী

নিজস্ব প্রতিবেদন
কলকাতা ১০ জুন ২০১৯ ১১:৫৮
অস্ট্রেলিয়াকে ৩৬ রানে হারিয়ে দুর্দান্ত জয় ছিনিয়ে নিল ভারত। রবিবারের ওভালে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং, তিনটে বিষয়েই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করায় একটি সম্পূর্ণ দল হিসেবেই নিজেদের মেলে ধরল ব্লু ব্রিগেড। দেখে নেওয়া যাক ভারতের এই জয়ের পেছনে প্রধান কারণগুলি।

প্রথম ১০ ওভারে কোনও উইকেট না হারানো ভারতীয় দলের জয়ের অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা। উইকেট হাতে ছিল বলেই শেষের দিকে ব্যাট চালিয়ে ৩৫৩ রানের বড় রানের লক্ষ্যমাত্রা শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে রাখতে পেরেছে ভারত।
Advertisement
দুই ওপেনারের ফর্মে ফেরা দ্বিতীয় কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞেরা। রোহিত দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে শতরান করে ফর্মে ছিলেনই। তবে আর এক ওপেনার শিখর ধওয়নের ব্যাটে খরা ছিল। এ দিন তাঁর সম্পূর্ণ অন্য রূপ দেখল ক্রিকেট বিশ্ব।

৩টি বড় পার্টনারশিপ। প্রথমে রোহিত ও ধওয়নের মধ্যে ১২৭ রানের পার্টনারশিপ, এর পর ধওয়ন ও কোহালির মধ্যে ৯৩ রানের পার্টনারশিপ তারপর কোহালি ও হার্দিকের মধ্যে ৮১ রানের পার্টনারশিপ অজিদের বিরুদ্ধে বড় লক্ষ্যমাত্রা রাখার মূল হাতিয়ার হয়ে উঠেছিল।
Advertisement
টপ অর্ডারের ৩ জনের ব্যাটেই বড় রান। ইতিহাস সাক্ষী আছে ভারতীয় দলের টপ অর্ডারের তিন জনই যখন বড় রান করেন, তখন অধিকাংশ ম্যাচই ভারত জেতে।

শিখর ধওয়নের দুর্দান্ত শতরান করা এবং নিজের গুরুত্বপূর্ণ উইকেটটি সহজে না দেওয়া ভারতের এই জয়ের আরও একটি কারণ। এই ম্যাচের আগে ব্যাটে তেমন কিছু করতে পারছিলেন না ধওয়ন। এ দিনের শতরানে তাঁর আত্মবিশ্বাস অনেকটা বাড়ল বলেই মনে করছেন অনেকে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধান বোলার মিচেল স্টার্কের খারাপ পারফরম্যান্স। প্রথম পাওয়ার প্লেতে ভারতেই একটিও উইকেট নিতে পারেননি এই বাঁহাতি স্ট্রাইক বোলার। তার উপর নিজের করা ১০ ওভারে ৭.৪ ইকোনমিতে রান বিলিয়েছেন। যা ভারতের জয়ের অন্যতম বড় কারণ বলেই মনে করছেন অনেকে।

অস্ট্রেলিয়ার তারকা ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নারের মন্থর ইনিংস। বড় রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ব্যাট চালিয়ে খেলতে হত অজি ওপেনারদের। তার বদলে ধিরে খেলতে দেখা যায় ডেভিড ওয়ার্নারকে। তিনি মোট ৮৪ বল খেলে করেন মাত্র ৫৬ রান। ফলে শেষের দিকে রান তাড়া করার জন্য বল কম পড়ে যায়।

চার নম্বরে নেমে হার্দিক পাণ্ড্য ২৭ বলে ৪৮ রানের ইনিংস ভারতের রান রেট এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। যার ফলে ৩৫২ রানে পাহাড় গড়তে সক্ষম হয় বিরাট বাহিনী। ২৭ বলের এই ছোট্ট ইনিংসটি সাজানো ছিল ৪টি বাউন্ডারি ও ৩টি ওভার বাউন্ডারি দিয়ে।

ভারতীয় দুই প্রধান সিম বোলার ভুবনেশ্বর কুমার ও যশপ্রীত বুমরার মিলিত ভাবে মোট ৬টি উইকেট নেন যা অজি ব্যাটিংয়ের কোমর ভাঙতে যথেষ্ট ছিল।

ম্যাক্সওয়েল বিধ্বংসী হয়ে ওঠার আগেই চহালের শিকার হওয়াও জয়ের অন্যতম কারণ। মাঝখানে ম্যাক্সওয়েলের বিধ্বংসী ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল অস্ট্রেলিয়া ম্যাচটি জিতেও জেতে পারে। কিন্তু সঠিক সময়ে বেশি ক্ষতি হওয়ার আগেই চহাল তাঁর উইকেটটি তুলে নিয়ে ম্যাচ ভারতের ঝুলিতে ফেলে দেয়।

ম্যাচের ৪০তম ওভারে ভুবনেশ্বর কুমারের নেওয়া দু’টি বড় উইকেট। প্রথমে সেট হয়ে যাওয়া স্টিভ স্মিথকে এলবিডব্লু ও তার এক বল পরেই অলরাউন্ডার মার্কাস স্টোয়নিসকে বোল্ড করে দেন ভুবি। যা অজি ব্যাটিংয়ের কফিনে শেষ পেরেক পোঁতার সমান ছিল বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশারদেরা।

সব শেষে বিরাট কোহালির দুর্দান্ত অধিনায়কত্ব। প্রথমে চার নম্বরে রাহুলের বদলে হার্দিককে নামানো, পরে বোলিংয়ে বিধ্বংসী ম্যাক্সওয়েলের সামনে চহালের হাতে বল দেওয়া, সব দিক থেকেই তার বুদ্ধিমত্তার পরিচয় মেলে।