×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

০৪ অগস্ট ২০২১ ই-পেপার

খেলা

তারকা ক্রিকেটারকে বোল্ড করার উপহার জুতো, চরম দারিদ্রের পর আইপিএলের দৌলতে কোটিপতি চেতন

নিজস্ব প্রতিবেদন
২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ১০:৫৭
পারিবারিক বাধা, আর্থিক অনটন কোনও কিছুই যে স্বপ্নপূরণে বাধা হতে পারে না তার জ্বলন্ত উদাহরণ চেতন সাকারিয়া।

চেতন সাকারিয়া এ বারের আইপিএলের নতুন সংযোজন। রাজস্থান রয়্যালস ক্যাম্পে নাম লিখিয়ে ফেলেছেন তিনি। ১ কোটি ২০ লাখ টাকায় তাঁকে কিনেছে রাজস্থান। ২২ বছরের চেতন এক জন বাঁহাতি পেসার। ঘরোয়া ক্রিকেটে সৌরাষ্ট্রের হয়ে খেলেন তিনি।
Advertisement
সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে তাঁর খেলা দেখার পরই দলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় রাজস্থান। এর আগে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর নেট বোলার ছিলেন তিনি।

গুজরাতে জন্ম চেতনের। গুজরাতের ভাবনগর জেলা থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে ভারতেজ নামে একটি ছোট গ্রামে জন্ম তাঁর।
Advertisement
চেতনের বাবা এক জন টেম্পোচালক। খুব কষ্টে দিনভর উপার্জন করে তিনি সংসার চালান। তাঁদের বাড়িতে এখনও টিভি পর্যন্ত নেই। ছেলের খেলা দেখতে ভরসা ছিল বন্ধুর বাড়ির টিভি।

মাঠে ছেলের কী কী ভুল হয়েছে সেগুলো সব নোট নিতেন এবং পরে ছেলেকে ফোনে সে সব ভুল ধরিয়ে দিতেন। এ ভাবে ছোট থেকেই চেতনকে খেলায় উৎসাহ দিয়ে গিয়েছেন ক্রিকেটপ্রেমী বাবা।

তবে প্রথম থেকেই বাবা চাইতেন না ছেলে ক্রিকেটার হোক। কারণ ৫ জনের সংসারের খরচ বহন করা একা তাঁর পক্ষে কঠিন ছিল।

বাবা কাঞ্জিভাই চাইতেন ছেলে মন দিয়ে পড়াশোনা করে সরকারি চাকরি পেয়ে সংসারের হাল ধরুক। কারণ তাঁর ধারণা ছিল ক্রিকেটের মতো ‘বড়লোকের খেলায়’ ভাল সুযোগের জন্য বড় যোগাযোগ থাকার প্রয়োজন। যা তাঁদের ছিল না।

বাধ্য হয়ে বাড়িতে মিথ্যা বলে ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন চেতন। তাঁর মামা ছিলেন ব্যবসায়ী। ব্যবসায় সাহায্য করলে চেতনের পড়াশোনা এবং খেলায় সাহায্য করবেন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি।

তখনও কোনও ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে ভর্তি হননি চেতন। স্কুল ক্রিকেট খেলতেন। জেলাস্তরের স্কুল ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় এক ক্রিকেট অ্যাকাডেমির কোচের নজরে পড়ে যান তিনি।  সেই প্রথম কোনও অ্যাকাডেমিতে ভর্তি হয়ে প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন। খুব তাড়াতাড়ি সৌরাষ্ট্রের হয়ে অনূর্ধ্ব ১৬ দলে সুযোগও পেয়ে যান।

পরে সৌরাষ্ট্রের অনূর্ধ্ব ১৯ দলে সুযোগ পান। উপযুক্ত জুতো ছিল না তাঁর কাছে। অন্যের জুতো ধার করে মাঠে নামতেন চেতন। এক বার অনুশীলনের সময় ঘরোয়া ক্রিকেটের তারকা শেলডন জ্যাকসনের সঙ্গে পরিচয় হয় তাঁর। তাঁর কাছেই শর্তে জিতে প্রথম স্পাইক জুতো পুরস্কার পান চেতন। শর্ত ছিল শেলডনকে নেটে আউট করতে হবে। শেলডনকে সে দিন বোল্ড করেছিলেন চেতন।

ক্রিকেটের ভক্ত চেতনের সামনের রাস্তাটা একটু একটু করে মসৃণ হচ্ছিল। তত দিনে বাবাও তাঁকে খেলতে উৎসাহ দিতে শুরু করেছিলেন। টিভিতে ক্রিকেট খেলা দিলেই বন্ধুর বাড়িতে ছুটে যেতেন চেতন। আইপিএলের সৌজন্যে দরিদ্র পরিবারের সেই চেতনই হলেন রাতারাতি কোটিপতি।

তবে কোটিপতি হওয়ার আনন্দ এখনও পরিবারের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারেননি চেতন। তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে ঘটে গিয়েছে মর্মান্তিক ঘটনা।

সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফি খেলতে তখন ব্যস্ত ছিলেন চেতন। তার মধ্যেই তাঁর দাদা আত্মহত্যা করেন। পরিবারের লোকেরা এ বিষয়ে চেতনকে কিছুই জানাননি। ট্রফি শেষে বাড়ি ফিরে সবটা জানতে পারেন তিনি। কেন তাঁর দাদা এ রকম একটা কাজ করলেন তা আজও অজানা তাঁর।

যন্ত্রণা বুকে চেপেই আইপিএলে মাঠে নামবেন চেতন। গত মরসুমে নেট বোলার হিসাবে বেঙ্গালুরুর সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে গিয়েছিলেন চেতন। রাজস্থানের দলে আসার পর এ বার বড় মাপের সমস্ত ক্রিকেটারের সঙ্গে কাঁধ মিলিয়ে খেলবেন তিনি।

কোটিপতি হয়ে প্রথম কোন কাজটা করতে চান? বোনের পড়াশোনা, সংসারের খরচ সব নিজের কাঁধে তুলে নিতে চেতন। তবে তাঁর প্রথম লক্ষ্য বাবার জন্য একটি বাড়ি কেনা। ছোট থেকেই তাঁর স্বপ্ন ছিল রাজকোটে থাকবেন। টাকা হাতে এলে প্রথমে তাই স্বপ্নের বাড়ি কিনবেন রাজকোটে।

২০ জানুয়ারি দলে নেওয়া ক্রিকেটারের তালিকা প্রকাশ করে রাজস্থান। সঞ্জু স্যামসন, বেন স্টোকস, ডেভিড মিলারের মতো ক্রিকেটার রয়েছে রাজস্থানের। সঞ্জু স্যামসন এ বারের আইপিএলে রাজস্থানের অধিনায়ক।

চেতন ছাড়াও ক্রিস মরিস, শিবম দুবে, আকাশ সিংহ-সহ দলে নতুন ৪ ক্রিকেটার সংযোজিত হয়েছেন রাজস্থান রয়্যালস-এ।