Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২০ অক্টোবর ২০২১ ই-পেপার

ড্রেসিংরুম আর আগের মতো থাকল না, কাঁদতে কাঁদতে বললেন ক্লার্ক

নিজস্ব প্রতিবেদন
৩০ নভেম্বর ২০১৪ ০১:৪৪
হিউজের শহরে প্রিয় ‘হিউজি’কে স্মরণ।

হিউজের শহরে প্রিয় ‘হিউজি’কে স্মরণ।

ওয়ান ডে খেলতেন যে জার্সিটা পরে, ৬৪ নম্বরের সেই জার্সি চিরকাল তাঁরই হয়ে থাকল। ফিলিপ হিউজের সঙ্গে তাঁর ওই জার্সিকেও চিরবিদায় জানাতে চলেছে অস্ট্রেলিয়া। হিউজের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক এ দিন এক সাংবাদিক সম্মেলনে ঘোষণা করলেন। ৩ ডিসেম্বর হিউজের শহর ম্যাক্সভিলে তাঁর ‘ফেয়ারওয়েল’। তার আগে তাঁর জাতীয় সতীর্থদের হয়ে ‘হিউজি’র প্রতি অশ্রুসজল এক বিদায় সম্ভাষণ পড়ে শোনালেন ক্লার্ক। কেরিয়ারে অনেক বড় পেসারের সঙ্গে যুদ্ধ করেছেন। জিতেওছেন। কিন্তু আড়াই মিনিটের বিবৃতি পড়তে পড়তে আবেগের সঙ্গে লড়াইটা হেরে গেলেন মাইকেল ক্লার্ক।

“টিম হিসেবে এই মুহূর্তে আমরা কী অনুভূতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, বলে বোঝানোর শব্দ নেই। হিউজের মা, বাবা, ভাই, বোনকে বলি, তোমাদের গভীর যন্ত্রণার শরিক আমরাও,” বলে ক্লার্ক আরও যোগ করেন, “নিজের খামারে সময় কাটাতে খুব ভালবাসত হিউজি। আর তার বাইরে ও সবচেয়ে আনন্দ পেত দেশের হয়ে ক্রিকেট খেলে, জাতীয় সতীর্থদের সঙ্গে থেকে। হিউজি মাঝে মাঝেই বলত, দেশের হয়ে ক্রিকেট না খেলে আর কোথায়ই বা থাকব! ওই কথাটা শুনলে একটা নতুন প্রেরণা পেতাম।”

মানুষ হিসেবেও যে ফিল হিউজ কতটা ভালবাসা পেতেন সতীর্থদের থেকে, তার প্রমাণ ক্লার্কের বয়ান। “ওর দুষ্টু হাসি, ওর চোখের ঝিলিক, ভীষণ মিস করব। হিউজি ছিল ব্যাগি গ্রিনের মূর্তমান প্রতীক, সবুজ টুপিটার মূল্যের প্রতীক। বিশ্ব তার অন্যতম সেরা এক ব্যক্তিত্বকে হারিয়েছে, যে ক্ষতি আমাদেরও দরিদ্র করে দিয়েছে। হিউজির পরিবারের কাছে আমাদের শপথ, ওর স্মৃতিকে সম্মান জানানোর জন্য যথাসাধ্য করব। কাল রাতে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকে জিজ্ঞেস করি, হিউজির ৬৪ নম্বরের ওয়ান ডে জার্সি তুলে রাখা যায় কি না। ওদের সম্মতি আমাদের কাছে খুব মূল্যবান।”

Advertisement

ক্লার্ক আরও বলেন, “প্রতি দিন নিজেকে উন্নত করার ওর উত্তরাধিকার সারা জীবন আমাদের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। গত কয়েক দিনে অস্ট্রেলিয়া এবং বাকি বিশ্ব হিউজির স্মৃতির প্রতি যে শ্রদ্ধা জানিয়েছে, তার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।” এর পর বেশ কিছুক্ষণের নীরবতা, আর তার পর, “আমাদের ড্রেসিংরুমটা আর আগের মতো থাকল না। আমরা ওকে ভালবাসতাম। চিরকাল ভালবাসব। শান্তিতে বিশ্রাম নাও, ব্রাজি।”


সাংবাদিক বৈঠকে বন্ধুর কথা বলতে গিয়ে ভেঙে পড়লেন মাইকেল ক্লার্ক।



শোকার্ত ক্লার্কের মতো অবস্থা অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটমহলেরও। প্রাক্তন অধিনায়ক রিকি পন্টিং যেমন তাঁর কলামে লিখেছেন, “হিউজ পরিবার এবং ক্রিকেটবিশ্বের জন্য এই সপ্তাহটা এতটাই বিয়োগান্ত যে, বৃহস্পতিবার এদের কাছে টেস্ট খেলতে নামার আশা করাটাই অভাবনীয়।”

সামনের বুধবার দুপুর দুটোয় ম্যাক্সভিল হাইস্কুলের স্পোর্টস হলে হিউজের শেষকৃত্য। যা সরাসরি সম্প্রসারিত হবে রেডিও এবং টিভিতে। ম্যাক্সভিল শহরের সবচেয়ে কাছের বিমানবন্দর ৪৫ মিনিট দূরের কফ্স হার্বার। সিডনি থেকে যেখানকার ফ্লাইটের সংখ্যা সে দিনের জন্য অনেক বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অ্যাডিলেড ওভাল ও সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ড, দুই মাঠের স্কোরবোর্ডেই হিউজের শেষ ‘ইনিংস’ দেখানো হবে।

ভারতের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্ট? ক্লার্কদের বোধহয় এখন সেটা নিয়ে ভাবার সময় বা অবস্থা কোনওটাই নেই। রবিবার অস্ট্রেলিয়া টিমের সবার ব্রিসবেনে জড়ো হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আপাতত তাঁরা সবাই নিজের নিজের শহরে। নিজেদের পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। নিজেদের মতো করে হিউজের ট্র্যাজেডির সঙ্গে যুদ্ধ করছেন।

ক্রিকেট তাঁদের জীবনকে যে ভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে, সেই ধাক্কা সামলে আবার ক্রিকেটে ফেরা যে বড্ড কঠিন।



ছবি: এএফপি

আরও পড়ুন

Advertisement