Advertisement
১৫ জুন ২০২৪
‘আমার টিমকে চাপে ফেলতে চাইছে সুভাষ-সুব্রত’

বাগান কোচের কাছে রবিবার নব্বই মিনিটই টাইব্রেকার

আর মোটে তিন দিন দূর! প্রত্যাশার পারদ উঠছে চড়চড় করে। রবিবার এখানকার কান্তিরাভা স্টেডিয়ামে ড্র করলেই সনিদের হাতে উঠবে আই লিগ ট্রফি। আর রবিবারের সেই মহাম্যাচের রিমোট যাঁর হাতে থাকছে সেই মোহনবাগান কোচ সঞ্জয় সেন যুদ্ধের তিন দিন আগেই বিস্ফোরক সাক্ষাৎকার দিলেন আনন্দবাজারকে।আর মোটে তিন দিন দূর! প্রত্যাশার পারদ উঠছে চড়চড় করে। রবিবার এখানকার কান্তিরাভা স্টেডিয়ামে ড্র করলেই সনিদের হাতে উঠবে আই লিগ ট্রফি। আর রবিবারের সেই মহাম্যাচের রিমোট যাঁর হাতে থাকছে সেই মোহনবাগান কোচ সঞ্জয় সেন যুদ্ধের তিন দিন আগেই বিস্ফোরক সাক্ষাৎকার দিলেন আনন্দবাজারকে।

বৃহস্পতিবার বাগান কোচের ছবি তুলেছেন শঙ্কর নাগ দাস।

বৃহস্পতিবার বাগান কোচের ছবি তুলেছেন শঙ্কর নাগ দাস।

রতন চক্রবর্তী
বেঙ্গালুরু শেষ আপডেট: ২৯ মে ২০১৫ ০৩:২৪
Share: Save:

প্রশ্ন: ছয় ম্যাচ বাকি থাকতে আনন্দবাজারেই বলেছিলেন আই লিগ ট্রফির দিকে জিরো পার্সেন্টও এগোননি। মাইনাসে নাকি আছেন। ফাইনাল খেলতে নামার বাহাত্তর ঘণ্টা আগে কী বলবেন?

সঞ্জয়: বলব ফিফটি-ফিফটি চান্স। আসলে রবিবারের নব্বই মিনিট-ই তো আমাদের কাছে টাইব্রেকার মারার মতো। আর টাইব্রেকারে সব শটেই তো গোলের চান্স ফিফটি-ফিফটি। বেঙ্গালুরু ম্যাচটাও তাই। সে দিন সব কিছুই ঘটতে পারে।

প্র: যে টিমকে ঘরের মাঠে ৪-১ হারিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে নামার আগে এখন যেন আপনি একটু ভীত!
সঞ্জয়: ভীত নই। বলুন, ওদের সমীহ করছি। এটা ফাইনাল। দু’দলের কাছেই ডু অর ডাই ম্যাচ। দু’দলই ইতিহাসের সামনে। বাঘ আর মানুষ মুখোমুখি হলে দু’জনই দু’জনকে ভয় পায়। এটাও সে রকম।

প্র: এই ম্যাচে কে বাঘ? বাগান, না বেঙ্গালুরু?
সঞ্জয়: সেটা বুঝে নিন। তবে আমাদেরও ভয় পাচ্ছে ওরা।

প্র: এ মরসুমেই আপনার পূর্বসুরি বাগান কোচ সুভাষ ভৌমিক বলছেন, আই লিগ আপনি না পেলে উনি অবাক হবেন। সুব্রত ভট্টাচার্যেরও তাই মত।

সঞ্জয়: ওদের কথা ছাড়ুন। আমার কাছে কোনও গুরুত্ব নেই। বাইরে থেকে অনেক কথা বলা যায়। আমিও বলতে পারি। দু’জনেই তো আই লিগ পেয়েছে। জেতার আগে একবারও কি ওরা বলেছিল, চ্যাম্পিয়ন হবেই! এ সব আমার টিমকে চাপে ফেলার জন্য বলা হচ্ছে। সনিদের আত্মতুষ্টিতে ডোবানোর জন্য বলা হচ্ছে। বাংলায় এ সব হয়। অত কথা বলছে। কেউ একবার টিমটাকে বেঙ্গালুরু যাওয়ার আগে শুভেচ্ছা জানিয়েছে? আরে, ট্রফি এলে তো বাংলাতেই আসবে। কত বছর আই লিগ ট্রফি নেই বাংলায়। অথচ আমাকে আর্মান্দো কোলাসো, স্যাভিও মেদেইরা, পাচেকোরা কত বার ফোন করেছে। কলিন টোল মেসেজ করেছে।

প্র: চ্যাম্পিয়ন হলে চতুর্থ বঙ্গসন্তান হিসেবে আই লিগ জয়ের ‘হল অব ফেম’-এ ঢুকে পড়বেন!

সঞ্জয়: আগে তো হই। এখানে রানার্সের কোনও দাম নেই। রবিবারের ম্যাচটা না জিততে পারলে আমাদের কেউ মনে রাখবে না। আর বঙ্গসন্তান? ও সব নিয়ে ভাবছিই না। একটা লক্ষ্য নিয়ে কোচিং করতে এসেছিলাম। সেটা করার চেষ্টা করছি। সৎ ভাবে করার চেষ্টা করছি। তবে হ্যাঁ, যদি আই লিগ পাই তা হলে মনে করব তেনজিংয়ের মতো এভারেস্টে উঠেছি। প্রথম বার বড় দলের দায়িত্ব নিয়েছি তো? সে জন্যই উপমাটা টানলাম। চুয়াল্লিশ বছর পর মহমেডানকে আইএফএ শিল্ড দিয়েছিলাম। এ বার তেরো বছর পর বাগানকে আই লিগ দিতে পারলে একটা বৃত্ত সম্পূর্ণ হবে মনে করি।

প্র: ‘এভারেস্ট ওঠা’ ছাড়া আর কোনও স্বপ্ন পূরণ হবে?

সঞ্জয়: বহু বছর বাদে আবার প্রমাণ হবে—কলকাতার বড় দলে না খেললেও ভারতীয় ফুটবলে কোচ হিসেবে সাফল্য পাওয়া যায়। সেই চ্যালেঞ্জটা নিতেই সনিদের দায়িত্ব রাজি হয়েছিলাম।

প্র: পরের বারও আপনি-ই বাগান কোচ? ক্লাব তো টিম লিস্টও চেয়েছে আপনার কাছে? দিয়েছেন?

সঞ্জয়: আমি একটু জেদি টাইপের লোক। এই মুহূর্তে ৩১ মে ছাড়া আমার মাথায় আর কিচ্ছু নেই। জিততেই হবে যে কোনও মূল্যে। তার পর মোহনবাগান কোচ থাকব কি না ঠিক করব। প্লেয়ার্স লিস্ট এখনই দেব কেন? আগে মরসুমটা শেষ হোক।

প্র: আই লিগের সব বিদেশি কোচের টিমকেই হারিয়েছেন। অ্যাশলে ওয়েস্টউডের টিমকে দ্বিতীয় বারও হারাতে পারবেন?

সঞ্জয়: আমার মতে অ্যাশলেই এ দেশে আসা সেরা বিদেশি ক্লাব কোচ। ওর কাছে অনেক কিছু শেখার আছে। এ বার জেতাটা সহজ হবে না। কঠিন ম্যাচ। লোকে সুনীল-রুনি-রবিন করছে, কিন্তু আমি বলব ওদের লিংডোর কথা। দারুণ খেলছে। সেট পিসে বেঙ্গালুরু ষাট শতাংশ গোল পেয়েছে। সেটা আটকাতেই হবে। আবার মোহনবাগান সাপোর্টাররা সনি-কাতসুমি করছেন। আমি বলছি আমার টিমের ব্যান্ড-মাস্টার কিন্তু বোয়া। পুরো টিমকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। তবে রবিবার আমার সব ফুটবলারই জান দিয়ে দেবে। জিতবেই।

প্র: কোচিং জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলতে চলেছেন। আপনাকে দেখে কিন্তু মনে হচ্ছে তীব্র চাপে আছেন!

সঞ্জয়: তা তো আছিই। আরে ভাবতে পারবেন না কী অবিশ্বাস্য প্রত্যাশার চাপ! রাস্তাঘাটে-অফিসে যেখানেই যাচ্ছি একটাই কথা— আই লিগ জিতব তো? কেউ কেউ তো কোচিংও শেখাচ্ছে— দাদা, আনোয়ারকে স্টপারে খেলাবেন না। বলবন্ত পারছে না। জেজেকে খেলান। কাতসুমিকে ভিতরে খেলালে ভাল খেলবে। এ সব শোনার ভয়ে বাজারে পর্যন্ত যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি। অফিসের নীচে চা খেতে যেতে পারছি না। তবে কাঁপছি না। কোচ চাপে পড়ে গিয়েছে দেখলে পুরো টিমই তো চাপে পড়ে যাবে। সেটা আর কোন কোচ চায় বলুন?

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:
Advertisement

Share this article

CLOSE