Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৫ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

খেলা

যুক্তরাষ্ট্র ওপেনে চমক জাগানো সুমিত নাগাল সম্পর্কে এগুলো জানতেন?

নিজস্ব প্রতিবেদন
কলকাতা ২৭ অগস্ট ২০১৯ ১৫:৫৭
আড়াই ঘণ্টার লড়াই। আর তাতেই নিজের জাত চেনালেন সুমিত নাগাল। যুক্তরাষ্ট্র ওপেনের প্রথম রাউন্ডে খেলতে নেমে রজার ফেডেরারের থেকে ছিনিয়ে নিলেন একটি সেট। ম্যাচ হারলেও আদায় করে নিলেন টেনিস-দেবতার প্রশংসা। লিয়েন্ডার পেজ বা মহেশ ভূপতির যোগ্য উত্তরসূরি কি পেয়ে গেল ভারতীয় টেনিস? কে এই সুমিত? জানেন তাঁর উত্থানের কাহিনি?

হরিয়ানার ঝজ্জর জেলার একটি অখ্যাত গ্রামে ১৬ অগস্ট ১৯৯৭-এ জন্ম সুমিত নাগালের। তবে ছোটবেলা কেটেছে পশ্চিম দিল্লিতে। টেনিস নয়, ছোটবেলায় ক্রিকেটার হওয়ার নেশা চেপে বসেছিল। আট বছরের সুমিত তখন দিনে ৮-১০ ঘণ্টা ক্রিকেট খেলছেন। বাবা সুরেশ নাগালই তাঁকে প্রথম টেনিস কোর্টে নিয়ে যান। সেই থেকেই টেনিস-প্রেম শুরু।
Advertisement
১০ বছর বয়সে মহেশ ভূপতির নজরে পড়েন সুমিত। সে সময় নয়াদিল্লিতে নিজের টেনিস অ্যাকাডেমির জন্য ছোটদের বাছাই করছিলেন ভূপতি। সুমিত জানিয়েছেন, বাচ্চাদের সঙ্গে টেনিস বল পেটানোর মাঝে সাহস করে ভূপতিকে বলেছিলেন, ‘‘মিস্টার ভূপতি, আমার খেলাটা একটু দেখবেন?’’ সেটাই নাকি তাঁর টেনিস জীবনের টার্নিং পয়েন্ট হয়ে দাঁড়ায়।

এর পর দিল্লি ছেড়ে বেঙ্গালুরুতে চলে যান সুমিত। ভূপতির টেনিস প্রোগ্রামেই ব্যাকহ্যান্ড-ফোরহ্যান্ড আর গ্রাউন্ড স্ট্রোকের কারিকুরি শেখা। তবে আর্থিক কারণে সেই প্রোগ্রাম বন্ধ হওয়ার পর টরন্টোয় পাড়ি দেন সুমিত। ২০১৪ পর্যন্ত সেখানেই কানাডীয় কোচ ববি মহালের কাছে শিক্ষানবিশি চলে।
Advertisement
২০১৪-তে কানাডা ছেড়ে জার্মানিতে পাড়ি দেন সুমিত। সেখানে তাঁর দেখাশোনা শুরু করেন আর্জেন্টিনার প্রাক্তন পেশাদার টেনিস খেলোয়াড় মারিয়ানো দেলফিনো।

যুক্তরাষ্ট্র ওপেনে প্রথম রাউন্ডে হারলেও ২২ বছরের সুমিত এখনই একটা অনন্য রেকর্ড করে ফেলেছেন। এ দশকে পঞ্চম ভারতীয় হিসাবে কোনও গ্র্যান্ড স্ল্যাম টুর্নামেন্টের মূল পর্বে খেলার নজির গড়েছেন তিনি। সোমদেব দেববর্মণ, ইউকি ভামব্রি, সাকেত মিনেনি এবং প্রজ্ঞেশ গুণেশ্বরনের পর সুমিতই এই কীর্তি ছুঁয়েছেন।

এটিপি র‌্যাঙ্কিংয়ে এই মুহূর্তে ১৯০ নম্বর সুমিতের সাফল্য এসেছিল কম বয়সেই। ২০১৫-তে ভিয়েতনামের লাই হোয়াং নামকে নিয়ে উইম্বলডনের ডাবলস চ্যাম্পিয়ন হন তিনি। সে বার রাইলি ওপেলকা এবং আকিরা সান্তিলানকে হারান সুমিতরা।

পরের বছর ডেভিস কাপে অভিষেক হয় সুমিতের। সে বার নয়াদিল্লিতে ওয়ার্ল্ড গ্রুপ প্লে-অফে স্পেনের বিরুদ্ধে ভারতীয় দলে দেখা যায় তাঁকে।

সাফল্যের স্বাদ পেলেও সুমিতকে নিয়ে বিতর্কও কম হয়নি। ২০১৭-তে শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে ডেভিস কাপ দল থেকে বাদ দেওয়া হয় তাঁকে। অল ইন্ডিয়া টেনিস অ্যাসোসিয়েশন (এআইটিএ) জানিয়েছিল, মদ্যপান করা, কাউকে না জানিয়ে বান্ধবীকে ডেভিস কাপ ক্যাম্পে আনা বা বহু বার প্র্যাকটিস সেশন মিস করেছেন তিনি। তবে সে সব অভিযোগ মানতে নারাজ সুমিত।

২০১৭-তেই প্রথম বার কেরিয়ারের একমাত্র চ্যালেঞ্জার্স খেতাবটি জেতেন সুমিত। তবে বেঙ্গালুরুর সেই খেতাবের পর ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেননি। টানা ১৬টি টুর্নামেন্টের প্রথম রাউন্ডেই ছিটকে যান সুমিত। এর পর সার্বিয়ান কোচ মিলোস গালেচিচের কাছে ট্রেনিং শুরুর পর যেন পাল্টে যায় তাঁর খেলা।

চলতি বছরে অবশ্য সুমিতের ভাগ্যের চাকা ফের ঘুরতে থাকে। বছরের গোড়ায় চোট-আঘাত জর্জরিত ছিলেন। এটিপি র‌্যাঙ্কিং ছিল ৩৫০-এর বাইরে। তবে চ্যালেঞ্জার্স সার্কিটে নিয়মিত ভাল ফল করায় কেরিয়ারে প্রথম বারের জন্য র‌্যাঙ্কিংয়ে ২০০-র মধ্যে ঢুকে পড়েন তিনি।

গ্র্যান্ড স্ল্যামের অভিষেক ম্যাচটি হারলেও সুমিতের খেলা নিয়ে উচ্ছ্বসিত রজার ফেডেরার। ম্যাচ শেষে সুমিতের সম্পর্কে ২০টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ী ৩৮ বছরের সুইস তারকার মন্তব্য, ‘‘কোর্টের ভাল মুভমেন্ট করছিল সুমিত।  অনেকটা ক্লে-কোর্টের খেলোয়াড়ের মতো। আমার মনে হয়, দারুণ কেরিয়ার হবে সুমিতের।’’