Advertisement
১৩ জুলাই ২০২৪

ক্লান্তি শেষ করে দিল নোভাককে

হ্যাঁ, ঠিকই। ফরাসি ওপেনের ফাইনালে হারের পর নোভাকের জন্য সময়টা এখন খুব কঠিন। দ্বিতীয় সেটে ওর সার্ভিস নড়বড়ে হতে শুরু করার পরই বোঝা যাচ্ছিল বিশ্বের এক নম্বরের ঘাড়ে চেপে বসেছে ক্লান্তি। ওয়ারিঙ্কার মতো পোড় খাওয়া প্লেয়ার সেই সুযোগটাই নিল। নোভাকের জন্য সপ্তাহটা খুব ব্যস্ততার গিয়েছে। বুধবার ও রাফায়েল নাদালকে হারাল।

ফরাসি ওপেন জয়ীকে ‘গার্ড অফ অনার’ বল গার্লদের। ছবি: এএফপি।

ফরাসি ওপেন জয়ীকে ‘গার্ড অফ অনার’ বল গার্লদের। ছবি: এএফপি।

বরিস বেকার
শেষ আপডেট: ০৯ জুন ২০১৫ ০২:৫১
Share: Save:

হ্যাঁ, ঠিকই। ফরাসি ওপেনের ফাইনালে হারের পর নোভাকের জন্য সময়টা এখন খুব কঠিন। দ্বিতীয় সেটে ওর সার্ভিস নড়বড়ে হতে শুরু করার পরই বোঝা যাচ্ছিল বিশ্বের এক নম্বরের ঘাড়ে চেপে বসেছে ক্লান্তি। ওয়ারিঙ্কার মতো পোড় খাওয়া প্লেয়ার সেই সুযোগটাই নিল। নোভাকের জন্য সপ্তাহটা খুব ব্যস্ততার গিয়েছে। বুধবার ও রাফায়েল নাদালকে হারাল। তারপর শুক্রবার আর শনিবার মিলিয়ে পাঁচ সেটের লড়াইয়ে অ্যান্ডি মারের চ্যালেঞ্জও সামলাতে হয়েছে। এই ম্যাচগুলোয় নোভাককে নিজেকে নিংড়ে দিতে হয়েছে। তার পরও কিন্তু ফাইনালের প্রথম সেট দাপটেই জিতেছিল। তবে পরে আর সেটা ধরে রাখতে পারেনি।
দ্বিতীয় সেটে নোভাকের সার্ভ ওর নিয়ন্ত্রণে ছিল না। সেখান থেকেই ম্যাচটা প্রায় ওয়ারিঙ্কার দখলে চলে যায়। দুর্ধর্ষ কয়েকটা উইনারে দাপট দেখানো শুরু করে দেয় ওয়ারিঙ্কা। তৃতীয় সেটেও ও মোমেন্টামটা ধরে রাখতে পেরেছিল। অবশ্য চতুর্থ সেটে নোভাক এক সময় ৩-০ এগিয়ে যাওয়ার পর, মনে হচ্ছিল ম্যাচে ও ফিরছে। কিন্তু লিডটা ধরে রাখার মতো দম বা দু’পায়ে শক্তি কোনওটাই নোভাক খুঁজে পায়নি।

তার মানে কিন্তু এটা নয় যে ওয়ারিঙ্কা যোগ্যতম বিজয়ী নয়। বরং তার চেয়েও অনেক বেশি। ও এমন একজন প্লেয়ার যে সমর্থক বা মিডিয়ার কাছে বিরাট পাত্তা পায় না। তবে লকার রুমে ওয়ারিঙ্কাকে নিয়ে আলাদা একটা সম্মান রয়েছে। তার উপর প্রায় সব সময়ই তো ওয়ারিঙ্কাকে মহাতারকা সতীর্থের ছায়ায় থাকতে হয়েছে। তবে টেনিস সার্কিটের ‘আর এক সুইস’ প্লেয়ার কিন্তু কখনই প্রচারের আলোয় থাকতে পছন্দ করে না। খুব চুপচাপ আর লাজুকও। কখনও যাঁকে লম্বা-চওড়া বক্তব্য বা সাংবাদিক সম্মেলন করতে বিশেষ দেখা যায় না। বরং ওয়ারিঙ্কাকে সবচেয়ে বেশি খোলামেলা লাগে কোর্টে। রজার ফেডেরারের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালে লড়াইয়ের মতো। রবিবারও ও দুরন্ত খেলেছে। ফোরহ্যান্ড একেবারে টপ গিয়ারে ছিল। সঙ্গে দুরন্ত ওয়ান হ্যান্ডেড ব্যাকহ্যান্ড শটগুলো তো আছেই।

গত বছর অস্ট্রেলিয়ান ওপেন খেতাবটা ওয়ারিঙ্কাকে প্রচুর আত্মবিশ্বাস দিয়েছিল। ফাইনালে নাদালকে হারিয়ে ও বুঝিয়ে দিয়েছিল, বিশ্বসেরাদের সঙ্গে লড়াইয়ে ও কম যায় না। নোভাকের বিরুদ্ধে এই জয়টাও সমান গুরুত্বপূর্ণ ওয়ারিঙ্কার জন্য। কেননা এ বার ও র‌্যাঙ্কিংয়ে প্রথম চারে উঠে আসবে। তার উপর সামনেই ঘাসের কোর্টের মরসুম। তাই ওয়ারিঙ্কার উপর আমার নজর থাকবে। কারণ, ওর গতি আর শক্তি ঘাসের কোর্টে আরও ধারালো হয়ে উঠতে পারে।

নোভাকের প্রসঙ্গে ফিরে আসি। ফরাসি ওপেনে ওর পারফরম্যান্স দেখে আমি সত্যিই গর্বিত। কোচ হিসেবে ছাত্রের একশো শতাংশ উজাড় করে দেওয়ার চেয়ে বেশি চাওয়া আর কী হতে পারে! নোভাক সেটাই করেছে। তার পরও ওর হারের যন্ত্রণাটা রবিবার পুরস্কার দেওয়ার সময় দর্শকদের কাছেও স্পষ্ট ছিল। রানার্সের জন্য এত দীর্ঘ স্ট্যান্ডিং ওভেশনও আমি দেখিনি! এ বার বিশ্রাম। তার পর নোভাক ঘাসের কোর্টের মরসুমের জন্য প্রস্তুত হবে।

এটাই টেনিসের সৌন্দর্য, সামনের কয়েক সপ্তাহ বা মাসের জন্য সব সময় একটা পুরস্কার অপেক্ষা করে থাকে। এটাই আমাদের মতো টেনিস প্লেয়ারদের খিদে আর আশাটা সব সময় ধরে রাখে।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:
Advertisement

Share this article

CLOSE