Advertisement
২২ জুলাই ২০২৪

বিপর্যয় সামলাতে কোচকে বাইরে রেখে সভা সনিদের

বিপর্যয় সামলাতে ফুটবলারদের ড্রেসিংরুমে পাঠিয়ে তাঁদের নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ভুল-ভ্রান্তি দূর করার ট্যাকটিক্স ময়দানে প্রথম চালু করেছিলেন সুভাষ ভৌমিক। কোচ সুভাষ নিজে থাকতেন বাইরে। পরে ট্রেভর মর্গ্যানের জমানাতেও ইস্টবেঙ্গল ফুটবলারদের ড্যামেজ কন্ট্রোলের জন্য নিজেদের মধ্যে মিটিং করতে দেখা গিয়েছে। আই লিগে এক নম্বর থেকে প্রথম বার দু’নম্বরে নামার পর সেই ফর্মুলা চালু হয়ে গেল সঞ্জয় সেনের মোহনবাগানেও। খেতাবের সামনে দাঁড়িয়ে ক্রমশ টিমের পারফরম্যান্সের গ্রাফ নিম্নমুখী হতে দেখার আতঙ্কে।

বাগান ফুটবলাররা তাঁবুতে নিজেদের মধ্যে আলোচনায়। মাঠে স্ট্র্যাটেজি তৈরিতে ব্যস্ত সঞ্জয় সেন। ছবি: উৎপল সরকার।

বাগান ফুটবলাররা তাঁবুতে নিজেদের মধ্যে আলোচনায়। মাঠে স্ট্র্যাটেজি তৈরিতে ব্যস্ত সঞ্জয় সেন। ছবি: উৎপল সরকার।

নিজস্ব সংবাদদাতা
কলকাতা শেষ আপডেট: ১৯ মে ২০১৫ ০২:২৮
Share: Save:

বিপর্যয় সামলাতে ফুটবলারদের ড্রেসিংরুমে পাঠিয়ে তাঁদের নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ভুল-ভ্রান্তি দূর করার ট্যাকটিক্স ময়দানে প্রথম চালু করেছিলেন সুভাষ ভৌমিক। কোচ সুভাষ নিজে থাকতেন বাইরে।
পরে ট্রেভর মর্গ্যানের জমানাতেও ইস্টবেঙ্গল ফুটবলারদের ড্যামেজ কন্ট্রোলের জন্য নিজেদের মধ্যে মিটিং করতে দেখা গিয়েছে।
আই লিগে এক নম্বর থেকে প্রথম বার দু’নম্বরে নামার পর সেই ফর্মুলা চালু হয়ে গেল সঞ্জয় সেনের মোহনবাগানেও। খেতাবের সামনে দাঁড়িয়ে ক্রমশ টিমের পারফরম্যান্সের গ্রাফ নিম্নমুখী হতে দেখার আতঙ্কে।
সোমবার সকালে প্র্যাকটিসে নামার আগে প্রায় আধ ঘণ্টা কোচকে মাঠে দাঁড় করিয়ে রেখে ড্রেসিংরুমে নিজেদের ভুল-ত্রুটি নিয়ে কাটাছেঁড়া করলেন সনি-বোয়া-কিংশুকরা। আই লিগের শেষ তিনটে ম্যাচই বাগানের কাছে কার্যত নক আউট টুর্নামেন্টের মতো। জিততে না পারলেই চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াই থেকে কার্যত ছিটকে যেতে হবে। এই পরিস্থিতিতে কর্তাদের পরামর্শ মেনে নিজেদের মধ্যে আলোচনায় বসেছিলেন সবুজ-মেরুন ফুটবলাররা। ক্লাব সূত্রের খবর, সেখানে জেতার শপথ নিয়েছেন সনিরা। অনুশীলনের পর সেই সভা প্রসঙ্গে সনি নর্ডি বললেন, ‘‘মোহনবাগান যে সব ম্যাচই জিতবে এমন নয়। তবে চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইয়ে থাকার সময় টানা তিনটে ম্যাচে খারাপ রেজাল্ট একেবারেই কাম্য ছিল না। কোথাও গিয়ে আমাদের মনোসংযোগ নিশ্চয়ই নষ্ট হয়েছে। পাশাপাশি খেলায় কোথায়-কোথায় খামতি থেকে যাচ্ছে, সেটা নিয়েও নিজেরা আলোচনা করেছি।’’

বিকেলে আবার ক্লাব তাঁবুতে অন্য ছবি। নবনির্বাচিত বাগানের ফুটবল সচিব সত্যজিৎ চট্টোপাধ্যায় এ দিন কোচের সঙ্গে টিমের বিপর্যয় নিয়ে কথা বলেন। সুব্রত ভট্টাচার্যদের হারানোর পরের দিন ফুরফুরে মেজাজে থাকার কথা ছিল বাগান শাসকদের। কিন্তু আই লিগে টিমের পিছিয়ে পড়া নিয়ে রীতিমতো চিন্তায় তাঁরা। বলবন্ত-ডেনসন-বোয়াদের উৎসাহ দিতে মঙ্গলবারই প্র্যাকটিসেক সময় মাঠে আসার কথা সত্যজিতের। সঙ্গে অন্য কর্তাদেরও।

আই লিগ চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে এখনও তিনটে কঠিন হার্ডল পেরোতে হবে বাগানকে। রয়্যাল ওয়াহিংডো এবং স্পোর্টিং ক্লুবের বিরুদ্ধে প্রথম লেগের দু’টিতেই হেরেছিলেন সনিরা। দ্বিতীয় লেগেও সেই দুই টিমের বিরুদ্ধেই চ্যালেঞ্জ কাতসুমিদের।

শেষ ম্যাচ আবার অ্যাওয়ে। সুনীল ছেত্রীর বেঙ্গালুরু এফসি-র বিরুদ্ধে। লিগ তালিকায় শীর্ষে থাকা বেঙ্গালুরুর আবার দু’টি ম্যাচ বাকি। মোহনবাগান ছাড়াও লিগ তালিকায় শেষ দিকে থাকা ডেম্পোর বিরুদ্ধে খেলতে হবে অ্যাশলে ওয়েস্টউডের টিমকে। যে ডেম্পো এ বার আই লিগে ১৭ ম্যাচের মধ্যে মাত্র তিনটি জিতেছে। স্বভাবতই সঞ্জয় সেনের টিমের উপর চাপ কিছুটা হলেও বেশি। বেঙ্গালুরুর তুলনায় এক ম্যাচ কম খেলে তিন পয়েন্ট (১৭ ম্যাচে ৩২) পিছিয়ে রয়েছে তারা। পিয়ের বোয়া তো বলেই ফেললেন, ‘‘আমাদের সামনে এখন তিনটে ম্যাচই নক আউট। একটা ম্যাচে হারা মানেই খেতাব-দৌ়ড় থেকে ছিটকে যেতে হবে। ড্র করাও চলবে না।’’

ট্রেভর মর্গ্যানের সময় লাল-হলুদে এ রকম পরিস্থিতি দু’বার হয়েছে। শুরু থেকে দুরন্ত খেলে আই লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার প্রধান দাবিদার হয়েও শেষ ল্যাপে এসে মুখ থুবড়ে পড়েছিলেন মেহতাব হোসেন, পেন ওরজিরা। অল্পের জন্য রানার্স হওয়ার দীর্ঘশ্বাস ফেলতে হয়েছে তাঁদের। মোহনবাগানে করিম বেঞ্চারিফার জমানাতেও এ রকম ঘটেছে। সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি চান না সঞ্জয়। মোহন কোচ বলছিলেন, ‘‘সনি-বোয়ারা নিজেদের মধ্যে এ দিন আলোচনা করেছে। প্র্যাকটিসে নামার পর দেখলাম দারুণ তাগিদ পুরো টিমের মধ্যে। এটা যদি ম্যাচের দিনও ধরে রাখতে পারে তবে ভাল হবে।’’

মোহনবাগানকে হারাতে পারলে রয়্যাল ওয়াহিংডোর (১৮ ম্যাচে ৩০ পয়েন্ট) সামনে আবার রানার্স হওয়ার একটা সুযোগ এসে যেতে পারে। এই সুযোগটা কিছুতেই হারাতে চায় না সন্তোষ কাশ্যপের টিম। সনিদের বিরুদ্ধে পুরো টিমই পাচ্ছেন তিনি। প্রাক্তন বাগান কোচ সন্তোষ বললেন, ‘‘জিততে পারলে লিগ টেবলে একটা ভাল জায়গায় পৌঁছে যাব। চ্যাম্পিয়ন হওয়া সম্ভব নয়। তবে দ্বিতীয় স্থানের জন্যই আমরা এ বার লড়াই করব।’’

দ্বিতীয় হতে মরিয়া প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় থেকে প্রথম স্থানে পৌঁছনোর শপথ নেওয়া সনিরা কতটা সফল হন সেটাই আপাতত দেখার।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:
Advertisement

Share this article

CLOSE