রাস্তার ধারে ধাবা। তার ঠিক পিছন দিয়েই গিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার তেলের পাইপ। বীরভূমের দুবরাজপুরে সেই পাইপে মাটির নীচ দিয়ে আলাদা পাইপ জুড়ে ধাবার মালিকপক্ষ বহু টাকার তেল চুরি করেছে বলে অভিযোগ ‘ইন্ডিয়ান অয়েল’-এর। তেল সংস্থার অভিযোগ পেয়ে মঙ্গলবার ধাবা-মালিকের ছেলেকে ধরেছে পুলিশ।

বীরভূমের পুলিশ সুপার নীলকান্ত সুধীরকুমার বলেন, ‘‘ধাবা-মালিক আরাফত খান পলাতক। তাঁর ছেলে গোলাপ খানকে ধরা হয়েছে। জেরা চলছে।’’ জেলা পুলিশের এক কর্তার দাবি, অপরিশোধিত তেলের (ক্রুড অয়েল) পাইপে ঝালাই করে অন্য পাইপ জোড়া হয়েছিল। ঝালাইয়ের সময়ে আগুনের ফুলকিতে তেল জ্বলে উঠে দক্ষযজ্ঞ বাধাতে পারত। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তা না হওয়ায় পুলিশ মনে করছে, এ ধরনের কাজ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রয়েছে এমন কারও মাথা রয়েছে এই তেল চুরি-চক্রের পিছনে।

পানাগড়-দুবরাজপুর রাজ্য সড়ক ঘেঁষা এলাকা দিয়ে গিয়েছে তেলের পাইপ। বিস্তৃতি এ রাজ্যের হলদিয়া থেকে বিহারের বারাউনি পর্যন্ত।

পুলিশ সূত্রের খবর, জয়দেব মোড় এলাকায় ধাবার পিছনে যে জমির উপর দিয়ে পাইপ গিয়েছে, চাষ করার জন্য তা লিজে নিয়েছিলেন আরাফত খান। সেখানেই তেলের পাইপে ফুটো করে মাটির তলা দিয়ে ধাবা অবধি দু’ইঞ্চি ব্যাসের ৩০০ মিটার লম্বা পাইপ জোড়া হয়েছিল। অন্ধকার নামলেই একাধিক তেলের ট্যাঙ্কার এসে দাঁড়াত ধাবার সামনে। ধাবার প্রান্তে পাইপের মুখে লাগানো ভাল্ভ খুলে চলত তেল ভরা।

কিন্তু সাধারণ কারও পক্ষে তো অপরিশোধিত তেল ব্যবহার করা সম্ভব নয়? জেলা পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘‘নিশ্চয়ই এরা কোনও ভাবে ক্রুড অয়েলকে কাজে লাগানোর রাস্তা বার করে ফেলেছে। ওই তেল এ রাজ্যেই পরিশোধন করা হচ্ছে, এমনটা নয়। এতে ভিন্-রাজ্যের যোগ থাকতেই পারে।’’

তেল সংস্থার দাবি, পাইপে তেলের চাপ কমলে তা বোঝা সম্ভব। তবে খুব সামান্য পরিমাণে চাপ কমলে কারণ খুঁজতে সময় লাগে। গত কয়েক মাস ধরে তেলের লাইনে প্রত্যাশার তুলনায় তেলের চাপ কমায় তারা অনুমান করে—হয় তেল চুরি হচ্ছে, নয় ‘লিক’ হচ্ছে। কোন জায়গায় চাপ কম তা নির্দিষ্ট করার পরে খুঁজতে গিয়ে, ধাবার পিছনের জমিতে জলের উপরে তেল ভাসতে দেখেন কর্মীরা। সংস্থার ইঞ্জিনিয়ারেরা ঘটনাস্থলে তদন্তে এসে মাটি খুঁড়তেই সন্ধান মেলে ঝালাই করা পাইপের।