বিজেপির সঙ্কল্প যাত্রার দ্বিতীয় দিনেই সংঘর্ষ। বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূল পার্টি অফিসে হামলা ও এক কর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। তৃণমূলের দাবি, মারে অসুস্থ হয়ে পড়েন ৫০ বছরের মজিরুদ্দিন সরকার। তিনি পাতলাখাওয়া অঞ্চলের তৃণমূল সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তাঁকে কোচবিহার শহরের একটি নার্সিংহোমে নিয়ে গেলে মৃত বলে জানান চিকিৎসকেরা। বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কোচবিহার জেলা পুলিশের এক কর্তা বলেন, “অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” 

বুধবার বিজেপি কোচবিহারে সঙ্কল্প যাত্রা শুরু করে। কিন্তু সে দিন তেমন ভিড় হয়নি বলে দাবি দলেরই একাংশের। তবে বৃহস্পতিবার ছবিটা বদলে যায়। বেলা ১১টায় কোচবিহার-২ নম্বর ব্লকের চৌরঙ্গি এলাকা থেকে যখন পদযাত্রা শুরু হয়, তখন মিছিলে হাজার দুয়েক লোক। এই অঞ্চল বরাবরই বিজেপির শক্ত ঘাঁটি। তৃণমূলের অভিযোগ, এ দিন পদযাত্রা থেকে তাদের তিনটি পার্টি অফিসে হামলা চলে। পুন্ডিবাড়িতে দলের ব্লক অফিস, পাতলাখাওয়ার কাছে শুটিং ক্যাম্প ও মধুপুরের অফিসে। 

স্থানীয় সূত্রের খবর, পদযাত্রা শুটিং ক্যাম্প পৌঁছতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠে এলাকা। শুরু হয় বোমাবাজি। সেই সময়ে মজিরুদ্দিন সেখানে ছিলেন বলে দাবি তৃণমূলের। তখনই তাঁকে পেটানো হয় বলে দাবি। পরে তৃণমূল নেতা আব্দুল জলিল আহমেদ বলেন, “মজিরুদ্দিনের উপরে হামলা হয়েছে। তাই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে কোচবিহারে নার্সিংহোমে নিয়ে গিয়েও লাভ হয়নি।” তৃণমূলের অভিযোগ, যে মিছিল থেকে হামলা হয়েছে, তাতে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন বিজেপির সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক ও দলের কোচবিহার জেলার সভানেত্রী মালতী রাভা। উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, “বিজেপি জেলা জুড়ে সন্ত্রাস করছে। পদযাত্রার নামে হামলা করছে।’’ 

নার্সিংহোম সূত্রে জানা গিয়েছে, মজিরুদ্দিনের শরীরে বাইরে থেকে আঘাতের চিহ্ন ছিল না। মালতী রাভার পাল্টা দাবি, ‘‘বিজেপির পদযাত্রা আটকানোর চেষ্টা করেন তৃণমূল কর্মীরা। কিন্তু পদযাত্রায় হাজার হাজার মানুষ দেখে তাঁরা নিজেরাই পালিয়ে যান।’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, “বিজেপি কারও উপরে বা কোনও পার্টি অফিসে হামলা করেনি। অসুস্থ হয়ে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। সেটাও রাজনীতির সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে।” সাংসদও তৃণমূলের যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।