প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরবর্তী উপাচার্য বাছাইয়ের জন্য সার্চ কমিটি তৈরি করল রাজ্য সরকার। মে মাসে বর্তমান উপাচার্য অনুরাধা লোহিয়ার কার্যকাল শেষ হচ্ছে। বিকাশ ভবন সূত্রের খবর, সার্চ কমিটি গড়া হলেও অনুরাধাদেবীকেই উপাচার্য-পদে রেখে দিতে চায় সরকার।

২০১৪ সালের ২ মে উপাচার্যের দায়িত্ব নিয়েছিলেন অনুরাধাদেবী। সেই সময়ে সার্চ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী প্রেসিডেন্সির প্রথম স্থায়ী উপাচার্য হিসেবে টাটা ইনস্টিটিউট অব ফান্ডামেন্টাল রিসার্চের ‘ডিস্টিংগুইশ্ড প্রফেসর’, পদার্থবিদ সব্যসাচী ভট্টাচার্যকে বেছে নিয়েছিলেন তৎকালীন আচার্য-রাজ্যপাল এম কে নারায়ণন। কিন্তু সব্যসাচীবাবু ওই দায়িত্ব নিতে চাননি। সার্চ কমিটির সুপারিশের তালিকায় থাকা দ্বিতীয় নাম ছিল বোস ইনস্টিটিউটের জৈব রসায়নের শিক্ষিকা অনুরাধাদেবীর। সব্যসাচীবাবু দায়িত্ব নে-নেওয়ায় উপাচার্য হিসেবে অনুরাধাদেবীকেই বেছে নিয়েছিলেন আচার্য-রাজ্যপাল।

রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ে একই ব্যক্তির দ্বিতীয় বার উপাচার্যের দায়িত্ব পাওয়ার উদাহরণ হলেন সুরঞ্জন দাস। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি দ্বিতীয় বার উপাচার্য হয়েছিলেন। অনুরাধাদেবীর গত চার বছরের কার্যকালে বারবার বিভিন্ন বিষয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। একের পর এক শিক্ষকের প্রেসিডেন্সি ছেড়ে চলে যাওয়া তো আছেই। ক্যাম্পাস সংস্কারের নামে প্রেসিডেন্সির ঐতিহ্য নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। চলতি শিক্ষাবর্ষে প্রেসিডেন্সিতে প্রায় ৩০০ আসন কেন খালি থেকে গেল, সেই বিষয়ে অনুরাধাদেবীকে তলব করেছিলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী সংসদও প্রেসিডেন্সি-কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে এই সব বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছিল।

এত সব কিছুর পরেও সরকার অনুরাধাদেবীকে ফের উপাচার্য করতে চাইছে বলে বিকাশ ভবনের খবর।